Connect with us

উপন্যাস

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০৯

Published

on

কফিমেকার
  • পূর্ব প্রকাশের পর

পাসপোর্টে তেমন দূষণীয় কিছু নেই। এত দেশ থাকতে হঠাৎ বাংলাদেশে কেন জানতে চাইলে ভালমানুষের মতো জেমিইনা বলল, কেন, বেড়াতে। উই টুর দ্য ওয়ার্ল্ড। ইটস অ্যা পার্ট অফ দ্যাট টুয়ার!
তোমাদের সাথে অ্যাডিকটিভ কিছু আছে কি? মামুলি প্রশ্ন করেন ডিসি অলোকেশ।
নেই তো। বিশ্বাস না হয় চেক করো। মেশিনে দাও।
অলোকেশ ভাবলেন, এদের বডি চেক করা ঠিক হবে কি না। ইদানিং অবশ্য দেহে লুকিয়ে বহনের ঘটনা খুব বেড়ে গেছে। স্রেফ সন্দেহের বশে কিছু করা ঠিক হবে কি না….! স্থির করতে পারছেন না তিনি।
এবার অলোকেশ সরাসরি ওদের চোখের দিকে তাকালেন। বলা যায় সম্মোহনের চেষ্টা। অলোকেশ জানেন, যত বড় জাঁদরেল অপরাধীই হোক, জেরার সামনে কিছুটা হলেও টসকায়। কপালে ঘাম, নয়তো কণ্ঠে জড়তা। কিছু একটা অস্বাভাবিকতা আসবেই আসবে।
কবে এসেছো ঢাকায়! আবারও মামুলি প্রশ্ন।

টেন ডেজ ব্যাক! টিমি বলল। বয়স কারো পঞ্চাশের কম নয়। এই বয়সী লোকদের চট করে সন্দেহ করা বা ভব্যতাবর্জিত আচরণ করা যায় না।
মাত্র দশদিনের টুর! কিছু একটা হিসেব কষেন অলোকেশ। এখানে কোথায় ছিলেন আপনারা? কোন্ হোটেলে? ফের জানতে চান।
জেমিইনা কিছু বলতে গিয়ে থমকায়। তো তো করে বলল, বেস্ট ওয়েস্টিন। কিন্তু সে বলার আগেই টিমি বলে, লা ভিনচি! দুজন দুজায়গায় ছিল কি! হতেই পারে। কিন্তু একযাত্রায় পৃথক ফল! হয় কখনও? এদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী নয়, স্রেফ বন্ধুত্ব! স্পাউজ না হোক, ভিনদেশে এসে একজন মহিলা একা একা হোটেলে থাকবে! হিসেবটা যেন ঠিক মিলছে না।
ঠিক করে বলো কোথায় ছিলে তোমরা? গলা চড়িয়ে জানতে চান অলোকেশ। এমনও হতে পারে, কারো হয়তো নাম মনে নেই। মাত্র দশদিনের ব্যাপার, এটুকু ভুল হতেই পারে।
বেস্ট ওয়েস্টিন! জোর দিয়ে বলল জেমিইনা। প্রটেস্ট করে টিমি, না, লা ভিনচি। সহসা চোখ টিপলো জেমিইনা। অন্য কেউ না দেখলেও ঠিক দেখে নিলেন অলোকেশ। তিনি নিশ্চিত, এখানে রহস্য কিছু আছে।
এবার তিনি ভিন্ন পথ ধরলেন। এনএসআই ফিল্ড অফিসার আরিফকে ডেকে নিয়ে বললেন, উই নিড টু ইনটেরোগেট দেম, সেপারেটলি। ইফ নিডেড, ক্রসভেরিফাই হোয়াট দে সে।
ওকে স্যার! ঘাড় নাড়লো আরিফ।

আবারও জেরা করা হল। বিস্তারিত। শুধু তাই নয়, তুণি অলোকেশ হোটেল বেস্ট ওয়েস্টিন ও লা ভিনচিতে ফোন করলেন। মজার ব্যাপার হল, ওদের অবস্থানের কথা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তার মানে নিগ্রোরা এর কোন হোটেলেই থাকেনি, বা থাকলেও বেনামে থেকেছে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা মোটামুটি উড়িয়ে দেয়া যায়। কারণ বিদেশীদের প্রকৃত পরিচয় যাচাই না করে রুম বরাদ্দ দেয়া নিষেধ। অবশ্য নিয়ম থাকলেই বা তা মানছে কে!
অলোকেশ বুঝতে পারছে ওরা মিথ্যেকথা বলছে। কিন্তু কেন! হোটেলে থাকা নিয়ে ওদের এত লুকোছাপা কেন! হোয়াট ফর! মিস্ট্রিয়াস! সাথে সাথে ডিসিশান নেন, ওদের তল্লাশি নিতে হবে। আগাপাশতলা সব!
তাই করা হল। এখানে ডিসি অলোকেশের নির্দেশ অমান্য করে এমন সাহস কার! কিন্তু বাস্তবে কোন লাভ হল না। ওদের বডিতে কিছু নেই। এক্কেবারে ফকফকা!
কিছুটা হতোদ্যম অলোকেশ। তবে নিরাশ নন। সেন্ট পারসেন্ট সাক্সেস বলে কোন কথা নেই। ব্যর্থতা আছে বলেই তো সাফল্য এত মধুর! তাছাড়া ফেইলিওর ইজ দ্য পিলার অফ সাকসেস। যদিও এর ঠিক পরের অনুরোধ, প্লিজ ডোন্ট ইনক্রিজ দ্য নাম্বার অফ পিলারস!
টিমি-জেমিইনার ব্যাগেজ স্ক্যান করা হল। বেশ কয়েকবার। কিচ্ছু নেই। সবাই হতাশ। এবার এদের সসম্মানে ছেড়ে দিলেই হয়। ওদিকে ফাইট অ্যানাউন্স হয়ে গেছে। চেক-ইন শেষ, ইমিগ্রেশন চলছে। তাতে অবশ্য কিছু এসে যায় না। ডিসি অলোকেশের কাজ শেষ না হলে বিমান ফাই করবে না। উড়তে গেলে শুল্কবিভাগের গ্রিন সিগনাল চাই। যেন কাস্টমস ডিপার্টমেন্ট সুনীল আকাশের ইজারা নিয়ে রেখেছে।
তাই বলে বিনা কারণে এতগুলো প্যাসেঞ্জারের মূল্যবান সময় নষ্ট করার পপাতী নন অলোকেশ। যা করার চটজলদি করতে হবে। বাকিদের সরিয়ে দিয়ে এবার তিনি নিজে টিমির ট্রলার নিয়ে পড়লেন। উল্টোপাল্টে দেখলেন। ভেতরে রাখা কাপড়চোপড়, ডিওডোরন্ট, শেভিংকীট বের করে আলাদা আলাদ রাখলেন। আদার এজেন্সিস অবশ্য ইতোমধ্যে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তারা নিশ্চিত, নেহাতই সময় নষ্ট। মাদাগাস্কান যাত্রীদের সাথে নিষিদ্ধ কিছু নেই।

ব্যাগেজ নাড়াচাড়ার এক পর্যায়ে অলোকেশের নাকে বিজাতীয় কোন গন্ধ এলো। ব্যাগের ভিতর নাক ডুবিয়ে পুনরায় শুঁকছেন তিনি। বাকিরা হাসছে। কিন্তু অলোকেশের তাতে ভ্রুপে নেই। পাছে লোকে কী বলল তা নিয়ে ভাবতে এতটুকু আগ্রহ নেই এই চৌকস শুল্ক কর্মকর্তার। অকম্মারা চিরকালই হাসে, তাতে উপহাসের মজুদ বাড়ে কিন্তু দুনিয়ার কিছু এসে যায় না।
বললেন, দেখুন তো ডেল্টা, কোন গন্ধ পান?
কিসের গন্ধ স্যার! পুরনো সব কাপড়চোপড়। তাছাড়া শুনেছি ওরা ন’মাসে ছ’মাসে একবার গোসল করে। ওদের গা থেকে কেমন বিটকেল দুর্গন্ধ বেরোয়!
শোনাকথায় কান দেবেন না একদম। কিপ ইন মাইন্ড, অন্যের কথা শোনার জন্য গভর্নমেন্ট আপনাকে মাইনে দেয় না। নিজের মাথা খাটিয়ে কিছু করুন। আখেরে কাজে দেবে। বসের কাছে কড়া ধাতানি খেয়ে হুঁশ ফেরে ডেলটার।
ইয়েস স্যার, কেমন যেন চোখজ্বলা গন্ধ। তোতাপাখির মতো শব্দ বেরোয় ডেলটার কণ্ঠে।
তার মানে ঝাঁঝালো! আর কিছু?
ইয়েস স্যার। নাকের ভিতর দিয়ে গন্ধ টানার সময় কেমন শীতল একটা ভাব! যেন শরীরে আবেশের আবির্ভাব। সহসাই কাব্যিক হয়ে ওঠে ডেলটা।
এই তো বেশ বুলি ফুটেছে। ইউ আর রাইট ডেলটা। আমারও ঠিক অমন অনুভূতি হচ্ছে। এবার কিছু আইডিয়া মাথায় এলো?
কী ব্যাপারে স্যার?
ইওর হেড এন্ড মাই স্কাল! জাস্ট ইমপসিবল! বিরক্তিভরে আপন মনে আওড়ান আলোকেশ। সশব্দ বলেন, বলছিলাম, কিছু অনুমান করতে পারলেন?
ডেলটা অফ। কোন সাড়া নেই। মাইক ফোরটিন বলল, ট্রলিতে তো কিছু নেই। আপনি স্যার লুকোনো কিছুর কথা ভাবছেন?
এগ্জাক্টলি সো! ট্রলি ঠেলার এই রডে টোকা মেরে দেখুন। টনটন শব্দের বদলে কেমন ঢপ ঢপ করছে। তার মানে এখানে জিনিস আছে। সহসা গুমোর ফাঁস করলেন অলোকেশ।
সাথে সাথে সেপাই হ্যাকস এনে ঘচাঘচ কাটতে থাকে ট্রলির রড। তখন একটা কাণ্ড ঘটলো। চোখের পলকে পঞ্চাশোর্ধ মাদাগাস্কান মহিলা জেমিইনা মহিলা পুলিশের হাত ফসকে দে ছুট।
এই ধর ধর ধর! শোরগোল উঠলো। ততণে মহিলা হাওয়া। হাওয়া মানে গেট থেকে বেরিয়ে দুখানা গাড়ির সামনে দিয়ে ঝেড়ে দৌড়। এক ছুটে রাস্তার ওপারে। আর তাকে পায় কে?
ওই রে, গেল রে! গেল গেল! জনতার কলরব।
জেমিইনা একটা চলন্ত গাড়ির তলায় পড়তে পড়তে বেঁচে গেল! তারপর মিশে গেল ওখানে স্বজনদের রিসিভ করতে অপেমাণ জনতার ভিড়ে! কিন্তু এদিকে টিমির কী হল! চুন্নি বান্ধবীর দেখাদেখি সেও ছুট লাগিয়েছিল। কিন্তু ডিসি অলোকেশ তৈরি। ব্যাগেজ ফেলে টিমি তার সামনে দিয়ে দৌড় দিতেই তেরছাভাবে পা পেতে দিলেন। যাকে বলে ল্যাং। ছোটবেলায় অলোকেশ এই ল্যাং মারা বিদ্যেটা বেশ ভালই রপ্ত করেছেন। এখনও মারেন। কলিগদের, যারা প্রফেশনাল সিকোফ্যান্ট, মানে তেল মেরে মেরে পোস্টিং বাগায়। সামনে পেছনে দুরকম স্ট্যান্ডার্ড মেনটেন করে। সোজা কথায় ব্যক্তিত্বহীন মোনাফেক!

অলোকেশের ল্যাং খেয়ে দমাড় শব্দে মুখ থুবড়ে পড়লো টিমি। কিন্তু রহস্যের এখানেই শেষ নয়। ট্রলির পুশ-রড কেটে যা বেরোল তাকে বাংলাভাষায় বলে টুথপেস্ট। দুখানা ট্রলির রডে লুকানো ছিল মোট দশটা পেস্টটিউব। প্রতিটি টিউবের ওজন কম করে হলেও দুশগ্রাম। সেই হিসেবে মোট পেস্টের পরিমাণ দু কেজি।
কী আছে এতে? জানতে চান অলোকেশ। মিউ মিউ করে টিমি কী বলে বোঝা ভার। তার ঠোঁট কেটে ফুলে ঢোল।
অলোকেশের অনুমান নেশাজাতীয় কিছু। এয়ারপোর্ট নারকোটিক বিভাগের দায়িত্বরত সুপার এলেন। দেখেশুনে ইনিশিয়াল টেস্ট করে মতামত দিলেন, ‘ইহা কোকেন!’
এভাবে স্রেফ শুঁকে শুঁকে দু’কেজি কোকেন উদ্ধার করলেন ডেপুটি কমিশনার অফ কাস্টমস অলোকেশ রয়, যার বাজার মূল্য কম করে হলেও আড়াই কোটি টাকা।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও5 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম