Connect with us

উপন্যাস

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৬

Published

on

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৬
কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৬
  • পূর্ব প্রকাশের পর

 

এখনও তদন্ত শেষ হয় নি। প্রথমেই অলোকেশ জানতে চাইলেন, আপনি সত্যিই কি কেবিন ক্রু? কোন্ এয়ার লাইন্সের?

নিশা বুঝতে পেরেছে মিথ্যে বলে ফায়দা নেই আর। সে এপাশ ও পাশ মাথা নাড়লো। তার মানে সে কেবিন ক্রু নয়। এটা তার ছদ্মবেশ। সে জানে ছয় নম্বর এন্ট্রি গেট কেবল ক্রু ও স্টাফদের জন্য বরাদ্দ। সেখানে চেকিং-এর কড়াকড়ি কম। নিশা কেবিন ক্রু পরিচয়ে সেই সুযোগটাই নিয়েছে। রহস্য-রমণীর ভাষায় এই হল ছদ্মবেশ।

কিন্তু সমবেত জনতা এখনও জানে না, নিশার অপরাধ কী! পড়ে গিয়ে অলোকেশ কী করে জানলেন সে স্মাগলার। সবাই উসখুস করছে। তারা জানতে চায় মূল রহস্য কোথায়!
এএসপি শর্মিলা বললেন, প্লিজ স্যার, ডোন্ট কিপ আস ইন সাসপেন্স এনি মোর। ক্র্যাক দ্য জোক।

জোকস নয় শর্মিলা, বলুন হোকস! আই মিন ধাঁধা। এ এক মস্ত ধাঁধা। মানুষ কতটা লোভী হলে নিজের দেশকে ফাঁকি দিয়ে অন্যদেশে টাকা পাচার করে। এই সুন্দরী সুবেশা মহিলার কিসের এত অভাব! যাক গে, চলুন আগে এর হ্যান্ডব্যাগ সার্চ করে দেখি।

নিশা বাধা দেয়। বলে, ভেরি পারসোনাল! আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে হাত দেবেন না। আমি চিৎকার করবো।

কোন লাভ নেই নিশা। দেশের ইজ্জত নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে তাদের সম্ভ্রম নিয়ে আমি ভাববো না। প্লিজ কোঅপারেট আস, নইলে ফোর্স করবো।

নিশার ব্যাগে পাওয়া গেল চারখানা রোল। স্ক্যানিং মেশিনে যাকে কোল্ড ক্রিমের ডিবে বলে মনে হয়েছিল। অনেকটা কৌটোর মত কিন্তু কৌটো নয়। কার্বন পেপারে মোড়ানো, তার নিচে শক্ত বোর্ডপেপার, তার ভেতর সৌদি রিয়াল। পাঁচশ রিয়ালের বান্ডিল আড়াআড়ি গোল করে পাকিয়ে কৌটোর মতো বানিয়েছে। নিশার ধারণা ছিল কার্বন পেপার জড়ালে স্ক্যানিং মেশিনে ধরা পড়ে না। কিন্তু ওর ধারণা ঠিক নয়। একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায় ভেতরটা ফাঁপা। টাকা আর ক্রিম এক জিনিস নয়। তবে ধরার ইচ্ছেটা থাকতে হয়। জাস্ট কমিটমেন্ট।

গোনা হল। রোল করে পাকানো মোট কারেন্সি সৌদি রিয়াল দুই ল ষাট হাজার যা ওই দিনের রেটে পঞ্চাশ লাখ টাকার সমান। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নন ডিসি অলোকেশ। এ তো মামুলি কেস। কোটির কমে হলে কি হয়!

কী করবেন স্যার, প্রথমবার তাই হয়তো কম এনেছে! ডেলটা সান্ত্বনার সুরে বলল।

নাহ, এটা কোন কাজের কথা নয়। আমার সোর্স বলছে টাকা আরো আছে।

এই নিশা, বলো বাকি টাকা কোথায়! কারো হাতে তুলে দিয়েছো! সত্যি করে বলো! নইলে কোর্টে চালান দেবো।

নিশা নীরব, নিশা অনড়। যেন তার কিছু বলার নেই।

বলবে না। ওকে, তাহলে আরো একবার তোমার গায়ে হাত দিতে হবে। সুপ্তা, এসো, এর বডি সার্চ করো। আমি জানি টাকাটা ওর সাথেই আছে। ওর গায়ে পড়েছি কি সাধে! আমার ভীমরতি হয়েছে বুঝি!

এবারে বুলি ফোটে নিশার মুখে। বলে, স্যার আমাকে ছেড়ে দেন। চাইলে পঞ্চাশ লাখ রেখে দিতে পারেন। তবু আমাকে যেতে দেন স্যার।

টাকার লোভ দেখাও নিশা! টাকা দিয়ে সব হয়, কিন্তু সম্মান পাওয়া যায় না। রাত জেগে এত কষ্ট করেছি কি নিজেকে বিকিয়ে দেব বলে! ভাবলে কি করে! তাহলে তো চাকরি বাদ দিয়ে তোমার সাথে স্মাগলিং-এ নামতাম। স্বগতোক্তির মতো বললেন ডিসি অলোকেশ।

লেডি ইন্সপেক্টর সুপ্তা নিশাকে নিয়ে পাশের রুমে গেল। তাকে আনড্রেস করা হল। বেরিয়ে এলো সফেদ শরীর। শরীরের পরতে পরতে টাকা। দেহের আনাচে কানাচে, গলি-ঘুঁপচিতে টাকা আই মিন সৌদি রিয়াল, কুয়েতি ডিনার, ইউএস ডলার। সুপ্তার বয়ান মোতাবেক সবচে বড় চালান ছিল লাস্যময়ী নিশার বুক আর তলপেটের মাঝখানে চর্বিহীন সৌখিন অংশে। অনেকটা ছিল দুই উরু আর জংঘার পাদদেশে। বাকিটা হাঁটুর নিচে খেলোয়াড়ি অ্যাংকেল ব্যান্ড (অ্যাংকলেট) দিয়ে সুকৌশলে আটকানো।

নিশা খেলোয়াড় বটে। পুরো চালান জায়গামতো বুঝিয়ে দিতে পারলে ওর ভাগে জুটতো কড়কড়ে পাঁচ লাখ টাকা। সাথে মধ্যপ্রাচ্যের আলিশান হোটেলে থাকা-খাওয়া, আমোদ-আহাদ।

এত কিছু কী করে জানা গেল! সেও এক মজার ব্যাপার। নিশাকে নিয়ে পাশের রুমে কী হচ্ছে জানার আগ্রহ সবার। কিন্তু কেউ মুখ ফুটে বলতে পারছে না। তরল স্বভাবের কেউ হয়তো ভেবেছে, ইস, আমি যদি নিশা ম্যাডামের বডি রামেজিং-এ শামিল হতে পারতাম! (রামেজ মানে হল ভিতরের সবকিছু উল্টেপাল্টে খুঁচে খুঁটিয়ে দেখা। সচরাচর এন্টিস্মাগলিং কার্যক্রম হিসেবে জাহাজ বা এয়ারক্রাফ্ট রামেজ করে থাকে শুল্ক কর্তৃপ)।

সুরসিক ডেলটা (বয়স পঞ্চাশের উপরে) বলল, কি হল সুপ্তা এত দেরি কেন! কী খুঁজছো এতণ? যুতসই প্রশ্ন, সন্দেহ নেই। উৎসুক জনতা টগবগ করে ফুটছে। কাঁহাতক অপো!
সুপ্তার চটপট উত্তর, স্যার, শাড়ি পরিয়ে আনতে হবে তো!

অমনি চাপা ঠোঁটে মাপা হাসি সবার। উত্তর শুনে বুঝে ফেলে আসলে পাশের ঘরে কী ঘটেছিল। দরজা লাগাচ্ছি বললে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কেউ একজন ওটা খুলেছিল। সুপ্তার কথায় জাগ্রত হয় দর্শকশ্রোতার রসনাপিয়াসী মন।

ওরে বাবা! এক ডালা টাকা! কত? কত? আরো অনেক ফরেন কারেন্সি যার মূল্যমান আরো দুকোটি বিডিটি। একুনে আড়াই কোটি টাকার রিয়েল, দিনার ও ইউএস ডলার। স্মরণকালে এত বিপুল পরিমাণ ফরেন কারেন্সি কোন মহিলার নিকট থেকে আটক হয় নি। বলতে না বলতে মিডিয়া কর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। দুধ আছে, আর মাছি থাকবে না তাই কি হয়! বিভিন্ন চ্যানেলের আলোকচিত্রীগণ সার বেঁধে দাঁড়ালো বমাল নিশার ছবি তুলবে বলে। হিউজ মানি, হেভি অবজেক্ট! ছবি না হলে চলে! ওদিকে বিমানবন্দর থানার ওসি ভ্যান পাঠিয়েছে সুবেশা নিশাকে নিজের কয়েদখানায় অভ্যর্থনা জানাবে বলে! বিপুল এন্তেজাম দেখে এতণে নিশা বুঝতে পেরেছে অন্তত বছর তিনেকের জন্য তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পাকা হয়ে গেছে। নিশা এবার নেশাগ্রস্ত শ্বাপদের মতো অন্ধকার কে কাল কাটাবে। তার নিশা নামের সার্থকতা খুঁজে পাবে।

নাচ শেষ, ফাঁকা নাচঘর। ততণে ভোরের আলো ফুটে বেরিয়েছে পুব দিগন্তে। ডিসি অলোকেশ হিসেব মেলাচ্ছেন। বাহ্ বেশ মেয়ে অনামিকা। মেয়েটা তাকে বোকা বানায় নি। কিন্তু কি করে এসব হল। কিভাবে বুঝলেন নিশার শরীরে শিশির, আই মিন টাকা আছে? সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করলো ডেলটা।

বুঝলেন না! সব ওর ললাট-লিখন! কপালে থাকলে ঠেকায় কে! অলোকেশ হাসে। মোলায়েম হাসি। আর মনে মনে সেই রহস্য-রমণীকে ধন্যবাদ দেয়।

ললাট-লিখন? সে কি! আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন স্যার? উজবুকের মতোন প্রশ্ন।
এ ললাট সে ললাট নয় সুপার সাহেব। আমি যা বলি তাই মিন করছি। নিশার দুর্দশা ওর কপালে আঁকা ছিল। আমি জাস্ট দেখে নিয়েছি।

স্যার দয়া করে হেঁয়ালি রেখে আসল ঘটনা বলুন।

তবে শুনুন। দোষ কারো নয়, স্রেফ স্বেদবিন্দু। স্বেদ মানে জানেন?

জি না স্যার!

স্বেদ মানে ঘাম। নিশার কপালে ঘাম দেখেছি। বিনবিনে ঘাম। এই প্রচণ্ড শীতে সে ঘামছে কেন। কারণ ওর মনে পাপ আছে। বুকে ভয় আছে, আর ওর চোখের তারায় ছিল সেই ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। সুন্দর মুখে কেমন চোর চোর ভাব! ব্যস, আর যায় কোথায়! ওর হাতব্যাগে যে রোল করা টাকা আছে সেকথা আমি জানতাম। কিন্তু ভাঙিনি। তাহলে নিশা কেঁদে ফেলবে। ওর কোন প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবো না, তাই ইচ্ছে করে চেপে গিয়েছি।

স্যার, ইউ আর গ্রেট। রিয়েলি ইনটেলিজেন্ট। এই বিদ্যা আপনি কোথায় শিখলেন! স্রেফ ঘাম দেখে নিশার কালঘাম ছুটিয়ে দিলেন। ডেলটার কণ্ঠে উচ্ছ্বাস।

কোথায় শিখেছি! আর্থার কোনান ডয়েল। শার্লক হোমসের স্রষ্টা। ইংল্যাণ্ড গিয়ে আমি পাঁচবার তার সেই বিখ্যাত দু’শএকুশ/ বি বেকার স্ট্রিট ঘুরে এসেছি। রিজেন্টস পার্কের কাছে তার নামে মিউজিয়াম আছে। বেকার স্ট্রিট টিউব স্টেশনের পাশেই আছে হোমসের সাড়ে ছ’ফুট স্ট্যাচু। হি’জ অ্যা গ্রেট ডিটেকটিভ। সুপার হিউম্যান। আই স্যালুট হিম!

ইয়েস স্যার। আই অলসো স্যালুট দ্য ম্যান। দ্য বস অফ মাই বস!

চলবে…

রোদেলা জান্নাত (Rodela Jannat)। ছবি : ফেসবুক
ঢালিউড3 weeks ago

শাকিব খানের নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত, কে এই রোদেলা : অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

রঙ্গন হৃদ্য (Rangan riddo)। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য3 weeks ago

ভাইরাল রঙ্গন হৃদ্যকে নিয়ে এবার সমালোচনার ঝড়

পূজা চেরি। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড4 weeks ago

শাকিব খানেও আপত্তি নেই পূজা চেরির

শাকিব খানকে পেয়ে যা বললেন নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত
ঢালিউড3 weeks ago

শাকিব খানকে পেয়ে যা বললেন নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত

আয়েশা আহমেদ
অন্যান্য2 weeks ago

আয়েশা আহমেদের আবারও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় সাফল্য

শাকিব খান ও রোদেলা জান্নাত। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা3 weeks ago

বুবলীর পর এবার সংবাদ পাঠিকা রোদেলা জান্নাতকে নায়িকা বানাচ্ছেন শাকিব খান

পায়েল চক্রবর্তী
টলিউড3 weeks ago

টালিউড অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঢালিউড3 weeks ago

এক হচ্ছেন শাকিব খান-নুসরাত ফারিয়া

শিনা চৌহান
অন্যান্য4 weeks ago

শিনা এখন ঢাকায়

অঞ্জু ঘোষ। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড3 weeks ago

যে কারণে অবশেষে ঢাকায় ফিরলেন চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষ

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
নির্বাহী সম্পাদক : এ বাকের
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম