Connect with us

উপন্যাস

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০২

Published

on

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০২

ডিসেম্বর, ২০১০। হিমঝরা রাত। দেশজুড়ে ভয়ানক শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শীতের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত, হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় উত্তরবঙ্গের মানুষ বড় অসহায়। নেতারা, যারা ভোটের আগে বাপ-মা বলে পা ছুঁয়ে দোয়া চায়, এখন তাদের টিকিটি খুঁজে পাওয়া দায়। জননেতা বলে কথা! জনসেবা করার মতো ফালতু সময় তাদের কোথায়!

অনডিউটি অলোকেশ রয়। সেকে ইন কমান্ড ডেল্টা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য চার্লির রুমে ঢুকলেন। মাইক ওয়ান টু টোয়েন্টিফাইভ যার যার পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছে। হঠাৎ মাইক ৮ যিনি দোতলায় ডিপারচার কাস্টমস লাউঞ্জে ব্যাগেজ সিকিউরিটি চেকিংএর কাজ করেন, তার তরফে এমারজেন্সি বার্তা ভেসে এলো।

মাইক ৮ টু চার্লি স্যার!

চার্লি ক্লিয়ার! স্পিক আউট প্লিজ। ওয়াকিটকি স্পিকিং মোডে রাখেন ডিসি অলোকেশ। ভলিউম হাই। টেবিলের উল্টোদিকে অপেক্ষমাণ ডেলটাকে ইশারায় চুপ থাকতে বলেন। জরুরি বাত, কোন রকম কানকথা নয়।

লাউড এন্ড ক্লিয়ার। প্লিজ বলুন।

ইয়েস স্যার। চান্সেস আর দেয়ার ফর স্মাগলিং! ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশান স্যার।

মিট মি রাইট নাউ। আরজেন্ট। ওকে ওভার!

মাইক ৮-এর সাথে কথা শেষ করে জরুরি নির্দেশনা দেন ডেলটাকে। অন ডিউটি সব্বাইকে সতর্ক করুন। ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করুন। মেক শিওর এভরিওয়ান ইজ ইন দ্য প্লেস।

চার্লির নির্দেশনা পেয়ে ডেলটা তৎপর হয়ে ওঠে। ওয়েটফুল কোন কেস ধরতে পারলে কেবল সম্মান নয়, ভাল রকম ইনাম জুটবে। সরকারি নিয়ম মোতাবেক বাজেয়াপ্তকৃত অর্থের টেন পারসেন্ট ইনসেন্টিভ পাওয়া যায়। বলে রাখা ভাল, মুদ্রাপাচারের ঘটনাগুলো সচরাচর এয়ারপোর্টের দোতলায় হেভি লাগেজ বা এন্ট্রিগেট দিয়ে হয়ে থাকে। হেভি লাগেজ গেটে আছে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং মেশিন। বহির্গামী যাত্রী এন্ট্রি নেবার সময় তাদের সব লাগেজ স্ক্যান করা হয়। তবে মেশিনে কেবল হালকা আইডিয়া পাওয়া যায়, ব্যাগেজের ভিতরে কী আছে নিশ্চিত করে বলা যায় না। পেশাদার পাচারচক্র ঠিক এই সুবিধেই নিয়ে থাকে। এমনভাবে মুদ্রা ঢেকেঢুকে, কার্বন পেপারে মুড়ে পিঠাপুলির টিনে লুকিয়ে আনে যে খুব সতর্ক না হলে শুধু স্ক্যান করে লুকানো অর্থ সনাক্ত করা রীতিমতো দুরূহ।

তখন মধ্যরাত। ডিসি অলোকেশ সাবঅর্ডিনেটদের প্রয়োজনীয় সব রকম নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। খানিক বাদে তিনি ড্রাইভারকে ডেকে আনলেন। এয়ারপোর্টের এপ্রোন এলাকা অর্থাৎ ব্যাগেজ কনভেয়ার বেল্টের পেছনে ও হ্যাংগার গেটটা একবার ঘুরে এলে হয়। আগমনী প্যাসেঞ্জাররা অনেক সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে টারম্যাক পেরিয়ে সরাসরি এয়ারক্রাফটে মুদ্রা পাচার করে।

ড্রাইভার ইসমাইল ঘুমে ঢুলছে। টানা আঠার ঘণ্টা ডিউটি। ঘুমের আর দোষ কী! চার্লির কল পেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠলো। লেটেস্ট মডেলের পাজেরো জিপে চাপলেন চার্লি অলোকেশ, সাথে ডেলটা। গাড়িতে ওয়ার্নিং লাইট লাগানো আছে। অ্যাম্বুলেন্সের মতো। নইলে রাতের বেলা টারম্যাকে যাওয়া নিরাপদ নয়। কারণ যেকোন সময় কন্ট্রোল টাওয়ারের সংকেত পেয়ে হয়তো গাড়ির উপরে অবতরণ করবে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট।

এ্যাপ্রোন এলাকা ঘুরে হ্যাংগার গেটে চলুন। বললেন অলোকেশ।

কোন ইনফরমেশন স্যার! কৌতূহলী হয়ে ওঠে গাড়িচালক ইসমাইল।

ইসমাইল বিশ্বস্ত। তাই শেয়ার করা চলে। বললেন, খবর আছে। গোপন খবর। আপনি বরং চোখকান খোলা রাখুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে অফিসের ফোনে নয়, বরং আমার অটোমেটেড সেলফোনে টেক্সট মেসেজ পাঠাবেন। পাঁচকান করবেন না কিন্তু।

জি স্যার! ঘাড় নাড়ে ড্রাইভার ইসমাইল।

রানওয়ে ঘুরে হ্যাংগার গেট হয়ে রুমে ফিরলেন অলোকেশ। নাহ, কেমন আপত্তিকর কিছু চোখে পড়ে নি। অফিসাররা সব যার যার প্লেসে আছে। মনে মনে খুশি হন চার্লি। পুরো এয়ারপোর্টের কাজটা আসলে টিমওয়ার্ক। একাকী এখানে কিছুই করা যায় না। অলটাইম ওয়াচফুল। নিড টু গো ইনটু এভরি ডিটেল। খুঁটিনাটি ব্যাপারেও হেলাফেলা করার উপায় নেই। মোটিভেশনের মাধ্যমে অফিসারদের চাঙা রাখতে হয়। কৃতিত্বে প্রশংসা করতে হয়। তবেই না কমিটমেন্ট আসে।

রুমে ফিরে এক কাপ কফির অর্ডার দেন অলোকেশ।

কফি প্লিজ।

সেপাই মন্তাজ কফির পানি চড়িয়ে তৈরি ছিল। সে জানে, সাহেবের কখন কী দরকার। এমন তীব্র শীতে কফি না হলে চলে! অলোক অবশ্য কফি খান সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। কফি না খেলে নাকি মাথা খোলে না। কোন কোন লেখক যেমন নারীসঙ্গ ছাড়া লিখতে পারেন না। আবার কারো চাই সিগারেট। পুরো প্যাকেট ধ্বংস না করা অব্দি টয়লেট সাফ হয় না। বিচিত্র পৃথিবী, বহু রকম মানুষ। রুচিরও অন্ত নেই কোন।

কফির কাপে ঠোঁট ছোঁয়াবেন, ঠিক তক্ষুণি ফোন বেজে ওঠে। কপালে মৃদু ভাঁজ অলোকেশের। বিরক্তি, নাকি টেনশান ঠিক বোঝা গেল না।

হ্যালো, ডিসি কাস্টমস অলোকেশ স্পিকিং। হু’জ দেয়ার অন দ্য লাইন? পরিশীলিত কণ্ঠস্বর, মার্জিত উচ্চারণ। লাইক অ্যান অফিসার।

অনামিকা! ওপার থেকে ছিটকে এলো শব্দ। সেই রিনরিনে কণ্ঠ! রহস্যময় বাতাবরণ।

ও আপনি! ইচ্ছে করেই মনের ভাব গোপন করেন অলোকেশ। আজ তিনি সত্যি মুডে নেই। এসব ফালতু মেয়েলি প্যাঁচাল বড্ড অসহ্য ঠেকে।

একটা খবর ছিল! শুনবেন? নারীকণ্ঠে তারল্য। যেন ডিসি সাহেবের সুবিধের জন্য তিনি সব করতে পারেন।

বলুন কী খবর! তবে যা বলার একটু তাড়াতাড়ি বলবেন। আই’ম রানিং আউট অফ টাইম। এবারে অবশ্য বিরক্তি চাপতে পারলেন না অলোকেশ। আফটার অল, মানুষ তো!

অ্যা প্রেশাস পিস অফ ইনফরমেশন। ইয়েস, আই মিন ইট! চোস্ত উচ্চারণে বললেন অনামিকা। যদিও অলোকেশ জানেন, ওই মহিলার নাম মোটেও অনামিকা নয়। জাস্ট হেঁয়ালি করছেন। মহিলা উচ্চশিক্ষিত, গুড পেডিগ্রি, অনেক বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। সর্বোপরি, তার ইংলিশ অ্যাকসেন্ট খোদ ব্রিটনদের হার মানায়। তাই উপেক্ষা করতে পারেন না।

শুনুন মিস, আমার সময়ের দাম আছে। যদি কিছু বলার থাকে চটপট বলে ফেলুন। ডোন্ট বিট অ্যাবাউট দ্য বুশ। একটু যেন রূঢ় শোনালো।

সে আজ যাবে। ইউ ক্যান বিলিভ মি। যাবেই।

কে সে! কোথায় যাবে? কেনই বা! ছুরির ফলার মতো প্রশ্ন ছুড়ে দেন অলোকেশ। কফির স্বাদ মরে যায়। তেতো ঠেকে। তিনি যারপরনাই বিরক্ত।

একসাথে এতগুলো জিজ্ঞাসা! অ্যা বান্স অফ কোয়েরিজ! কী করে উত্তর দিই বলুন তো! রিনরিনে হাসির ঝলক।

ওকে, তাহলে বলুন কে যাচ্ছে?

একটি মেয়ে। মধ্যবয়সী। ইন ডিসগাইজ। মিডলইস্ট। আটকাতে পারলে আপনারই লাভ। অনামিকা বলল।

আমার লাভ-লস নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে মিস। দয়া করে তার নাম-ঠিকানা বলুন। আমি ওয়াচ রাখবো।

উহু! ওটা আপনাদের কাজ। শুল্ক গোয়েন্দাকে লাগিয়ে দিন না। ওরা নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করবে। কিংবা ধরুন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। আমি শুধু জানি, সে যাচ্ছে। আজই। সাথে হিউজ কারেন্সি। কট করে লাইন কেটে গেল।

হ্যালো! হ্যালো! হ্যালো! কোন সাড়া নেই আর। লাইন ইজ নো মোর অ্যালাইভ। ডেড অ্যাজ ডোরনেইল।

খবর বটে! এই প্রথম অলোকেশের মনে হল, রহস্য-রমণীর সাথে আরেকটু কথা হলে ভাল হত। হিউজ কারেন্সি! ধরতে পারলে কাজের কাজ হত। সত্যি, মহিলা এমন মিস্ট্রিয়াস!

ততক্ষণে কফি জুড়িয়ে পানি হয়ে গেছে। অথচ বুকের ভিতর উত্তেজনা। অনামকিার জন্য নয়, সেই নাম-না-জানা নারী, যে কিনা ছদ্মবেশে ফরেন কারেন্সি নিয়ে আজকের কোন শেডুলড ফ্লাইটে বহির্গমন করছেন।

মন্তাজ! ওয়ান মোর কফি প্লিজ। হেলানচেয়ারে ঘাড় এলিয়ে দিলেন ডিসি অলোকেশ।

কফি এলো। প্রায় সাথে সাথে রুমে ঢোকেন ডিরেকটোরেট অফ জেনারেল ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স ডিজিএফআই’র এফও ফিরোজ।

আসুন, আসুন ফিরোজ। কফি চলবে?

নো স্যার। বিশেষ কাজে এসেছি। ইনফরমেশন ছিল। ইয়াং এনার্জেটিক অফিসার ফিরোজ বললেন। অলোকেশের সাথে তার সুসম্পর্ক আছে। আগেই বলেছি এয়ারপোর্ট জটিল জায়গা। সবার সাথে মানিয়ে গুছিয়ে সদ্ভাব রেখে কাজ করতে হয়।

রিয়েলি! হোয়াট নিউজ? স্কুপ, নাকি অলরেডি ফ্লাইং! খবরের গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করেন অলোকেশ।

স্যার গুরুতর! মুদ্রার চালান যাচ্ছে। এখন থেকে ভোর ছ’টার মধ্যে।

রিলাইয়েবল! কোন্ সোর্সে পেলেন?

পারসোনাল স্যার। তবে বিশ্বাস রাখতে পারেন। এবার তাহলে উঠি স্যার!

উঠবেন! লেডি, নাকি জেন্টেলম্যান?

দুটোর কোনটাই নয়। স্মাগলার কখনও জেন্টেল হয়? এক মেয়ে, বা মহিলাও বলতে পারেন। পঁয়ত্রিশ-চলি­শ বয়স। শি’জ অ্যা বিউটি। দ্যাটস অল।

ফিরোজ ফিরে যান তার রুমে। সাথে সাথে ওয়াকি সেটে প্রেটোকল অফিসারকে কল দেন অলোকেশ। উড়ে এলেও উড়োখবর নয়। সত্যতা থাকতে পারে। তাই চান্স নেয়া ঠিক হবে না।

চলবে…

 

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও6 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম