fbpx
Connect with us

উপন্যাস

সুরুজ দ্য গ্রেট | সুধাংশু শেখর বিশ্বাস | পর্ব-২

Published

on

সুরুজ দ্য গ্রেট | সুধাংশু শেখর বিশ্বাস | পর্ব-২
সুরুজ দ্য গ্রেট | সুধাংশু শেখর বিশ্বাস | পর্ব-২
  • পূর্ব প্রকাশের পর

মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে দিন গুনি। অপোয় থাকি। কখন সুরুজ এসে বলবে – স্যার, আমি আর থাকবো না। বাড়ি চলে যাব।

দিন যায়, মাস যায়। সুরুজ কিছু বলে না। বছর গড়িয়ে যায়। তবু সুরুজ বাড়ি যাবার নাম করে না।

আশাহত হই। আমার ভবিষ্যৎবাণী যে অরে অরে ফলে যায়, উদাহরণসহ গিন্নিকে বুঝিয়ে দেবার মোম সুযোগ একটু একটু করে হাতছাড়া হয়ে যেতে থাকে।

সুরুজ গুনগুন করে গান গায়, আপন মনে কাজ করে। বলার সাথে সাথেই নাচ শুরু করে দেয়।
পড়াশুনা করতে চাস!
হ্যাঁ।
তাহলে স্কুলে ভর্তি হয়ে যা!
মহানন্দে রাজি হয় সুরুজ। ড্রাইভার বাদলকে দিয়ে বাসার কাছাকাছি মোহাম্মদপুরের একটা সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলাম।
ভাবসাব বদলে গেল সুরুজের।
টাইট জিন্সের প্যান্ট, বডি ফিটিং শার্ট পড়ে সে স্কুলে যায়। ডানহাতে ঘড়ি, চোখে সানগøাাস, বামহাতে ব্রেসলেট। এসব সে বাসায় পড়ে না। পকেটে করে নীচে নামে। গেটের বাইরে গিয়ে সবকিছু পড়ে রওনা দেয় স্কুলের দিকে। রিপোর্ট পাই কেয়ারটেকার এর কাছে।
ভাবি, ছোট মানুষ। শখ আহাদ তো থাকবেই। তবে গিন্নি টের পেলে খবর আছে। তাই আর বাসায় কাউকে জানাই না।

সুরুজের নাচের স্কিলটা জন্মগত। পায়ের স্টেপ, হাতের মুদ্রা অসাধারণ। মনে মনে ভাবি, একটু আধটু পড়তে শিখলে, দু’চার লাইন লিখতে পারলে একটা নাচের স্কুলে ভর্তি করে দেব।

জিজ্ঞেস করি – তোদের স্কুল ড্রেস নাই?
আছে।
কি রঙের?
নীল রঙের ফুলপ্যান্ট আর সাদা শার্ট।
ড্রেস ছাড়া স্কুলে যাস, ম্যাডাম কিছু বলে না?
না স্যার। জিজ্ঞেস করলে আপনার কথা বলি। ম্যাডামরা সব চুপ করে যায়।
বলিস কি! তুই তো দেখি মহা ধড়িবাজ। খবরদার, আমার নাম করে কাউকে কখনও আর কিছু বলবি না।
আচ্ছা, বলব না আর। স্যার, ধড়িবাজ মানে কি? খুব ভাল, তাই না স্যার? ম্যাডামরাও আমাকে অনেক ভাল বলে। প্রশ্রয়ের বিগলিত হাসি ঝুলে থাকে সুরুজের ঠোঁটে। আমি সরু চোখে ওর দিকে তাকাই।
স্কুল ড্রেস এর কথা বলিস নাই কেন এতদিন?

ঘাড় গোঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকে সে। উত্তর দেয় না। যেন স্যারের সামনে মুখ খোলা বিরাট অসম্মান এর কাজ।

পরদিনই বাদলকে দিয়ে সবকিছু কিনে আনা হোল। স্কুল ড্রেস পড়েই সুরুজকে যেতে হবে স্কুলে। নো সানগøাস, নো ব্রেসলেট। দুটোই সীজ করে নেয়া হোল। সুরুজের ভীষণ মন খারাপ।

কয়েকদিন পর বললাম – বই খাতা নিয়ে আয় তো। কি শিখলি, পরখ করে দেখি।
বইতে মলাট দেয়া। মলাটের উপরে লেখা নাম দেখে বিস্মিত হই। হাঁ করে তাকিয়ে থাকি।
যাচাই করার জন্য জিজ্ঞেস করি – বইয়ের উপরে নাম লিখে দিয়েছে কে?
কাসের ম্যাডাম।
ও আচ্ছা। স্কুলে তোর নাম কি?
মোঃ সুরুজ মিয়া। গড়গড় করে অবলীলায় বলে যায় সে। যেন ঠিকঠাক মতো বলতে পেরে আনন্দের সীমা নাই তার।
তুই কি মুসলমান? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি।
এ মা স্যার, কি যে বলেন। মুসলমান হতে যাব কোন দুঃখে? আমরা মা কালীর কঠিন ভক্ত।
হে কঠিন ভক্তিমান, আপনার নাম তাহলে মোঃ সুরুজ মিয়া কেন? মুসলমানদের নামের আগে মোঃ আর পরে মিয়া থাকে। কে দিয়েছে তোর এই নাম?

সে তার প্রথামতো ঘাড় গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকে। এসব অবান্তর প্রশ্ন যেন তার মাথায় ঢোকে না। মানুষটা সে সুরুজ, সুরুজই তো আছে। নামের আগে মোঃ থাকলেই কি আর পরে মিয়া থাকলেই বা কি! নামে কি আসে যায়!

মেজাজ গরম হতে থাকে। বাদলকে ফোন করি। কড়া ধমক দিয়ে জানতে চাই – স্কুলের খাতায় সুরুজের নাম কি দিয়েছো?
স্যার, ঠিক বলতে পারব না। আমি তো হেড মিস্ট্রেস ম্যাডামের কাছে আপনার কথা বলে ভর্তির টাকা পয়সা বুঝিয়ে দিয়ে ওকে রেখে এসেছিলাম। কেন স্যার, কোন সমস্যা! বিব্রত বাদল উত্তর দেয়।
সমস্যা তো বটেই। স্কুলের খাতায় ওর নাম উঠেছে মোঃ সুরুজ মিয়া।
বলেন কি স্যার! এমনটা হোল কি করে? কালই স্কুলে গিয়ে ম্যাডামকে এক হাত দেখে নিচ্ছি।
ম্যাডামকে দেখে আর কি হবে! নামটা শুধরে দিয়ে এসে আমাকে ধন্য করো।

ভাবতে বসি। সুযোগ যখন পাওয়া গেল, যুতসই একটা নাম দিয়ে দিলেই তো হয়!
সুরুজের পৈত্রিক পদবি হরিজন। এই পদবি থাকলে স্কুলে সুইপার হিসাবে ওকে হেয় চোখে দেখতে পারে। নামে কিবা আসে যায়? পদবিতেই বা কি? মানুষটাই তো আসল। ওর নাম হোক তাহলে সূর্য নারায়ন রায় চৌধুরী।

গালভরা একটা নাম দিতে পেরে বড়ই আত্মপ্রসাদ লাভ করি।

সকাল সকাল বাদল এসে হাজির। কাগজটা এগিয়ে দিয়ে বলি – দেখ তো, নামটা কেমন!
নামটা তো স্যার ভালই। বেশ ওজনদার। কার নাম এটা?
সুরুজের। কেমন হবে?
হবে তো স্যার ভালই। তবে যদি অভয় দেন।
অভয় দিলাম। নির্ভয়েই বল তুমি।
স্যার, একটু যেন বাড়াবাড়ি হয়ে গেল!
কি রকম?
ওজনটা বড্ড বেশি হয়ে গেল। রোগা পাতলা সুরুজের পে বহন করা কঠিন হবে।
বাদলের বলার ঢং এ আমি হেসে ফেলি।
ঠিক আছে। বললে যখন, ভার না হয় একটু কমিয়ে ফেল। মাঝখানের নারায়নটা বাদ দিয়ে দাও।
বাদই যখন দিবেন, তখন স্যার আর একটু হালকা করে দেন। ওর সুবিধে হবে।
বলে ফেল। কি করলে সুবিধা হবে!
চৌধুরিটাও বাদ দিয়ে দেন স্যার। সূর্য রায়ই যথেষ্ট। আজকাল তো সবাই ছোট নামই রাখে।
আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে এক কাজ কর। মাঝখানে একটা কুমার বসিয়ে দাও।
সুরুজ হরিজন স্কুলের খাতায় মোঃ সুরুজ মিয়ার পরিবর্তে হয়ে গেল সূর্য কুমার রায়।
  • চলবে…

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গ্লিটজ2 weeks ago

সিনেমার প্রচারণায় ক্রিকেট ম্যাচ!

অপু বিশ্বাসের নাচের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)
ঢালিউড1 week ago

অপু বিশ্বাসের নাচের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

গ্লিটজ2 weeks ago

এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শাকিব খান-ডিএ তায়েব প্যানেল!

অন্যান্য2 weeks ago

সাংবাদিক নয়, ইউটিউবার ভেবে ক্ষিপ্ত হন শাকিব খান

টালিউডের বিচ্ছেদ হওয়া যত নায়িকারা! ৫ নম্বরটা জানলে অবাক হবেন!
ঘটনা রটনা2 weeks ago

টালিউডের বিচ্ছেদ হওয়া যত নায়িকারা! ৫ নম্বরটা জানলে অবাক হবেন!

ইয়োগা
স্বাস্থ্য2 weeks ago

ইয়োগা বিষয়ে যে ৮টি তথ্য কেউ দেবে না আপনাকে

সুস্থ থাকতে চাইলে তাড়াতাড়ি বিয়ে করুন
সম্পর্ক2 weeks ago

সুস্থ থাকতে চাইলে তাড়াতাড়ি বিয়ে করুন

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো
সম্পর্ক2 weeks ago

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো

নিকুল কুমার মণ্ডল
গ্লিটজ1 week ago

তিন ছবি আমার জীবন বদলে দিয়েছে :নিকুল কুমার মণ্ডল

শাকিব খান
ঢালিউড2 weeks ago

গুঞ্জন নয়, এবার সত্যি নির্বাচন করছেন শাকিব খান

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম