Connect with us

মতামত

সিইসি, দয়া করে ‘সরকারী মাল দড়িয়া মে ঢাল’বেন না | মোমিন মেহেদী

Published

on

সিইসি, দয়া করে ‘সরকারী মাল দড়িয়া মে ঢাল’বেন না | মোমিন মেহেদী
সিইসি, দয়া করে ‘সরকারী মাল দড়িয়া মে ঢাল’বেন না | মোমিন মেহেদী

কাজের খবর নাইদ আকাজের শেষ নাই। শুনতে একটু খারাপ লাগলেও কথাগুলো বলতেই হচ্ছে বর্তমান সিইসির উদ্দেশ্যে। তা না হলে কিভাবে বাংলাদেশের মত একটি দেশের নির্বাচন কমিশন বাবুগিরি করার মত করে বলে যে, নির্বাচন কমিশনের ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং দতা উন্নয়ন কমিটি’তে পাঠানো হবে। এ কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। প্রস্তাবনাটি কমিশনের অনুমোদন পেলে তা বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রতিবেদন এ সংক্রান্ত কমিটির কাছে এখনও আসেনি। ওই প্রতিবেদন কমিটির কাছে আসার পর তা পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় প্রেরণ করা হবে।

কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে যে বক্তব্য পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে, সে বক্তব্যর পাশাপাশি আরো সত্য এই যে, বর্তমানে পদ ২৮৩৩টি, তা বাড়িয়ে ৮৬১৯টি এবং গাড়িসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাদি বাড়ানোর জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের প্রধান। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জনবল তিনগুণ করে মাঠপর্যায় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত ৫৯৪টি দফতরের জন্য ৫ হাজার ৭৮৬টি পদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ের ৫৯১টি দফতরে নতুন পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি কয়েকটি পদ বিলুপ্তিরও প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ইসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে ২ হাজার ৮৩৩টি। নতুন পদ যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়াবে ৮ হাজার ৬১৯টি। কিন্তু তাকে কি নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার কোন সুযোগ গড়ে উঠবে? এমন প্রশ্ন শুধু আমার নয়; কোটি জনতার। যারা জানে যে, সম্প্রতি কমিশন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘সাংগঠনিক কাঠামো এবং টিওঅ্যান্ডই সংশোধন’ বিষয়ক কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এতে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি গাড়িসহ আনুষঙ্গিক সুবিধাদি বাড়ানোরও কথা বলা হয়েছে। এমন প্রশ্নবোধক সময়ে উত্তর দেবেন সিইসি।

তিনি যদি একবারের জন্যও বলেন যে, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য করতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, তাহলে স্বাগত। কিন্তু যদি তা না হয়; তাহলে বলবো যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসিকে যতই শক্তিশালী করার কথা বলে এ উদ্যোগ হোক না কেন; এসব মূলত সরকারী অর্থ নষ্ট করার বাহানামাত্র। তা না হলে এমন দিনকানা দেশে, রাতকানা ইসিতে আবার জনবল বাড়ানোর কোন প্রয়োজন আছে না কি?

কোন প্রয়োজন নেই; কেননা, অতিতে নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম, সীমানা নির্ধারণ, ভোট কেন্দ্র স্থাপন, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তসহ যত উদ্যেগ নেয়া হয়েছে; প্রতিটি উদ্যেগে সরকারী অর্থ নষ্ট হয়েছে বৈ আর কোন ফায়দা হয় নি। বরং প্রতারণার শিকার হয়েছেন নাগরিকগণ। নতুন করে আর কোন প্রতারণা চাই না; যে কারনে নির্বাচন কমিশনে নতুন হাজার হাজার জনবল বাড়ানোর পক্ষেও নই আমি; এই জনবলকেই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুললে জোড়া-তালি মার্কা নির্বাচন সম্পন্œ সম্ভব। আর যদি জোড়া তালিহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে এগিয়ে আসলে জনবল বাড়ানো যেতে পারে। গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী ইসির সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে সরকারের প্রশাসন ক্যাডারের দু’জন কর্মকর্তা রয়েছেন। যুগ্ম সচিবের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা। নানা কারণ দেখিয়ে ওই পদে ইসির কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না।

এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। উপসচিবরা সরাসরি অতিরিক্ত সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিবের কাছে ফাইল নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া উপসচিবের ৮টি পদের মধ্যে তিনটিতে চলতি ও ৫টিতে নিয়মিত কর্মকর্তা রয়েছেন। সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে প্রেষণে পদায়ন করা হলে ইসির কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তিনি যোগ দেননি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের দফতরগুলোতে ৫ হাজার ১৯৬টি নতুন পদ সৃষ্টি ও বিদ্যমান পদের বিপরীতে জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে ৬৪টি জেলায় জাতীয় বেতন কাঠামোর ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৬৪টি ‘অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা’, একই গ্রেডে ‘সিনিয়র উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা’ ৫৩৫টি, দশম গ্রেডে ‘সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা’ এবং ১ হাজার ৭০টি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ তৃতীয় গ্রেডে, ৪৫টি সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ পঞ্চম গ্রেডে এবং অতিরিক্ত ২০টি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার পদ পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া অন্য পদগুলোর মধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ৪৫টি বাড়িয়ে ১২৮টি, অফিস সহকারীর পদ ৬১৭টি বাড়িয়ে ১ হাজার ১৮টি, অফিস সহায়ক ৮০টি থেকে ৬৬২টি বাড়িয়ে ৭৪২টি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এসব পদ সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। সারা দেশে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। ১০ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তার সবাই চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার ২০টি পদের মধ্যে বেশিরভাগই ফাঁকা। এছাড়া ১৯টি বড় জেলার ‘সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা’ পদে কর্মকর্তারা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন। অনেক উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার পদে অতিরিক্ত ও চলতি দায়িত্বে রয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি না দেয়ায় বছরের পর বছর অনেক কর্মকর্তা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং কাজে অনাগ্রহ বিরাজ করছে।

এছাড়া পদোন্নতি না হওয়ায় এবং চলতি দায়িত্বের সুযোগে তুলনামূলক অনেক জুনিয়র কর্মকর্তাকে তার সিনিয়র কর্মকর্তার উপরে পদায়ন করা হয়েছে। আবার সিনিয়র কর্মকর্তাকে তুলনামূলক ছোট জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। একই সাথে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। এ অনুবিভাগের বর্তমান পদসংখ্যা ৭২টি। প্রস্তাবে ২৬২টি পদ বাড়িয়ে ৩৩৪টি করার কথা বলা হয়েছে।

এতে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ৫টি নতুন পদ সৃষ্টি, পরিচালক পদ ২টি থেকে বাড়িয়ে ১০টি, সিস্টেম এনালিস্টের ১টি পদ বাড়িয়ে ৩টি, উপ-পরিচালক পদ ৪টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি, সহকারী পরিচালক ৮টি থেকে বাড়িয়ে ৪০টি এবং ২৫টি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ২০টি ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদ ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ৫৫টি, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদ ৮টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করার কথা বলা হয়েছে।

ইসির প্রশিক্ষণ পর্বে জনবল ৫৩টি থেকে বাড়িয়ে ১৮৫টি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নতুন ১৩২টি পদ বাড়ানো বা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অতিরিক্ত মহাপরিচালক, ২টি পরিচালক, ৫টি উপ-পরিচালক, ১৩টি সহকারী পরিচালক, একটি মেডিকেল অফিসার, ২০টি অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অথচ ভালোই চলছিলো নির্বাচন কমিশনের বর্তমান। তবু বাড়াবাড়ি চলছে নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে। এভাবে চলায় নির্বাচন কমিশনের ভেতরের অবস্থা নিয়ে অন্ধকারের রাস্তায় অগ্রসর হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রিয় বর্তমান। সেখানে নতুন করে পদয়ান, নিয়োগ আর বাড়াবাড়ির যে দহরম-মহরম চলছে; সেই পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মী হিসেবে বলতে চাই-আপাতত জনবল বাড়ানোর কিছু নেই। যা কাজ আছে, তা হলো প্রশিক্ষণ এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় আন্তরিক অবস্থান। তা না করে যদি ‘সরকারী মাল দড়িয়া মে ঢাল’-এর রাস্তায় অগ্রসর হয় ইসি; তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, আগামী নির্বাচনে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি বাজিয়ে দেশের বারোটা বাজাবে বকাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। যা আমরা চাই না।

আমরা চাই এই জনবলকেই সাজিয়ে-গুছিয়ে প্রশিক্ষিত করে-দক্ষ হিসেবে গড়ে এগিয়ে আসবেন সিইসির নেতৃত্বে ইসির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু শুধু টাকার শ্রাদ্ধ দেয়ার কোন কারণ আছে বলে অন্তত আমি মনে করি না…

 


মোমিন মেহেদী

চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি
ইমেইল : : mominmahadi@gmail.com
ফোন : 01712740015


বি.দ্র. : লেখা পাঠাতে rupalialo24x7@gmail.com ব্যবহার করুন

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও5 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম