Connect with us

কবিতা

মাহবুব আলম-এর গুচ্ছ কবিতা

Published

on

মাহবুব আলম-এর গুচ্ছ কবিতা

বাগানের পাখিগুলো

হাওর অঞ্চলের কৃষক-কৃষাণীর জন্য শোকগাথা

কুকুর আর কুকুর একপাল কুকুর শুয়ে আছে আঙিনার পাড়ে
যেনো সোনামুখী মাঠে শস্যক্ষেতে আগাছার সমাহার
হাওরের ঘোলাজলে মেঘের মতো উড়ে যাচ্ছে গরুর পাল
ঝাঁকে-ঝাঁকে রুপালি মাছ উড়ে যাচ্ছে মেঘের সরোবরে
গুচ্ছ-গুচ্ছ নক্ষত্র ঝুলে আছে চোর-ডাকাতের চৌহদ্দিতে
বাবুই-চড়–ই গান ধরে একতালে তুমুল বৃষ্টির উৎসবে;

মানুষ আর মানুষ একপাল বেঁহুশ অ-মানুষ আমাদের চরাচরে
অহর্নিশ বিচরণ করে, পলে-পলে গড়ে তুলছে কঠিন প্রাচীর
গাছের ডালগুলো নত হয়ে কুর্নিশ করছে শুয়োরের পদযুগল,
কচি সবুজ ধানের জমিনে ঈশ্বর-পুত্রের বারামখানা সঙ্গমশালা
হাওরের অবৈধ-অবাধ জলে ভেসে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম কষ্ট ত্যাগ ধৈর্য
সন্তানের নির্মল চোখ-মুখ মিলে যাচ্ছে হাওয়ার ভিতর কুয়াশায়-কুয়াশায়;

অবেলায় বিষজলে ভেসে গেছে ধান মাছ পাখি সন্তান
কৃষকের হাহাকার-চিৎকার মিশে যাচ্ছে কীটনাশকের ভিতর
আর এই দিকে আকাশের সবগুলো সিঁড়ি ভেঙে দেওয়ার জন্য
অবিরাম চলছে দ্রিমিকি-দ্রিমিকি মহড়া, যুদ্ধের তুমুল আয়োজন;
পারমাণবিক ঈশ্বরগুলো ডানা মেলে উড়ছে আকাশে-আকাশে সমুদ্রে-সমুদ্রে
আর এখানে আমাদের বাগানের পাখিগুলো ভয়ে সন্ত্রস্ত রাত্রি কাটায় নিদ্রাহীন।

 

 

বাতাসের প্রজাপতি

অসুস্থ হলে তুমি আসবে সীমানার এপারে-ওপারে
বাতাসের সাঁকো পেরিয়ে হৃদয়ের ছায়ায়,
মেঘ ও পাহাড়ের বারান্দায় ঝুলে থাকবে
অনাবাদি বৃষ্টির কামনার সবুজ জল;

তুমি আসবে গুহা-সভ্যতার ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো
আমার শিয়রে উত্তপ্ত লোহার বিষণ্ন গারদে,
নদী ও পাখির উড়ালের মতো বিভোর মগ্নতায়
কুঁড়ি ঝরবে গোলাপী ভোরের রঙিন কামরায়;

আমি কান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে-তারপর-
ঝাঁকে-ঝাঁকে উড়ে যাবে পাখির কঙ্কাল,
তোমার আঙুলের ডগা বেয়ে নেমে আসবে
নিষিদ্ধ বাগানের আপেলের সুবাসিত সৌরভ;

আমি অসুস্থ হলে তুমি পাখি হয়ে উড়বে
পাখির পালকের ভিতর ঘুমিয়ে থাকবে কড়াল দুপুরে-
বৃষ্টির ঢেউ পাহাড়ের নীল ছায়া পুকুরের দুঃখগাথা
অসুস্থ হই যদি কামনা করি ঢের; প্রিয় বাতাসের প্রজাপতি।

 

আঁধারের অলীক সহোদর

রঙিন অন্ধকারে উড়ে যাচ্ছে শাদা পালকের হরিণ,
রাজাদের উঠোনে গড়িয়ে-গড়িয়ে নামছে বৃত্তাকার চাঁদ,
আমাদের বিষণ্ন আঙিনায় আহত পাখিদের বিমর্ষ কোরাস,
মানুষের সারি-সারি মানচিত্রে কুমিরের নীল কুঁড়েঘর,
গলিত আঁধার ধীরে-ধীরে মিশে যাচ্ছে রাজার পালকের ভিতর;

কালো-কালো মেঘগুলো উড়ছে পাতিহাঁসের মতো
শাদা কফিনের ভিতর বিলাপ করছে হলুদ গাভীর বাছুর,
বাতাসে-বাতাসে ভেসে যাচ্ছে শাসকের ঝাঁঝালো মাংসের গন্ধ
চেতনার সরোবরে আশ্রয় নিচ্ছে নর্দমার কীট, আঁধারের অলীক সহোদর
চোখের তারায় সাঁতার কাটছে নীল অজগর অদৃশ্য ঈশ্বরের পুতুল;

রিকশার হুড খুলে চুম্বন করে রাণীর তুলতুলে মসৃণ গাল
আর এই দিকে আকাশের পাটাতনে চলছে তুমুল সার্কাস,
সবুজ জমিনে চাষ হচ্ছে বিষধর সাপ কর্কশ কাকের ছানা
ঈশ্বরের মাথাগুলো বিক্রি হচ্ছে সুলভ মূল্যে; বণিকেরা উল্লাসে মত্ত
পাথরের মূর্তিগুলো নির্বাক তাকিয়ে দেখছে পশুদের বিভৎস নৃত্য।

 

ভালো থেকো নীল আকাশ

বৃষ্টির মতো নেচে-নেচে অবশেষে সকল আলো-আনন্দযজ্ঞ বন্ধ করে
সে এসে দাঁড়ায় সাগর-তীরে হাতে নিয়ে অমরতার বিবর্ণ রিবন,
মেঘ-কন্যা জানে না এখানেই ঘাপটি মেরে
বসে আছে মৃত্যুদূত; মুহূর্তেই খসে পড়লো-
চাঁদের রেণু, আকাশের নীলিমা, পাহাড়ের রুপালি পাথর
আর রক্তিম বিকেলে হারিয়ে গেলো জন্মদাত্রীর কাক্সিক্ষত সুখ-চিৎকার…

পুকুরের শান্ত জলে বেড়ে উঠছে কুমিরের পাল
ভালো থেকো পুকুরের জল, ভালো থেকো নীল কমল
আকাশের নিবিড় নীলিমায় বসেছে ধূমকেতুর মেলা
পুকুরের গহীন জলে বালিকাটি নেমেছে শুধুই একেলা
চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে নরকের আগুন, পুড়েছে আকাশের ফাগুন
চারপাশে স্তব্ধ বাতাস, ভালো থেকো নীল আকাশ;

চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারলো না পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা হরিণ শাবক
অজান্তেই মুহূর্তে চোখ থেকে গড়িয়ে নামতে লাগলো রক্তের স্রোত,
কারা যেনো ছুটে এলো-কারা যেনো দৌড়ে পালালো-দৌড়ে;
কেউ-কেউ আবার বসে রইলো নির্জন-আঁধার-গুহার পাড়ে,
তারপর থেকে জন্মদাত্রী আকাশ হয়ে চেয়ে থাকে পাহাড়ে-পাহাড়ে
গুহাতে-গুহাতে, পুকুরে-পুকুরে, সাগর-জলের ঢেউয়ে, অনন্ত নীলিমায়-নীলিমায়…

সীমাহীন অসীম দৃষ্টির সীমানায়…

সময়ের হাতে হাত রেখে আমি হেঁটে যাই সামনের দিকে, পাথরের মতো কঠিন পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে আমি এগিয়ে যাই আমার গন্তব্যের দিকে। আমার হাত ধরে প্রিয় স্বজনের মতো হেঁটে যাচ্ছে কবিতা, কবিতার খাতা, অসমাপ্ত কবিতার মতো দীর্ঘ জীবনের বেদনার গান, শোবার ঘর, পড়ার টেবিল, রান্নাঘর, গোসলখানা, শুচাগার, ঘুরন্ত পাখার কর্কশ চিৎকার যেন আমার অতৃপ্ত ঘুমের দীর্ঘশ্বাস; আর আমার দিকে তাকিয়ে থাকে দেয়ালের খসে পড়া পলেস্তার। তবুও আমি এগিয়ে যাই সামনের দিকে বজ্রের মতো, তুমুল উল্লাসে ছুঁতে চাই আমার দীর্ঘ-দীর্ঘতর অধরা গন্তব্য; ঐ দূরে দেখা যায় জোনাকির মতো মিটিমিটি জ¦লছে জীবনের শেষ প্রহরের আশার প্রদীপ।

অতঃপর আমি হাত বাড়াই বাতাসের দিকে, শুধু শূন্যতার মৌ-মৌ গন্ধ, চারদিকে কানামাছি ভোঁ-ভোঁ; চিকচিকে রোদের শরীরে মেখে আছে, লেগে আছে আদিম মানব-মানবীর স্বাদ, আমারও মাঝে-মধ্যে হয় স্পর্শ করার বড় সাধ। আত্মায় বেজে ওঠে বিগত রমণীর অবিশ্বাসের গান। শিয়রে এখনো পড়ে আছে তার অবিন্যস্ত-ফাঁকা-অর্থহীন প্রেমালাপ। আমার শয়নকক্ষ জুড়ে বিস্তৃত প্রেতাত্মাসম তার দীর্ঘ ছায়া, ঘুরতে-ঘুরতে ছায়াহীন একটি রেখায় এসে এক বিন্দুতে স্থির হয়ে আমার স্বপ্নে বপন করে দুঃস্বপ্নের বীজ, রোপন করে জীবনের আঙ্গিনায় সারি-সারি বিষবৃক্ষ।

তবুও আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাই যেমন সূর্য ধীরে-ধীরে গড়িয়ে-গড়িয়ে প্রদক্ষিণ করে তামাম পৃথিবী। আমি জলের গভীর থেকে তুলে আনি রুপালি মাছ, বাতাস থেকে ধরে আনি জীবনের সকল প্রাণ, বৃষ্টির ফোঁটা থেকে তৈরী করি প্রাণের স্পন্দন; জল হয়ে হাত ঢুকাই মৃত্তিকার গভীর-গভীরতর আত্মায়-সেখানে জন্ম নেয় পাহাড়ী মেঘ, আমার অনাগত শিশুর মতো শস্যের সম্ভার, করতলে নৃত্য করে রঙিন প্রজাপতি, আঙুলের ডগায় রক্তজবা ফুল; আবার হাত বাড়িয়ে দেই সীমাহীন অসীম দৃষ্টির সীমানায়…

 

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 month ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা5 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য5 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড5 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য5 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও7 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা7 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত8 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত8 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার9 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
নির্বাহী সম্পাদক : এ বাকের
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম