Connect with us

গল্প

চাওয়া-পাওয়া | জুলফিয়া ইসলাম

Published

on

চাওয়া-পাওয়া | জুলফিয়া ইসলাম

কবিরের স্ত্রীর নাম মীনাকুমারী। কবিরের দাদা শ্বশুরের পছন্দের নাম। যখন এই নাম রাখা হয় তখন বউটা ছোট্ট শিশু। সেই মীনাকুমারী যেই না বাড়ন্ত হলো অমনি বিয়ের তোড়জোড় চলতে লাগল।

পাত্রপক্ষের আনাগোনার মধ্যে কবিরও মীনাকুমারীর পাণিপ্রার্থী ছিল। মীনাকুমারীর লাজুক চেহারা আর মিহি কণ্ঠস্বর কবিরের হৃদয়ে সুরের মূর্ছনা বইয়ে দিলো। আহা এমন মেয়েটা চিরজীবন পাশে থাকলে পুরুষ মানুষের আর দুঃখ কি? কিন্তু বিয়ের দুটো বছর পার না হতেই মীনাকুমারী খোলস বদলে ফেলল। কুমারীর খোলস পাল্টে ভ’তের খেলা দেখাতে লাগল। কোথায় গেল মীনা আর তার কুমারী মন। সব কিছুই হ-য-ব-র-ল।

পাঁচ বছরের মাথাতেই দেহে যত রোগের আড্ডা। ছোট্ট শরীরটা দিনে দিনে হাতির আকার ধারণ করলো। আজ বুকে ব্যাথা তো কাল পিঠে ব্যথা। ডায়াবেটিস, প্রেসার সব যেন হাত ধরাধরি করে আসতে লাগল। এরই মধ্যে কবিরের জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। মাঝে মধ্যে মনে হয় বিয়ে করে কী সে ভুলই করল?

কিন্তু এখন উপায়? এ তো পরীক্ষার খাতা নয় যে ভুল সংশোধনের উপায় আছে। এ যে জীবন খাতা।

আজ ক’দিন যাবৎ কবিরদের উল্টোদিকের ফ্যাটে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। পঁচিশ-তিরিশ বছরের একটা মেয়ে প্রায়ই বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়েটা দেখতে মন্দ নয়। ও বারান্দায় বের হলেই কবির জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে।

একদিন হঠাৎ মীনাকুমারী পেছন থেকে চেঁচিয়ে উঠল। কখন থেকে ডাকছি, ঘরে বাজার-সদাই সব শেষ হয়ে গেছে। চোখ বড় বড় করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে বলল, আমার কথা শোনার মন কি তোমার আছে?

কেন কী হয়েছে?

কি হতে বাকি আছে আর। ভাব আমি কিছু বুঝি না, না?

কবির মনে মনে বলল, আমি কি তোমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নাকি যে কারো দিকে তাকাতে পারব না? মুখে কিছু বলল না। শার্ট গায়ে দিয়ে এগিয়ে চলল। রাস্তায় নেমেই ও বাড়ির বারান্দার দিকে তাকাল। দূর থেকে বোঝা যাচ্ছে ঝকঝকে দাঁতের পাটি বের করে মেয়েটা কার সঙ্গে হাসছে। বিজ্ঞাপনের মেয়েদের মতো মনে হচ্ছে। হঠাৎ মনে হলো মীনাকুমারী আবার ফলো করছে না তো?

বাজার থেকে ফেরার পথে কি মনে করে কলপ কিনে নিল। ইদানীং মাথার চুলগুলো সব পেকে যাচ্ছে। আয়নার দিকে তাকালে নিজেকে বেশ বুড়ো মনে হয়। বাজার করে বাড়ি ফিরেই বাথরুমে ঢুকল। কাঁচাপাকা চুলগুলোয় সযত্নে কলপ মাখলো। বাহ্ নিজেকে তো বেশ যুবক-যুবক মনে হচ্ছে। হঠাৎ পাশের ফ্যাটের মেয়েটার কথা মনে পড়ল। এখন মেয়েটা ওকে দেখলে আর বুড়ো ভাববে না। দাঁড়িগুলো সযত্নে শেভ করল।

এদিকে মীনাকুমারী ক্রমাগত বাথরুমের দরজা ধাক্কাতে লাগল। কী ব্যাপার বাথরুমে ঢুকে কী ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?

কবির গোসল করে ঘাড়-মাথা মুছে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে লাগল।

মীনাকুমারী কবিরের দিকে তাকিয়ে থ’ বনে গেল।

এ কি! কবিরের বয়স হঠাৎ কম মনে হচ্ছে কেন? তবে কী সে চুলে কলপ করেছে?

মীনাকুমারী তাকিয়ে আছে দেখে কবির খুশি-খুশি মুখে বলল, কী ব্যাপার অমন করে তাকিয়ে আছো যে? আমার মাঝে কী কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছ?
হ্যাঁ পাচ্ছি।

আমাকে কী যুবক মনে হচ্ছে?

দাঁড়কাকের মতো মনে হচ্ছে। ময়ূরের পুচ্ছ লাগালে দাঁড়কাক ময়ূর হয় না, দাঁড়কাকই থাকে। বুড়ো বয়সের ভীমরতি দেখলে রাগে গা জ্বলে।

মীনাকুমারীর খোঁচা মারা কথায় কবির আহত হলো। আজ পর্যন্ত তার কোনো কিছুই মীনাকুমারীর কাছে প্রশংসাযোগ্য হলো না।

আজকাল কবির স্মার্টলি চলার চেষ্টা করে। কবির খুব ভয়ে-ভয়ে থাকে। হঠাৎ কোনদিন আবার বলে বসবে প্রেমে-ট্রেমে পড়নি তো? সেদিন কবিরকে জানালার কাছে বসে থাকতে দেখে মীনাকুমারী এগিয়ে এসে বলল, কী ব্যাপার বসে বসে কাকে দেখছ?

কবির একগাল হেসে বলল, অমন সুন্দরী পাশে থাকতে কাকে আর দেখব? আর এ বয়সে কাউকে দেখার মন আছে না কি?

সুন্দরী কাউকে দেখতে গেলে আবার মন লাগে নাকি? তাও আবার পুরুষ মানুষের বেলায়।

কবিরের মাথায় চট করে রক্ত উঠে গেল। সারাদিন অমন খিটির মিটির করতে থাকলে সুস্থ মানুষও বিগড়ে যাবে।

মীনাকুমারী আবারও গর্জে উঠল। এখনও জানালার পাশে বসে আছ?

ওর হুঙ্কারে মনে হচ্ছে ঘর দুলে উঠল।

অফিসে যাওয়ার সময় হলে ওর যত টালবাহানা। টেলিফোনের বিল দিতে হবে নইলে লাইন কাটা যাবে। বিল দিতে গিয়ে দেখল, সে কি লম্বা লাইন। তিল ধারণের জায়গা নেই। সাহেবরা সব অফিসে। সুন্দরী মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। পুরুষদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। মহিলারা বিল মিটিয়ে দিচ্ছে তাড়াতাড়ি। হঠাৎ লাইনে পাশের বাড়ির মেয়েটিকে দেখা গেল।

মেয়েটাকে দেখেই কবিরের মনে পাক খেল। কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছে। কিন্তু কি বলে সুযোগ নেবে ভেবে পাচ্ছিল না। হঠাৎ কথা বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো। অসংলগ্ন কিছু বলে ফেলে আবার কোনো বেকায়দায় না পড়ে।

ভিড়ের মধ্যে মেয়েটা কাছে চলে এলো। হাসি-হাসি মুখে বলল, আপনি না আমাদের পাশের ফ্যাটে থাকেন?

কবির একটু অবাক হলো বৈকি। কিন্তু মনে মনে মীনাকুমারীকে ধন্যবাদ জানাল বিল দিতে পাঠানোর জন্য। টেলিফোন বিল দেয়া হয়ে গেলে দ’জনে একসঙ্গে বাইরে এসে দাঁড়াল।

কবির ইতস্তত ভঙ্গিতে বলল, কিছু যদি মনে না করেন আপনার নাম?

আকাশি।

বাহ্ । আকাশ থেকে আকাশি।

সত্যিই তো আকাশ থেকে পরী নেমে এলো যেন। আকাশি বলল, আপনি ট্যাম্পুতে যাবেন?

কবির রাজি হয়ে গেল। অনেক কষ্টে ওরা টেম্পুতে উঠল। আকাশির শরীরটা কবিরের শরীরের সাথে লেগে আছে। কি সুগন্ধী মেখেছে কে জানে। মাতাল করা ঘ্রাণ। জীবনটা মনে হচ্ছে ছবির মতো। এই ভালো লাগার মাঝেই মীনাকুমারীর মুখটা ভেসে উঠল। নিজেকে পাপী মনে হলো। কিন্তু ভিড়ের গাদাগাদিতে সরে পড়ারও উপায় নেই। তার ওপর আবার নরম তুলতুলে লোভনীয় শরীরের হাতছানি। সময় দ্রুত গড়িয়ে যাচ্ছে। আজ মনে হচ্ছে রাস্তাও একেবারে ফাঁকা। জ্যাম থাকলে আকাশির সঙ্গে আরো কিছুটা সময় একসঙ্গে থাকা যেত। এক সময় টেম্পু স্ট্যান্ডে এসে টেম্পু থামল। নামতে গিয়ে আকাশির কনুইর সঙ্গে হাতটা ঠেকে গেল। ইস্ কী উষ্ণ স্পর্শ। হাতটা ধন্য হয়ে গেল।

আকাশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ও একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকুরি করে। নয়টা পাঁচটা অফিস। বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু মাসখানেকের মাথায় ডিভোর্স হয়ে গেছে।
এরপর থেকে ওরা দু’জনে মাঝেমধ্যে একসঙ্গে বাসায় ফিরতো।

মাসখানেকের মধ্যেই কবিরের চলনে বলনে পরিবর্তন এসে গেল। মাথার চুলে কলপ। পরনে রঙিন শার্ট। অফিসের অনেকেই এ নিয়ে নানান রঙ-রসিকতা করে। সেদিন তো এক কলিগ বলেই ফেলল, কবির সাহেবের মনে কী রঙ লেগেছে? কিন্তু কবির এসব কথাতে কান দেয় না। এ পৃথিবীতে বাঁচতে গেলে সব কথা কানকে শোনাতে নেই। এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অপর কান দিয়ে বের করে দিতে হয়। কাজের প্রতিও ইদানীং প্রচুর মনোযোগ। সেই সঙ্গে প্রাণশক্তিও প্রচুর বেড়েছে। ধীরে ধীরে কবিরের প্রাণকুমারী হয়ে উঠল আকাশি। অলস অথর্ব লোকটা হঠাৎ বেজায় কর্মঠ হয়ে গেল। এতে করে মীনাকুমারীরও সুবিধা হলো।

রোজ সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই কবির অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। আকাশির সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলতে বলতে অফিসে যায়। কবিরের জীবন এখন থ্রিলিং-এ ভরপুর।

এমন সুবোধ বালকের জীবন দেখে মীনাকুমারী তো একেবারে থ। উঠতে গান বসতে গান। কবিরের জীবনে যেন আনন্দের বন্যা বইছে।

আকাশিরও এতে কোনো আপত্তি ছিল না। কবিরের সঙ্গ আকাশিকেও দোলায়িত করতো। করবেই তো। একাকী জীবন কি চলতে পারে কোনো মানুষের?

সঙ্গীবিহীন জীবন কেই বা পছন্দ করে। ইদানীং কবিরকে পাপবোধে পেয়েছে। আকাশি যেন চুম্বকের মতো তাকে টানছে।

এদিকে আকাশির মা একদিন ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। সেদিন আকাশির বাবাও বাড়ি ছিলেন না। আকাশি কবিরকে বাসায় নিমন্ত্রণ করল। সমস্ত বাড়ি নিস্তব্ধ। আকাশি সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে। আয়েশি ভঙ্গি বড় লোভনীয়। বুক থেকে শাড়ির আঁচল সামান্য খসে পড়েছে। উত্তেজনায় কবিরের বুকের ভেতরটা টনটন করছে। কবিরকে বসতে বলে আকাশি উঠে দাঁড়াল। এই ফাঁকে কবির চোরা চোখে ওর গোপন অঙ্গগুলো দেখে নিলো।

আকাশি রান্নাঘরের দিকে উঠে গেল। একটু পরে ঘুরে এসে বলল, ভাত খেয়ে যাবেন। কবির ভদ্রতার খাতিরে উত্তর দিলো, না একটু চা হলেই চলবে। কিন্তু মনে মনে বলল, শুধু ভাত কেন আরো কিছু খেতে মন চাইছে। ইতোমধ্যে চা নাশতা এসে গেল।

কবির বলল, এত কষ্ট করে নাশতা বানানোর কি দরকার ছিল?

না, না কষ্ট কীসের?

কবির ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকল। খাবার মুখে তুলে দিতে-দিতে মনে মনে ভাবল মীনাকুমারী এমন যত্ন করে তো নাশতা খেতে দেয় না। ওর কাছ থেকে প্রেমের বদলে পায় ঘৃণা।

কিছুক্ষণ পর আকাশি ফ্রিজ খুলে রসগোল্লা নিয়ে এলো।

কবির বলল, একি প্রেমের রসগোল্লা?

আকাশি শব্দ করে হেসে উঠল। বাহ্ আপনি তো ভারি মজার লোক।

এরপর দু’জনে মিলে সোফায় বসে গল্প শুরু করল। গল্পের মাঝে মাঝে আকাশি খিল খিল শব্দে হেসে উঠছিল। আকাশির উত্তেজনাকর হাসি কবিরকে মোহিত করছিল।

আকাশি একথা সেকথা বলে যাচ্ছিল। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আবার শুয়ে পড়ল। পা দুটো একটু-একটু করে দোলাতে লাগল। সুন্দর পায়ের গোছা দুটো দেখা যাচ্ছে। কবিরের ইচ্ছা হলো পা দুটোকে জড়িয়ে ধরে। কিন্তু সে যেন পাথর হয়ে গেছে।

আকাশির আকাশের মতোই বিশাল ক্ষমতা। কবিরের বুকের ভেতরটা কেমন ধুকপুক করছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেছে। মাথার ভেতরে আগুন জ্বলছে।

কবির নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কেমন হা করে তাকিয়ে আছে। আকাশি ফিক করে হেসে দিলো।

অমন বুদ্ধুর মতো তাকিয়ে কি দেখছেন?

ধরা যখন পড়েই গেছে তখন সে নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করল না। বলল, সুন্দরকে দেখছি।

হাসতে হাসতেই আকাশি বলল, ঘরে স্ত্রী থাকতে বাইরের সুন্দরকে দেখতে নেই। তাছাড়া যথেষ্ট বয়েসও হয়েছে আপনার।

হঠাৎ কবিরের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। মনে মনে বলল, ঘরে স্ত্রী আছে জানো তো তবে আমাকে দাওয়াত করে এনেছ বয়স গোনার জন্যে। আর তুমিই বা এমন কী কচি খুকি যে সমস্ত যুবক শ্রেণী তোমার পেছনে ধেই-ধেই করে নাচবে? সাজগোজ করলে মীনাকুমারীকে তোমার চেয়ে খুব বেশি খারাপ লাগবে না। মৈনাক পর্বতের মতো দেখতে হলেও ফুরিয়ে তো আর যায়নি। শুধুমাত্র পুরোনো হয়ে গেছে। তুমি না হয় নতুন মাল।

আকাশি উঠে রান্নাঘরের দিকে গেল।

কবির মনে মনে বলল, মেয়েটার মনটা জয় করাই হবে এখন তার প্রধান কাজ। হঠাৎ রান্নাঘর থেকে চিৎকার শোনা গেল। মনে হচ্ছে আকাশির কিছু হয়েছে। কবির দৌড়ে ভেতরে গেল। আকাশির হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।

কবির ব্যস্ত হয়ে গেল।

কি করে হলো?

আপেল কাটতে গিয়ে।

কি দরকার ছিল। একটু আগেই তো রসগোল্লা খেলাম। হাতটা ধুয়ে ফেলুন। মলম লাগিয়ে দেই।

আকাশি আর কবির ধীরে ধীরে সোফায় এসে বসল। আকাশি তার হাতটা এগিয়ে দিলো। কবির আস্তে আস্তে মলম লাগিয়ে দিলো।

আকাশি তৃপ্তির শব্দ করে বলল, আহ্ কি শান্তি।

আপনাদের শান্তির জন্যই তো আমাদেরকে প্রয়োজন। হেলেন অফ ট্রয়ের জন্য যদি রাজা তার সিংহাসন ত্যাগ করতে পারে, তবে আমার এই অবদান তো সামান্য।

নিন এবার হাতটা ছাড়–ন তো।

ইচ্ছে হচ্ছে না যে। মনে হচ্ছে চিরকাল এভাবে ধরে রাখি।

তো হাত ধরার জন্য আপনার স্ত্রী কি যথেষ্ট নয়?

আরে রাখুন তো? ও হাতের মধু এখন শুকিয়ে গেছে। পাটাপুতাও ওর হাতের চেয়ে নরম এখন। ওই খিটখিটে মানুষের হাতটাও এখন খিটখিট করে। কবিরের কথা শুনে আকাশি চুক-চুক করে দুঃখ প্রকাশ করল।

কবির বলল, আমার দুঃখের সঙ্গী এখন আর কেউ নেই।

এদিকে কথা বলতে বলতে দু’জনই গা ঘেঁষে বসেছে।

হঠাৎ মীনাকুমারীর কথা মনে হওয়াতে মেজাজ বিগড়ে গেল। এমন সুন্দর ত্বক আর দেহের উত্তাপের সঙ্গে মৈনাক পর্বতের মতো বউয়ের তুলনা চলে? ধীরে ধীরে কবিরের একটা হাত আকাশির কাঁধ ছুঁয়ে গেল। আঙ্গুলগুলো পিঠের ওপর খেলা করছে। আহা কী সুন্দর মেয়েটা। ঘড়ির কাঁটাটাকে যদি কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দেয়া যেত? আকাশির পুরু ওষ্ঠজোড়া কবিরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ভেতরে-ভেতরে উভয়ে উভয়কে টানছে।

কবির আকাশির কানে ফিসফিস করে বলল, কি দারুণ মেয়েরে বাবা।

হঠাৎ শার্টের কলারে প্রচণ্ড টান অনুভব করল কবির। পেছনে তাকিয়ে দেখল বিশালদেহী মীনাকুমারী। তার একমাত্র স্ত্রী।

ও তলে তলে এতসব। মনে করেছ এ কয়দিনে আমি কিছুই বুঝিনি? এখন আমি লোক ডেকে পুরো পাড়া জড়ো করব। তোমাদের প্রেম-প্রেম খেলা ছুটিয়ে দেব। আমাকে তো চেননি। এত সোজা আমি নই।

তা তো অবশ্যই। এত সোজা হলে কি আর এমন কষ্টের ঘর করি আমি? প্রথম স্ত্রীর বর্তমানে প্রেম? জনগণ এখন ওর পক্ষই নেবে। ওরা এখন জনগণের সম্পত্তি। অথচ কবিরের মায়ের ওপর বউয়ের অত্যাচার। হামানদিস্তায় স্বামীকে অনবরত পিষে ফেললেও কেউ কিছু প্রতিবাদ করবে না। বাকি জীবন রাম ছাগল হয়েই কাটিয়ে দিতে হবে। সবাই উত্তরে গেলেও বউ যদি বলে দক্ষিণে যাও তবে সেদিকেই যেতে হবে। অতঃপর কি আর করা হাতির মতো স্ত্রীর হাত ধরে ঘরে ফেরা ছাড়া কবিরের আর উপায় রইল না।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও6 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম