Connect with us

উপন্যাস

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৪

Published

on

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৪

পূর্ব প্রকাশের পর

রাত তিনটা বেজে তিরিশ মিনিট।

নিজের চেম্বারে বসে ঘামছেন ডিসি অলোকেশ। শীত বেশি পড়েছে তাই সেন্ট্রাল এসি কমিয়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। অলোকেশের চোখের সামনে একডজন মনিটরে ণে ণে দৃশ্যপট বদলায়। পুরো পোর্ট এলাকার একান্নটা পয়েন্টে রয়েছে কোজসার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরা। সেই সব ক্যামেরায় ধারণকৃত দৃশ্য ভাসছে মনিটরে।

অলোকেশের দৃষ্টি নিচতলায় নয়, দোতলার বিশেষ বিশেষ পয়েন্টে যেমন হেভি লাগেজ গেট ওয়ান টু সিক্স, চেক-ইন রো, বোডির্ং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন সেকশন, ট্রানজিট লাউঞ্জ। এমনকি দোতলার ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ স্পাইসও বাদ যাচ্ছে না।
ডেলটাকে ওপরে পাঠিয়ে নিজের মতো করে ঘটনা সাজাচ্ছেন অলোকেশ। রহস্য-রমণী বলল, মধ্যবয়সী নারী দেশের বাইরে যাচ্ছে ভোর ছ’টার মধ্যে।

এই খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু?

কে এই অনামিকা! পাচারকারী নারীই বা কে! অনামিকার সাথে তার সম্পর্ক কী? রহস্য-রমণী কী করে জানলো যে মুদ্রা পাচার হচ্ছে! সে নিজের পরিচয় গোপন করছে কেন! নিজেকে মেলে ধরতে তার বাধা কোথায়!

প্রাণের ভয়! হতে পারে। হয়তো সে ভাবছে আসল পাচারচক্র কোনভাবে তাকে চিনে ফেললে জানে মেরে দেবে! আসলে অলোকেশকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না।

এতে অবশ্য সমস্যার কিছু নেই। কারণ ডিসি সাহেবের তথ্য দরকার, সোর্স নয়। কাক, কোকিল নাকি পায়রার পেটে খবর তাতে কি এসে যায়! খবর পাক্কা হলেই হয়।

আরেকটা কথা অবশ্য বলেছে অনামিকা। মিডলইস্টগামী কোন ফাইটে সে যাবে। কয়েকঘণ্টা সময়ের ব্যবধান মাত্র।
দ্বিতীয় সোর্স মোটামুটি একই রকম তথ্য দিয়েছে। তবে ডিটেলে কিছু নয়।

নাহ, সব জোলো খবর! রিলাইয়েবল নয়। হতাশ ডিসি অলোকেশ। তাই বলে হাল ছাড়েন নি। বাঘ আসছে বাঘ আসছে শুনতে শুনতে সত্যি বাঘ এলেই বা! সহকর্মীদের মনোবল নষ্ট করা ঠিক নয়। তিনি নিজেই একবার চক্কর দিয়ে এলেন পুরো এয়ারপোর্ট। হেভি লাগেজ গেটে সব নজরদারি করছে। স্ক্যানিং মেশিনের মনিটরে চোখ যেন আটকে আছে সবার। মাইক ফোর ইমিগ্রেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। যদি কারো গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয় তো সোজা চার্লি স্যারকে জানাবে।

ঘুরন-চেয়ারে বসে এপাশ ওপাশ দুলছেন অলোকেশ। সামনে খোলা ইন্টারনেট। গুগল ক্রোমো সার্চ ইঞ্জিনে এলেবেলে নানা কিছু দেখছেন। নির্দিষ্ট কিছু নয়। মাফিয়া শব্দের মানে কী খুঁজলেন। উইকিপিডিয়া লিখেছে, মাফিয়ার আরেক নাম কোসা নস্ট্রা। এরা মূলত সিসিলি কেন্দ্রিক এক ধরনের শক্তিশালী ক্রিমিনাল সিন্ডিকেট, কোন এলাকা বা জনপদ জবরদখল করা যাদের কাজ। মাফিয়াসদস্যরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে অবিচল। অত্যন্ত বেপরোয়া। খুন-খারাপিতে এদের বাছবিচার নেই, যেমন এরা পরোয়া করে না নিজের জীবনের। এক কথায় এরা দুর্নিবার, দুর্ধর্ষ এবং অপতৎপর।

রাত প্রায় চারটে। অলোকেশের চোখে তন্দ্রা। কিন্তু না, কিছুতেই নার্ভের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো চলবে না। ভোর হতে এখনও অনেক দেরি। মধ্যপ্রাচ্যগামী ফাইটের উপর কড়া নজর রাখছে তার টিম। এক একটা ফাইট অ্যানাউন্স হয়, আর সবাই নড়েচড়ে বসে। বিশেষত মহিলা যাত্রীদের লাগেজ তন্নতন্ন করে খোঁজে স্ক্যানিং মেশিন অপরেটররা।
বড্ড ঘুম পাচ্ছে আজ। এমন তো কখনও হয় না। নিজের উপর ভীষণ বিরক্ত ডিসি অলোকেশ। সেপাই মন্তাজকে ডেকে আরেক কাপ কফির কথা বলবে ঠিক তুণি ওয়াকিটকি মেসেজ। হেভি লাগেজ গেট থেকে এআরও জানায়, একটু উপরে যেতে হবে।

এনিথিং সিরিয়াস অর সাসপিশাস?

ইয়েস স্যার। প্লিজ স্যার, উই নিড ইওর হেল্প। জানায় মাইক।

ততণে মাইক ফোরটিন ছুটে আসে ডিসির চেম্বারে। পেছনে ডেলটা।

কী খবর বলুন তো? হেভি লাগেজ গেটে কী হয়েছে!

চলুন স্যার! একটু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এক ভদ্রমহিলা, সম্ভবত কোন ফাইটের কেবিন ক্রু আমাদের সাথে কোঅপারেট করছে না।

ডু ইউ সাসপেক্ট হার? এনি ভ্যালিড রিজন্স?

নট অ্যাট অল। তারপরও বাজিয়ে দেখতে দোষ কী! ডেলটা বলল। এরপর আর কথা চলে না। টিমলিডার হিসেবে তাকে যেতে হয়। এটুকু তার প্রফেশনাল অবলিগেশন।

ছয় নম্বর হেভি লাগেজ গেট দোতলায় ডিসি অলোকেশ টিমমেটদের সাথে উপস্থিত। হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের বহির্গমন প্রবেশদ্বার এটি। এমনিতে এখানে কড়াকড়ি কম, কারণ ছয় নম্বর গেট যাত্রীদের জন্য নয়, কেবল এয়ারপোর্ট স্টাফ ও কেবিন ক্রুদের জন্য সংরতি।

সুন্দরী সুবেশা তরুণী, পরনে এক এয়ারলাইনসের ইউনিফর্ম। ব্যাগেজ বলতে ছোট্ট হাতব্যাগ ও একটা ট্রলি। ট্রলির আকার মাঝারি, দেড়ফুট বাই একফুট। ইনি মধ্যবয়সী নন, তাছাড়া এয়ারলাইনস-এর স্টাফ সন্দেহের তালিকায় পড়ে না। মধ্যপ্রাচ্যগামী নয়, তিনি যে এয়ারক্রাফ্টের নাম বললেন সেটা সিঙ্গাপুরগামী।

নাহ, হিসাব মিলছে না কিছুতেই। অনামিকা কি তবে কমপ্লিট গুল ঝেড়েছে! এতে তার লাভ! স্রেফ মজা!

বলুন কী প্রবলেম? ভ্র“ নাচিয়ে জানতে চান অলোকেশ।

দায়িত্বরত ইন্সপেক্টরের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সুবেশা তরুণী বললেন, আমি নিশা। কেবিন ক্রু। আমার ফাইটের দেরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরা আমাকে হ্যারাস করছে। দেখুন স্যার, মিছেমিছি এ কী রকম অসভ্যতা!

নিশাকে কিছুণ অপাঙ্গে নিরীণ করলেন অলোকেশ। চলনে বলনে বেশাভুষায় তাকে সমীহের উদ্রেক হয় বৈকি! ভাল ফ্যামিলির মেয়ে বলেই তো মনে হয়! তবে কি ওরা ভুল মানুষকে টার্গেট করেছে। ডেলটা জানালো, নাথিং ফিশি স্যার। খারাপ কিছু তো দেখছি না!

নিশা তাড়া দিচ্ছে বারবার। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন অলোকেশ। চেহারা যদি মানুষের মনের আয়না হয়, সেেেত্র নিশা পাস। ওর চেহারায় স্মাগলারের কোন ছাপ নেই। অথবা এ লাইনে নতুন, তাই ছাপ পড়েনি এখনও।

অলোকেশ বললেন, ওকে ম্যাম, আপনার ব্যাগেজগুলো একটু স্ক্যানে দিন। দেখি ভিতরে কী আছে।

আবার কেন, একবার তো দিয়েছি। নিশার কণ্ঠে অনুযোগ।

আরেক বার দিন। এবার না হয় আমার সম্মানে দিলেন। অনড় অলোকেশ।

সম্মান অসম্মানের কথা নয় স্যার। আই’ম রিয়েলি রানিং আউট অফ টাইম। নিশা বলল। অলোকেশের প্রিয় ডায়ালগ এটা।

স্ক্যানিং-এ দেবেন না তাহলে? অলোকেশের কণ্ঠে অথরিটি।

নিশা দ্বিরুক্তি না করে ব্যাগেজ মেশিনে দিলেন। অফিসার মনিটর দেখছে। কিন্তু অলোকেশ দেখছেন সুশ্রী তরুণীটিকে। সত্যি দৃষ্টিনন্দন। রমণীয় বটে!

ব্যাপারটা কারো নজর এড়ায় নি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এহেন আচরণ শোভন নয়। যদিও কেউ কিছু বলে না, কারণ তিনি উঁচু পোস্ট হোল্ড করে আছেন। কালজয়ী সেই গানের মতো ‘সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়…..’!

অলোকেশ কী দেখলেন! শুধুই তার রূপমাধুর্য! নো, তিনি দেখেছেন নিশার কপালে, নাকের দুপাশে, থুতনিতে অজস্র বারিবিন্দু। ঘামে একেবারে জবজব করছে যেন! মানুষ ঘামে কখন? গরমে নয়তো আতঙ্কে! তাও আবার এই মাঘী শীতে, দেশজুরে যখন শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ব্যাপারটা খানিক আশ্চর্য নয়!

নিশা নার্ভাস হয়ে পড়েছে! কিন্তু কেন! তার এমন ভয়ের কারণ কী!

ওর ট্রলিতে কিছু নেই। মামুলি কাপড়চোপড়, ব্যবহার্য জিনিস! খানিকটা ধন্ধে পড়ে গেলেন অলোকেশ।

হ্যান্ডব্যাগে? ছোট্ট কৌটোর মতো দুখানা কী যেন?

ওগুলো কী মিস নিশা? ডেলটা জানতে চান।

ও কিছু না। ফেইশাল ক্রিম। প্রচণ্ড শীতে চামড়া খসখসে হয়ে যায় তো! নিষ্পাপ মুখে নিশা বলল।

মে বি ইউ আর রাইট। মন্তব্য করলেন ডিসি অলোকেশ।

নিশার ঠোঁটে হাসির রেখা উঁকি দেয়। নরম গলায় বলেন, এবার তাহলে আমি যেতে পারি স্যার?

যাবেন! নিশ্চয়ই। আপনাকে দুবার স্ক্যান করানোর জন্য দুঃখিত। রিয়েলি সরি। মাথা নাড়েন অলোকেশ।

 

চলবে…

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য2 weeks ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও6 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার9 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম