Connect with us

উপন্যাস

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৮

Published

on

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৮
কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৮
  • পূর্ব প্রকাশের পর

ইদানীং ব্যাংকক থেকে বেশ ইলেক্ট্রনিক আইটেম আসে। মোবাইল ফোন (নকিয়া এন সিরিজ) থেকে শুরু করে ক্যামেরা (ডিজি ক্যাম, বেটাক্যাম, হাই ডেফিনেশন ক্যামেরা, ব্লু টুথ, আইফোন, আইপ্যাড, মেমরি কার্ড ) সুযোগ বুঝে সৌম্যকান্তি যাত্রীরা ব্যাগের পকেটে ফেলে নিয়ে আসে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোনমতে পার করতে পারলেই বিমানভাড়া উঠে আসে।

জনতার স্রোত যাচ্ছে, বন্যার পানির মতো। তাকিয়ে দেখছেন ডিসি অলোকেশ। আইকাও নীতিমালা বলে, গ্রিনচ্যানেল ব্যবহারকারীর মালামাল স্ক্যান করার বিধান নেই। কিন্তু এটা বাংলাদেশ। তদুপরি রেডচ্যানেল চালু নেই। তাই শুল্কযুক্ত ও মুক্ত দু’রকম পণ্যই এখন স্ক্যান করতে হয়। যাতে সরকারের মূল্যবান রাজস্ব ফাঁকি না হয়।

ডিসি অলোকেশ নিজের বিবেচনা অনুযায়ী কিছু পণ্য এমনি ছাড় দেন। দৈবচয়ন করে কিছু স্ক্যান করান। সবার আগে যাত্রীর চেহারা দেখেন, হাবভাব বোঝেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেন, বাহিত পণ্য স্ক্যান করা হবে কি না। রোগী হলে অগ্রাধিকার। বৃদ্ধ হলে টপ প্রাইয়রিটি। সরকারের লোক বলে কি মানবতাবোধ থাকতে নেই!

প্রচুর লোক যাচ্ছে। হরেক রকম লাগেজ। পোঁটলাপুঁটলিও আছে। মানে এরা লেবার শ্রেণীর। তবে কেতাদুরস্ত প্যাসেঞ্জার বেশি। থাইল্যান্ডে কামলা খাটার সুযোগ নেই খুব একটা। জনতার ভিড় ফিকে হয়ে আসছে ক্রমশ। অলোকেশ ভাবলেন, এবার উপরে উঠে যাবেন। কোকেনের খোঁজে। কী মনে করে একটু দাঁড়ালেন। ঢ্যাঙামতোন এক লোক, হেলেদুলে আসছেন। ধোপদুরস্ত পোশাক, কিনশেভড, যেন বিমান থেকে নামার আগে গালে ুর দিয়েছেন। হবে হয়তো। কতো লোক কত রকম উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে ফেরে। ইনি হয়তো জীবনের সেই মস্ত হেঁয়ালিপূর্ণ কাজটি করতে এসেছেন। আই মিন বিয়ে। কনে দেখবেন। কনের বাড়ির লোকের কাছে ফার্স্ট ইমপ্রেশন যাতে বাজে না হয় তাই সেজেগুজে বেরিয়েছেন।

হাতে ব্যাগেজের বাড়াবাড়ি নেই। একটা মাত্র ট্রলার। টাইটান ব্র্যান্ড, ইয়েলো অরেঞ্জ ফোর হুইলার। দামি জিনিস, অলোকেশ জানেন। এই ধরনের ক্যারি অন ট্রলার ব্যাগ তিনি কিনতে গিয়েছিলেন লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে। বড্ড দাম! আড়াইশ পাউন্ড। বিডিটিতে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা।

ভদ্রলোকের হাঁটার মধ্যে একধরনের বেতাল আই মিন ছন্দহীনতা আছে। মাইক ওয়ান তাকে ছেড়েই দিয়েছিল। অলোকেশ থামালেন! এক্সকিউজ মি স্যার! হোয়ার আর ইউ ফ্রম?
উত্তর না দিয়ে ভদ্রলোক উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়লেন। বি জি ব্যাংকক কোত্থেকে আসে?

ইয়েস, থাইল্যান্ড থেকে।

সো ডু আই। এনি প্রবলেম? চোখ নাচালেন তিনি।

নট অ্যাট অল। ইওর ব্যাগেজ প্লিজ। অলোকেশ তাকে স্ক্যানিং মেশিন দেখিয়ে দিলেন।

বেঁকে বসলেন তিনি। কেন দিতে হবে! কেন! হোয়াই?

কারণ আমি দিতে বলেছি।

মতার অপব্যবহার করছেন?

মিসইউজ নয়, ব্যবহার করছি। কোঅপারেট আস প্লিজ। ফাস্ট।

যদি না দেই!

কেন মিছেমিছি প্রবলেম করছেন! দিতে হবে। আই সাসপেক্ট ইউ। মুখ ফসকে বলে ফেললেন অলোকেশ। পরে ভুল বুঝতে পারলেন। কিন্তু ততণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তীর ছুটে বেরিয়ে গেছে।

সাসপেক্ট? কেন, আমি কী করেছি! আমি কি স্মাগলার? তেড়িয়া টাইটান ব্র্যান্ড ট্রলারধারী ভদ্রলোক।

তা বলিনি। প্লিজ লেট আস স্ক্যান। অলোকেশের ইশারা পেয়ে সেপাই এগিয়ে এলো। আদুরে ভঙ্গিমায় কমলা-হলুদ ট্রলিখানা ধরে তুলে দিল স্ক্যানিং মেশিনের রোলার বেল্টে।

দেখুন, ভাল হবে না বলছি। আমার ট্রলিতে কিচ্ছু নেই। স্রেফ ডেইলি ব্যাগেজ। খেপে উঠলেন ভদ্রলোক। পাসপোর্টখানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলেন মাইক ফিফটিন। দেশি লোক, নাম আফজালুল রহমান। ব্যাংকক থাকেন অনেকদিন, তবে পিআর (পারমানেন্ট রেসিডেন্স) পাননি।

নাহ, স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি। আবারও দেয়া হল। নাহ নেই। স্রেফ মামুলি জিনিস। জামা-প্যান্ট, টুথপেস্ট, আন্ডার-গারমেন্টস এইসব।

কী, এবার হলো তো! স্যাটিসফাইড? হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন আফজাল। কিছুটা চাপে ডিসি অলোকেশ। নিজের বোকামো ধরা পড়ে গেল কি!

মাইক ফিফটিন বলল, স্যার যেতে দেই। কিছু তো পাওয়া গেল না। উপস্থিত সেপাইরা বোধ হয় নিঃশব্দে মুখ টিপে হাসছে।

কিন্তু অলোকেশ ভাবছেন, কী ভাবছেন! তিনি নিজেই কি জানেন ছাই!

আফজাল এবার ট্রলির উদ্দেশে পা বাড়ান। তিনি যেতে উদ্যত। এক পা বাড়িয়েছেন। পায়ে লেসবিহীন সাদা রঙের পাম্প শু। পরনে ফেড জিন্স, হালকা নীল টি-শার্ট। গলায় ঝুলছে স্টারদের মতো মোটা পেঁচানো গোল্ডচেইন। হাতে ব্রেসলেট। বেশ সুপুরুষ দেখতো।

থামুন মিস্টার আফজাল। অলোকেশের কণ্ঠে স্পষ্ট অথরিটি।

আরেক পা সামনে দিতে গিয়েও তড়িতাহতের মতো ফিরে তাকান আফজাল। কেন, আবার কেন! হোয়াটস ইওর প্রবলেম অফিসার! ঝাঁঝমেশানো গলায় বলল সে।

প্রবলেম আমার নয়, আপনার? ব্যঙ্গোক্তি ছুড়লেন অলোকেশ।

হোয়াট ডু ইউ মিন?

নিচে তাকান, আপনার পায়ের কাছে! দেখুন তো ওটা কি? আপনার হিপের দিকটা অমন ফেঁপে আছে কেন আফজাল সাহেব?

অলোকেশের কথা শুনে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গ্রিনচ্যানেলের সামনে মেঝেতে। কেমন করে যেন আফজালের প্যান্টের পায়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে পড়েছে কালো চৌকোমতোন একখানা জিনিস! কী, কী ওটা?

মেমরি কার্ড! ওনলি এক পিস!

ফুল ইউ আর! হাজারে ফুরোবে না। আমি ওর গদাইলস্করি চালে হাঁটা দেখে বুঝেছি কিছু একটা ওকে বড্ড খোঁচাচ্ছে। জুতোর শুকতলায় পিন বিঁধলে যেমন লাগে। তাছাড়া পেটটা বড্ড ভারি মনে হয়। মেয়ে হলে ধরতুম এডভান্সড স্টেজ। কিন্তু ওর ক্ষেত্রে তো তা হবার নয়! নাকি আজকাল ঘন ঘন গণেশ উল্টাচ্ছে!

ডিসি অলোকেশের অনুমান সত্যি প্রমাণিত হল। ব্যাংককফেরত যাত্রী আফজালের পেটের বেড়ি থেকে বাইশশ’র মতো হাইক্যাপাসিটি মেমরিকার্ড উদ্ধার হল যার বাজার দর লাখ চারেকের কম নয়!

কার্ড তো হল, কিন্তু কোকেন! এই অপারেশনে আদৌ পরিতৃপ্ত নয় অলোকেশ। ব্রাভোর খবর মিথ্যে নয়। চার্লিকে তা প্রমাণ করতেই হবে। অমনি ডেলটার ফোনকল, প্রিং প্রিং!
ইয়েস!

স্যার, শিগগির আসুন। দুজন বিদেশী নজরদারিতে আছেন। আপনার প্রেজেন্স দরকার। ফরেন বলে কথা! আমাদের মহামান্য গেস্ট।

ডেলটার কথায় খুব কনভিন্সড নন অলোকেশ। এর আগেও তিনি বাঘ আসার খবর দিয়েছেন, কিন্তু সেসব খবরে জিস্ট কিছু মেলেনি। সাবঅর্ডিনেটের ডাকে সাড়া না দিলে ওরা হীনমন্যতায় ভোগে। নিজেদেরকে ইগর্নোড মনে করে। তাই গল্পের সেই দুষ্টু রাখালবালকের কথা মেনে নিয়েই হেভিলাগেজ গেটে ঢুকলেন অলোকেশ। গিয়ে দেখেন দুই নিগ্রো বুড়োকে নিয়ে রীতিমতো টানাহেঁচড়া করছে সিভিল এভিয়েশন ও ডেলটা।

স্ক্যান মেশিন অপারেটর বলছে ওদের ট্রলিতে সন্দেহজনক কিছু নেই। কিন্তু ডেলটা ওদের মুখ থেকে মদের গন্ধ পাচ্ছেন। মদ গেলার সাথে কোকেনের কী সম্পর্ক ঠিক পরিষ্কার নয় ডিসি সাহেবের কাছে।

আপনার সন্দেহের তীর ওদের দিকে কেন জানতে পারি কি?

ডেলটা চুপ। তবে অলোকেশের কেন যেন মনে হয় নিগ্রোদুটো ঠিক স্বাভাবিক নয়। লাল টকটকে চোখ, পরনের পোশাক ময়লা, কাঁধে ঝুলছে বেঢপ সাইজের একখানা কাপড়ের ব্যাগ। ক্যাম্বিসে তৈরি। ব্যাগ না বলে একে বরং পোঁটলা বলা শ্রেয়।

ওদের দুজনকে (আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন) এপিবিএনের জিম্মায় রেখে অলোকেশ পাসপোর্ট নিয়ে পড়লেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আগাপাশতলা সেব দেখলো। আফ্রিকার পুবে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপদেশ মাদাগাস্কারের সিটিজেন। নাম টিমি ও জেমিইনা। মাদাগাস্কারের রাজধানী আনটানানারিভো। মোটামুটি গরিব দেশ বলা যায়। মাথাপিছু আয় হাজার ডলারেরও কম। ওখানে প্রচুর ধান হয়। এছাড়া আছে কিছু খনিজ পেট্রল, মূল্যবান পাথর ও মেক্সিকান ভ্যানিলা। লোকেরা কর্মঠ, চাষবাস করে খায়। এখানে আছে মজাদার আংটিপরা লেজঅলা বন্যপ্রাণী লেমুর। শোনা যায়, মাদাগাস্কার দ্বীপে চলে চোরাচালানের বেশ রমরমা বিজনেস। নেশাকারক জিনিসের বড়সড় র‌্যাকেট রয়েছে সেখানে। দ্বীপাঞ্চল বলে নৌপথে খুব সহজেই কারবারিরা মালামালসমেত ভেগে যেতে পারে।

  • চলবে…

রোদেলা জান্নাত (Rodela Jannat)। ছবি : ফেসবুক
ঢালিউড3 weeks ago

শাকিব খানের নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত, কে এই রোদেলা : অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

রঙ্গন হৃদ্য (Rangan riddo)। ছবি : সংগৃহীত
অন্যান্য3 weeks ago

ভাইরাল রঙ্গন হৃদ্যকে নিয়ে এবার সমালোচনার ঝড়

পূজা চেরি। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড4 weeks ago

শাকিব খানেও আপত্তি নেই পূজা চেরির

শাকিব খানকে পেয়ে যা বললেন নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত
ঢালিউড3 weeks ago

শাকিব খানকে পেয়ে যা বললেন নতুন নায়িকা রোদেলা জান্নাত

আয়েশা আহমেদ
অন্যান্য2 weeks ago

আয়েশা আহমেদের আবারও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় সাফল্য

শাকিব খান ও রোদেলা জান্নাত। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা3 weeks ago

বুবলীর পর এবার সংবাদ পাঠিকা রোদেলা জান্নাতকে নায়িকা বানাচ্ছেন শাকিব খান

পায়েল চক্রবর্তী
টলিউড3 weeks ago

টালিউড অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঢালিউড3 weeks ago

এক হচ্ছেন শাকিব খান-নুসরাত ফারিয়া

শিনা চৌহান
অন্যান্য4 weeks ago

শিনা এখন ঢাকায়

অঞ্জু ঘোষ। ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউড3 weeks ago

যে কারণে অবশেষে ঢাকায় ফিরলেন চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষ

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
নির্বাহী সম্পাদক : এ বাকের
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম