Connect with us

গল্প

তুই কেমন করে যাবি | শান্তনু চৌধুরী

Published

on

তুই কেমন করে যাবি | শান্তনু চৌধুরী

মাস্টার্স পরীক্ষার এর রেজাল্ট বেরিয়েছে। মেঘলা যুগ্মভাবে প্রথম। এর আগে ও বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য দরখাস্ত দিয়েছে। চাকরি হচ্ছে না বলে হতাশায় ছিল। এবার হতাশা কিছুটা কাটলো। চাই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও হতে পারে। ভূমিত্রও মনে মনে সেটা চান। বউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই পরিচয়ে কোথায় জানি একটা আত্মমর্যাদা লুকিয়ে আছে। এই খুশিতে ওরা ঘুরতে যায় ভারতের শিলচরে। মেঘলার পরনে অনেকদিন থেকে তুলে রাখা নতুন শাড়ি। বরাক নদীর তীরে এই শহর উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে শান্তিপূর্ণ জায়গা বলে পরিচিত। সেখানে গিয়ে দেখা হলো খাসপুরে কাছাড়ি বাড়ি, রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ সিংহদ্বার, সূর্যদ্বার এবং প্রাচীন রাজাদের মন্দির। ঘুরে ঘুরে দেখছে ইসকন মন্দির, গান্ধীবাগ পার্ক, ভুবনেশ্বর মন্দির ও মনিহরণ সুড়ঙ্গ। কিন্তু মেঘলাদের প্রধান উদ্দেশ্য, ভাষা শহীদদের স্মরণ করা। ওরা যখন গিয়েছিল তখন অনুষ্ঠানে আয়োজন চলছিল স্মরণের। অবিভক্ত বাংলায় শিলচর সিলেট জেলারই অংশ ছিল। কিন্তু সাতচল্লিশের বিভাজনের সময় চারটি মহকুমাকে আবার পূর্ববাংলায় অঙ্গীভূত করা হয়। এতে করে কাছাড় (শিলচর), করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি আসাম প্রদেশের সাথে মিলে যায়। খাঁটি বাঙালি হয়েও এপার বাংলা-ওপার বাংলা কোনো বাংলাতেই স্থান হলো না এই হতভাগ্য ঈশান বাংলার বাঙালিদের। একশত ভাগ বাংলাভাষী কাছাড় জেলায় মায়ের ভাষা বাংলাই ছিল প্রধান সরকারি ভাষা। ১৯৬১ সালে ভারতের আসাম প্রাদেশিক সরকার বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার বাঙালি অধ্যুষিত শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দির বাংলাভাষাভাষীদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে অন্যায়ভাবে বাদ দিয়ে শুধু অহমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা ঘোষণা দিলে বিােভে ফেটে পড়েন বাঙালিরা এবং পরে তা আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯ মে বাংলা ভাষার দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধের সময় আসাম রাইফেলসের একটি ব্যাটালিয়ন বাংলাভাষা আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্দ করে দেয়ার জন্য নিরীহ বাঙালিদের প্রতি প্রথমে লাঠিচার্জ এবং পরে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এতে ১১জন ভাষাসৈনিক ঘটনাস্থলে শহীদ হন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক। অবশেষে আসাম সরকার তিনটি জেলায় বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভূমিত্র-মেঘলা শহীদ বেদিতে ফুল দেয়। নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ।

মেঘলা একেবারে গরম সহ্য করতে পারতো না। বাসায় গরমে টেকা দায়। এর মধ্যে শিলচরে যে হোটেলে ওরা উঠেছে সেটিতে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র না থাকায় বেশ রাগ হয় ওর। এই নিয়ে ঝগড়া। ফেরার পথে আসামের করিমগঞ্জে অসুস্থ হয়ে পড়ে মেঘলা। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে উনি বলেন, ‘এমন রোগী নিয়ে কেউ বের হয়? কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি তাড়াতাড়ি দেশে নিয়ে যান।’ ঢাকায় ফিরেও সুস্থ না হওয়ায় আরেক ডাক্তার দেখানো হলো। পরে কিছুটা সুস্থ হয় মেঘলা। প্রিয় মানুষ ভূমিত্রর দিয়ে চেয়ে ও বলে, ‘আমার বাপি-মা ভালো মানুষ। আমি মারা গেলে ওরা তোমাকে আরেকটা বিয়ে করিয়ে দেবে।’ মেঘলাকে জড়িয়ে ধরেছিল ভূমিত্র।

আগস্টের প্রথম দিন মেঘলার জন্মদিনে ভূমিত্র, মেঘলার ছোট ভাই, বোন রিনিত, বৃষ্টিসহ সবাই মিলে সাভার, আশুলিয়া আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘোরা হলো। বৃষ্টিতে ভিজে প্রথম জ্বর এলো মেঘলার। পরে জ্বর আরো বাড়তে থাকে। প্রথমে বন্ধু চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানোর পরও যখন রোগ সারছে না ডাক্তারের পরামর্শে টেস্ট করানো হলো। পরীক্ষায় ধরা পড়লো হলুদ অসুখ। বিলুরুবিন বারো। বেশ জটিল অবস্থা। বিশ্রাম ছাড়া ওষুধ নেই। এরপর মেঘলা এসে থাকে বেইলি রোডে বাপির বাসায়। ওর মা মহামায়া দিনরাত পরিশ্রম করেন। খাসির মাংসের প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল মেঘলার। বাসায় খাসির মাংস রান্না হলে ও খাওয়ার আবদার করে। কিন্তু হেপাটাইটিস এ। বৃষ্টি গরম পানিতে মাংস ধুয়ে ওকে খেতে দেয়। কিন্তু বাপির বাসায় কোনো কারণে ওর মন টিকছে না। হয়তো ওরা কষ্ট করছে সেটা নিতে পারছে না। আবার এমনো হতে পারে রিনিতের কোনো কথায় কষ্ট পেয়েছে। ওকে নিয়ে যাওয়া হয় মৌলভীবাজার শহরে ভূমিত্রদের বাড়িতে। ভূমিত্র চেয়েছিল সেখানে বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকবে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে মেঘলার বাপি কবি নিকুঞ্জ গুপ্ত পরিবার নিয়ে দেখতে গেলেন মেয়েকে। গাড়িটা পার্ক করে নামছে সবাই। মেঘলা এসে দাঁড়িয়েছে দুয়ারে। বিকেলের কনে দেখা আলোর সোনালী রোদ পড়েছে ওর হলুদ হয়ে যাওয়া শরীরে। হাসি হাসি মুখে এতো সুন্দর লাগছে ওকে মনে হচ্ছে দুধে আলতা রঙ। কিন্তু হাসিটা মিলিয়ে যায় বাপির বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পড়তে। চিকিৎসা ব্যবস্থা ও খাওয়ার দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেনি ওরা। পরে বাজারে গিয়ে গাড়ি ভর্তি করে নানারকম ফল নিয়ে আসেন মেয়ের জন্য। ফেরার পথে সবাই মেঘলাকে বলে ঢাকায় ফিরতে। কিন্তু শহরের সাথে কী এক অভিমানে ও ফিরবে না। সেখান থেকে এক বৃষ্টির দিনে ওর ফেলে আসা দিনের প্রেমিক কবি অঙ্গন চৌধুরীকে ফোন করেছিল মেঘলা।

‘কেমন আছ?’

‘ভালো, তোমার শরীরের কী অবস্থা?’

‘আমি কফি খাচ্ছি। বৃষ্টি পড়ছে।’

‘এই অবস্থায় কফি। আর আমার জানা মতে বৃষ্টিতে ভেজাওতো ভালো না।’ আঁতকে উঠেন কবি অঙ্গন চৌধুরী।

‘দেখো, আমার কিছু হবে না।’ সেই চিরচেনা হাসির মেঘলা।

‘মনে আছে, তুমি কথা শোনো না বলে একবার প্ল্যান করেছিলাম গোল পুকুরের পানিতে চুবিয়ে মারার?’

‘না, তো বেশ হতো তা হলে। কিন্তু আমি যে সাঁতার জানি।’

‘আমিই সাঁতার শিখলাম না। তাই প্রেমেও হাবুডুবু খাই। আর তুমি উতরে যাও।’ মেঘলার আবেগ।

পরে কয়েকদিনের মধ্যে অবস্থার আরো অবনতি হলে ওকে ঢাকায় এনে লিভার বিশেষজ্ঞ মবিন খানের তত্ত্বাবধানে রাখা হয় বেইলি রোডের মনোয়ারা কিনিকে। প্রতিদিন সকালে আসেন ডাক্তার। একগাদা টেস্ট দেন। ওষুধের নাম দেন। কিন্তু উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যে মেঘলা রক্ত দিতে ভয় পেতো, সিরিঞ্জ ভীতি ছিল, ওর কাছে এখন সেগুলো কিছুই না। একবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীরা সবাই রক্ত দিচ্ছে। সবাই ওকে যাতে ভীতু না ভাবে তাই রক্ত দিতে রাজি হলো মেঘলাও। কিন্তু বেডে শোয়ানোর সাথে সাথে এমন চিৎকার দিয়েছিল যারা স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন তারা ভয় পেয়েছিলেন। পরে রক্ত না দেয়ার পরও ওকে ডিম আর আপেল খেতে দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সবাই কী হাসহাসি। মেঘলা নাকি ওগুলো খাওয়ার জন্য গিয়েছিল !

মনোয়ারা কিনিকে কোনো উন্নতি না হওয়ায় সরকারি আমলা কবি নিকুঞ্জ গুপ্তের উদ্দ্যোগে মেঘলাকে ভর্তি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। সেখানে সাধারণ ওয়ার্ড, নোংরা পরিবেশ। ডাক্তার জানান সীমাবদ্ধতার কথা। পরে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে সিদ্ধান্ত হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হবে। নভেম্বরের এক তারিখ ফাইট ঠিক হয়। এদিকে মেঘলার জন্য সাহায্যের আবেদন চেয়ে পত্রিকার পাতা ভরে ওঠে। প্রথম আলোতে লেখেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। জনকণ্ঠে ছাপা হয় ‘মানুষ মানুষের জন্য।’ চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে, মেঘলার প্রিয় শহর চট্টগ্রামে পোস্টার ছাপা হলো ‘মেঘলার অন্ধকার পৃথিবী ঘুরে দাঁড়াক আলোক ছটায়’। সিদ্ধান্ত হয় ২০ থেকে ২২ নভেম্বর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন হবে। মেঘলা মুঠোফোনে কথা বলে বন্ধুদের সাথে। কবি নির্ঝরকে বলে, ‘আমি মাদ্রাজ যাচ্ছি। সুস্থ হব কিনা জানি না। আমি আগের মতো হাসতে চাই, তোদের হারাতে চাই না। দূরের মেঘ হতে চাই না রে। তোরা আমার পাশে সারাজীবন নৈঃশব্দের মতো থাকবি তো নির্ঝর?’ বন্ধু মুন্নীকে বলে, ‘বিলুরুবিনটা বাড়ছে, বেড়েই কমে যাবে। দেখিস আমি ভালো হয়ে যাবো।’ অবস্থা যে এতোটা সিরিয়াস মুন্নী ভাবেনি। ক্যাম্পাসে সর্দি-কাশিকে যেমন বড় করে দেখতো মেঘলা ভেবেছিল এও তেমন। কিন্তু এর মধ্যে কবি ভূমিত্র গুহ সেজেগুজে বাংলা একাডেমির একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছে দেখে অবাক হয়ে যান অনেকে।

পহেলা নভেম্বর মাদ্রাজে যাওয়ার জন্য ৩১ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ করিয়ে নেয়া হয় দুপুর আড়াইটায়। কিন্তু বিকেলের দিকে মেঘলার পায়ুপথে বিøডিং শুরু হয়। পাওয়া যাচ্ছিল না দু’হাতের শিরা-উপশিরা। পরে পায়ে সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে ওষুধ পুশ করতে হয়। মেঘলাকে ভর্তি করানো হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর কিছুদিন ভালো ছিল। কিন্তু উন্নতির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। আবার বিলও বাড়ছিল বেশ। এর মধ্যে নির্মলেন্দু গুণ এসে শুনিয়ে গেছেন মেঘলার প্রিয় ‘যাত্রাভঙ্গ’ কবিতাটি।

‘তুই কেমন করে যাবি,
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি।
তবুও তুই বলিস যদি, যাই
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই।’

১৪ নভেম্বর অনেকটাই কোমাতে চলে যায় মেঘলা। রক্ত দিতে আসে শত শত মানুষ। অনেকে আসেন আর্থিক সাহায্য নিয়ে। কবি নিকুঞ্জ গুপ্ত নিজের বাড়ি বিক্রির কথা ভাবেন। পরে ১৭ তারিখ অনেকটা জোর করে কবি ভূমিত্র গুহ নিজের স্ত্রীকে নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের আইসিইউতে।

২০ নভেম্বর মেঘলার চিকিৎসার জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হবে। সবাই ব্যস্ত চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। পোস্টারিং হয়েছে। চলছে টিকিট বিক্রি। সবারই প্রত্যাশা মেঘলা সুস্থ হয়ে শোনাবে নতুন দিনের কবিতা। মেঘলার অন্ধকার আর ভোর হলো না। ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগ মুহূর্তেই শ্যাম সমান মৃত্যুকে বিরহ দহনে আলিঙ্গন করে মেঘলা। এই প্রথম ওর মুখের হাসি উবে যায়। ওতো মরতে চায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পোস্টারের মেঘলার মতো স্মৃতির মেঘলা জ্বলজ্বল করে। একটু পর শুরু হবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। আয়োজকরা সিদ্ধান্ত নেন ‘শো’ এর আগে ঘোষণা দিতে হবে চরম সত্যটি। পরের দু’দিন আর প্রদর্শনী হবে না। যারা টিকিট কিনেছেন তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে। সবাই চোখ মুছছে। সহ্যের বাঁধ ভেঙে অনেকে কাঁদছে বিলাপ করে। প্রিয় ক্যাম্পাস যেন শোকে স্তব্দ। প্রীতিলতা হল’ এ আর কেউ কবিতা পড়বে না। বন্ধুরা বসে আছে, মেঘলা না এলে সেমিনারে কোনো বইয়ের পাতা উল্টানো হবে না। জারুলতলা, ঝুপড়িপাড়া, লাইব্রেরি চত্বর, কলাভবনের প্রতিটি সিঁড়ি কাঁদছে। কাটাপাহাড়ের পাখিরা থামিয়ে দিয়েছে গান। ছাত্র সংগঠনগুলো কোনো মিছিল, বক্ততা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া করবে না। শাটল ট্রেনের বগিতে হবে না কোনো গান। তবুও আজ শাটল ট্রেন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় পোস্তাগোলা শশ্মানে। সাথে মেঘলার প্রিয় বন্ধুরা। কে নেই সেই স্রোতে। অদূরে দাঁড়িয়ে আছে বন্ধু সাঈদ, সোহাগ। সৌম্যটা আসেনি। মরদেহ দেখবে না বলে মেঘলার হাসিমাখা মুখের স্মৃতি নিয়ে ফিরে গেছে।

হেমন্তের আকাশ ঢেকে গেছে কালো মেঘে। রেল স্টেশন পার হলেই যেমন ক্যাম্পাস তেমনি বন্ধ রেল লাইন টপকালেই ফরিদাবাদ পোস্তাগোলা শশ্মান। কালি মন্দির, শিব মন্দির আর অদূরে আম কাঠের স্তুপ। দেখা যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা। পোস্তাগোলায় শরীরটা পুড়ে যাচ্ছে মেঘলার। একটা শূন্যতা অনুভব হচ্ছে। প্রতিটি ধোঁয়ার সাথে সাথে মনে হচ্ছে এক একটা অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মেঘলা একা। কেউ পাশে নেই। আগরবাতি, চন্দনকাঠ, ঘি, শুকনো ঢালই তখন সত্য। বাতাসে লাশের গন্ধ। একটা চিল ডেকে উঠলো ভর দুপুরে। চারদিকে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বিদায়! বিদায়! আকাশে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা। এই ঝাঁপিয়ে মেঘলার প্রিয় বৃষ্টি এলো বলে। মাঝে মাঝে মর্মন্তুদ দীর্ঘশ্বাস বলে দিচ্ছে যারা পোস্তাগোলা শশ্মানে উঠেছে তারা আর ফিরবে না। আঁধারে আঁধার জমে তৈরি হচ্ছে জটিল আঁধার। মৃতদেহের কাছে বসে ডোম, ব্রহ্মচারী, নন্দি-ভৃঙ্গি পান করছেন অলৌকিক সুধা। চিতার শেষ আলোয় ঢুকে যাচ্ছে মেঘলার ঝলকানি।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও6 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম