Connect with us

উপন্যাস

মা আমার শ্রাবণের আকাশ | মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন -এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০২

Published

on

মা আমার শ্রাবণের আকাশ

পূর্ব প্রকাশের পর

মা আমার শ্রাবণের আকাশ | মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন -এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-০২

সন্ধ্যাবেলা চা খেতে খেতে গল্প করছিলেন নিহার ফুপু, রাজন আর সুমি।

‘সাবিরকে সারা দিন দেখলাম না, ও কোথায়?’ সুমিকে জিগ্যেস করল রাজন।
‘ফুটবল কোচিং করছে ও। এতক্ষণে তো চলে আসার কথা!’
‘মোবাইলে কল করে দেখ তো,’ নিহার ফুপু বললেন।

সাবিরের বয়স অক্টোবরের ৫ তারিখে সতেরো হবে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা। এবারই দেবার কথা ছিল কিন্তু ওর পরীক্ষা চলাকালীন মা মারা যাওয়ায় আর পরীক্ষার হলে যায়নি সে।

‘রাজন তুই কি আর কয়েকটা দিন থেকে যেতে পারিস?’ নিহার ফুপু জানতে চাইলেন।
‘কেন ফুপু?’
‘এরিখের এক জুনিয়র অফিসার সুমিকে পছন্দ করেছে। ওর নাম মেজর ইকবাল। ওর মা-বাবা সুমিকে দেখতে চান। ওদের বাড়ি টাঙ্গাইল। টাঙ্গাইলের মানুষ ভালো হয়। তুই আর তোর বাবা রাজি হলে ওরা বরিশালে আসবে। সার্কিট হাউসে এসে উঠবে।’
ফুপু আরো বললেন, ‘তোর বাবার দেওয়া এই বড়ো দায়িত্বটা পালন করে যেন যেতে পারি।’
রাজন প্রশ্নবিদ্ধ চোখে সুমির দিকে তাকাল।
‘ভাইয়া, তোমরাই দেখো। বাবার সঙ্গে কথা বলো।’ সুমির নির্লিপ্ত উত্তর।
সুমি এত সহজে বিয়েতে রাজি হবে, রাজন তা বুঝতে পারেনি।
ফুপু বললেন, ‘আজ ছেলের বাবা আমাকে ফোন করেছিলেন। কথাবার্তায় বেশ ভালো মানুষ বলেই মনে হলো। আর মজার কথা কী জানিস, আমাকে বলল আপনি যে বরিশালের মানুষ, কথায় তো বোঝা যায় না। ওই ভাষা জানেন না? আমি বললাম, আমার বাপ-দাদার জন্ম পশ্চিম বাংলার রানাঘাটে। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর আমার দাদা বরিশালে চলে আসেন। আর রাজনের মা তো বাপের দিক থেকে কুষ্টিয়ার। পারিবারিকভাবে তাই বরিশালের মিষ্টি ভাষাটা খুব কম ব্যবহার করা হয়। উনি হাসতে হাসতে বললেন, কোনো অসুবিধা নেই, আমার ছেলে শিখে নেবে।’
বলে রাজনের গম্ভীর ফুপু শিশুর মতো হাসলেন।

‘ফুপু, এত তাড়াতাড়ি বোনকে বিদায় দিতে ইচ্ছা করছে না। সুমি থাকলে বাসায় আমি মাকে কাছে পাই। সুমি তো মায়ের মতোই দেখতে। আর কটা বছর যাক না, ফুপু!’
‘বাবা রে, মা-মরা মেয়েমানুষের ভালো পাত্র সহজে আসে না। তুই তোর বাবার সঙ্গে একটু কথা বল। আমিও বলব। পাত্রপক্ষ মেয়ে দেখতে আসবে, এর মানে এই না যে আমাদের পছন্দ না হলেও মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেব।’

নিহার ফুপু নিচে চলে গেলেন। সুমিও চলে যাচ্ছিল। কিছুটা গিয়ে আবার ফিরে এসে রাজনকে জিগ্যেস করল, ‘ভাইয়া, বাবা কবে আসবে?’
‘১১ তারিখ সকালে, তোর জন্মদিনের গিফট হয়ে!’ খুশিতে ঝিকমিক করে উঠল সুমির দুটি চোখ। আর কেউ থাকুক বা না থাকুক, সুমির জন্মদিনে বাবাকে ওর চাই-ই চাই। গত একুশ বছর ধরে বাবা অন্য কিছু ভুলে গেলেও ১১ আগস্ট কখনো ভোলেন না। এবার আসন্ন ওর ২২তম জন্মদিনেও ভুলেন নি। ওর বাবা এখন চিল্লায়। চিল্লায় ৪০ দিন কাটাতে হয়। কিন্তু রাজনের বাবা তাঁর একমাত্র মেয়ের জন্মদিনের কারণে ২৮ দিন কাটিয়েই চলে আসছেন। রাজনের বাবা গত ২২ বছর ধরে প্রতিবছর ১১ আগস্ট গোরু জবাই দেন। প্রথম পাঁচ-ছয় বছর মাংস বিলিয়ে দিয়েছেন। একবার রাজনের মা ওর বাবাকে বাবুর্চি ডেকে রান্না করা খাবার বিলিয়ে দেবার জন্য বললেন। তার পর থেকে প্রতিবছর সুমির জন্মদিনে মাংস আর খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করছেন।

ওয়াহাব চাচা একটা গোরু কিনে রেখেছেন। গোরুটি ‘হোসেনদার’ বাসায় রাখা আছে। হোসেন মিয়া দুধ ও সবজিবিক্রেতা। রাজন ছোটোবেলা ওনাকে ‘হোসেনদা কাকা’ বলে ডাকত। ওর বাবা তাঁকে ‘হোসেন দা’ নামে ডাকত বলে ও মনে করত ওটাই বোধহয় তাঁর নাম।
বাকি সব সরঞ্জাম নিহার ফুপু ব্যবস্থা করেছেন। পোটকা বাবুর্চিকে বলা হয়েছে (পেট মোটার কারণে এই নামেই উনি পরিচিত, ওনার আসল নাম ‘সালাম’ বিলুপ্তির পথে)। উনি ১১ তারিখ সকালে আসবেন। আজ বিকেলে উনি নিহার খালার সঙ্গে সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গেছেন।

একবার সুমির জন্মদিনের কিছু দিন আগে ওর বাবা ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা গিয়েছিলেন। সুমির বয়স তখন নয় বছর। জন্মদিনের সকাল থেকেই সুমির মন খারাপ। মাকে বারবার বিরক্ত করছে, ‘মা, বাবা আসবে না?’
মা কপট রাগ করে বলেছিলেন, ‘না।’
ওর বাবা আসলে ওই দিন বিকেলে আসবেন। মা আগে থেকেই তা জানতেন। সুমিকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বাবা-মা মিলে প্ল্যান করেছিলেন। সুমি এসব ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। বাবা বাসায় এসে বড়ো একটা কার্টনের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। ওটাকে ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখেন ওর মা, যেন একটা গিফট পার্সেল। এরপর পেছন থেকে দুহাতে চোখ ঢেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন মা। তারপর মেয়ের চোখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে বলেন, ‘তোমার জন্মদিনের গিফট।’
‘এত বড়ো কী এটা? বাবা পাঠিয়েছে?’
বলতে বলতে প্যাকেট খুলে ফেলল সে। সুমি আর রাজন তো কার্টনের ভেতর বাবাকে দেখে হতবাক! মেয়ে তো আবেগে কেঁদেই ফেলল। মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বাবাও শরিক হলেন তার সঙ্গে।

আর এক সপ্তাহ পর সুমির ২২তম জন্মদিন। রাজন কাল ঢাকা না গিয়ে বরিশালে থেকে যাবার জন্য ভাবছিল। কিন্তু সামনেই একটা কুইজ আছে। দুটো কুইজ মিস করেছে গত ছয় মাসে। আর মিস করা যাবে না। তার চেয়ে ১১ তারিখ এক দিনের জন্য বাড়িতে আসা যায় কি না ভাবছে রাজন।

‘শিউলি এসেছিল বিকেলে। তোমার কাছে ফিজিক্স পড়তে চায়,’ সুমি বলল রাজনকে।
‘এবার আর সময় কই?’
শিউলি রাজনদের পাশের বাসার নীলা খালার বড়ো মেয়ে। সামনে ওর এসএসসি পরীক্ষা, সাবিরের সঙ্গেই।
রাজন বলল, ‘সেপ্টেম্বরে দশ দিনের ছুটি আছে, ওই সময় দেখব।’
‘ও নিচে বসা আছে পাঠিয়ে দিচ্ছি, তুমি বলে দিয়ো।’
মুচকি হেসে নিচে চলে গেল সুমি। রাজন বুঝল ও মজা করছে।
শিউলির বয়স যখন সাত বছর, তখনকার একটি ঘটনার কথা মনে করে হাসল রাজন। রাজনের বয়স তখন চোদ্দো। শিউলির প্রথম যখন দাঁত পড়ল, ওর দাঁতটা একটা কাগজে পেঁচিয়ে রাজনকে দিয়ে বলল, ‘রাজন ভাইয়া খুলে দেখো।’
রাজন খুলে দেখল ওর দাঁত আর দুই লাইনের একটি চিঠি। চিঠি না বলে ‘উইশ’ বলা যায়। আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে লেখা। ‘হে আল্লাহ, আমার দাঁতের বদলে আমাকে বড়ো হলে তারা বানাবা। রাজন ভাইয়া তারা অনেক পছন্দ করে।’
রাজন বলল, ‘কী করব এটা শিউলি? জাইল্লা বাড়ির পুলে গিয়ে খালে ফেলে দিয়ে আসব?’
‘না না ওপরের মাড়ির দাঁত পড়লে মাটির নিচে চাপা দিতে হয়।’
‘আর নিচের মাড়ির দাঁত পড়লে?’
‘পুকুরে ফেলতে হয়।’
‘খালে না?’
‘না তো, খালে না।’

শিউলি আর সুমি দুজন দুজনকে খুব পছন্দ করে। ওদের মা মারা যাবার পর শিউলি ওর ‘সুমি আপুর’ সঙ্গে কয়েকটা রাতও কাটিয়েছে। সে সময় কিছুক্ষণ পরপর শিউলি জানতে চাইত, রাজন ভাইয়া খেয়েছে কি না। বুদ্ধিমান রাজন বুঝতে পারত শিউলির অনুভূতি। কিন্তু সে কখনো কিছু বলেনি। গম্ভীর স্বভাবের রাজন ভাবত, এটা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা করা ঠিক নয়।

রাজন ছোটোবেলার কথা ভাবতে ভাবতেই বাসার সামনের রাস্তায় কে যেন হেঁটে গেল। তখনই তার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। তার রিং টোনটা ব্রেভহার্ট সিনেমার থিম সং। রাজন এই ছবিটি ওর মা-বাবার সঙ্গে দেখেছিল ওর এইচএসসি পরীক্ষার পর। ওর ছিল তখন অখণ্ড অবসর। বাসায় কোথাও যেতে চাইত না সে। ওর মা বিরক্ত হয়ে বলতেন, ‘আমার আঁচলের নিচে কতদিন থাকবি। ইউনিভার্সিটির হলে তো নিজের হাতেই মশারি টানাতে হবে।’ ছোটোবেলায় রাজন ওর মার রিকশার পেছনে কাঁদতে কাঁদতে অনেক দূর পর্যন্ত দৌড়ে যেত, মার সঙ্গে যাবে বলে।
এইচএসসি পরীক্ষার পর কোনো এক বিকেলে এই ‘ব্রেভহার্ট’ সিনেমাটি দেখছিল ওর মা আর বাবার সঙ্গে স্টার মুভিজ চ্যানেলে। বাবার নির্দেশ ছিল কোনো আপত্তিকর দৃশ্য থাকলে চোখে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে থাকতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত বাবা ‘রিজিউম’ না বলেন। একাধিক ‘রিজিউম’ হলে সিনেমা বাতিল করে দিতেন বাবা। তবে এরকম ‘রিজিউম’ওয়ালা ছবির আশঙ্কা থাকলে রাজন নিজেই দেখত না। ‘ব্রেভহার্ট’ সিনেমার একটি দৃশ্যে হিরো নিশুতি রাতে একটা বাগানে শুয়ে ওর মৃত স্ত্রীকে স্বপ্ন দেখে। বিয়ের দিনই ওর স্ত্রীকে মেরে ফেলে শত্রুরা। স্বপ্নে মেয়েটি হিরোর দিকে হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে। মুখে তার মৃদু হাসি, দুই চোখে তার ভালোবাসার প্লাবন। স্বপ্নের মধ্যেই হিরোটির ঘুম ভেঙে সদ্যমৃত স্ত্রীকে জিগ্যেস করে, ‘অ্যাম আই ড্রিমিং?’ মেয়েটি বলল, ‘ ইয়েস ইউ আর!’ ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল হৃদয় তোলপাড় করা মিউজিক। রাজনের বাবা আপ্রাণ চেষ্টা করেও নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারলেন না। হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠলেন।
বাবা চলে যাবার পর রাজন বলল, ‘মা তুমি ১০০ বছর না বাঁচলে বাবাকে বাঁচানো যাবে না।’ মা বললেন, ‘আল্লাহ যেন তোর বাবার আগে আমাকে না নেন। তোর বাবার মতো সরল লোক আমার মৃত্যু সহ্য করতে পারবে না। কবরে থেকে আমিও শান্তি পাব না।’
মায়ের পাশে কাজ করছিলেন ‘রেবার মা’ খালা। খালা রাজনের মাকে কাজে সহযোগিতা করেন। একবার উনি মাকে বললেন, ‘এইডা কী কন আফা! পুরুষ মানুষ চেনেন না। বউ আগে মরলে লগে লগে আর এউক্কা বিয়া কইরা হালায়।’
রাজনের বাবা-মা তাঁকে ‘রেবার মা’ ডাকলেও, রাজনরা ডাকত খালা বলে। ওর মায়ের নির্দেশ ছিল। ওদের মা ‘বুয়া’ বা ‘কাজের মহিলা’ বলতে দিতেন না। আরো নির্দেশ ছিল, ওরা চেয়ারে-সোফায় বসবে। বাড়িতে সবার মতোই টেবিল-চেয়ারে বসে খাবে। আড়ালে-আবডালে, রান্নাঘরে, মাটিতে বা পিঁড়িতে বসে নয় কিংবা আলাদা, পুরোনো বা ভাঙা কাপ-পিরিচে নয়, মেহমানদের মতো একই কাপ-পিরিচে খাবে। ওদের বাচ্চাদের ‘তুই’ করে বলতে পারবে না কেউ, ‘তুমি’ করে বলতে হবে ইত্যাদি। মা অ্যালার্ট করে দিয়ে বলতেন, ‘এতে যদি ওরা মাথায়ও ওঠে’ তার পরও নিয়ম যেন শিথিল না হয়। রেবার মা অনেক আগে একদিন কাজ শেষ করে বাসায় যাবার সময় হঠাৎ তার আঁচল থেকে লুকোনো কয়েকটা আলু মাটিতে পড়ে যায়। একেবারে রাজনের মার সামনে। ‘আর কী আছে লুকানো?’ মা জানতে চাইলেন। রেবার মা একটা ডিম বের করলেন, ‘তুমি না বলে এগুলো নিচ্ছ কেন? না বলে নেওয়া তো চুরি!’
‘মাফ কইররা দেন আফা, আমার ছোডো মাইয়াডা আলুর খিচুড়ি আর ডিম ভাজি খাইতে চাইছে, হের লইগ্গা না কইয়া লইছি। আর করমু না।’
‘ঠিক আছে মনে থাকে যেন।’ মা তার কাছে থেকে আলু ডিম নিয়ে রেখে দিলেন রান্নাঘরে।

রাজনের মা নিজ হাতে ডাল-আলু দিয়ে খিচুড়ি, গোরুর মাংস আর ভুনা ডিম রান্না করে টিফিন ক্যারিয়ারে ভরে রেবার মার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ‘আফা রে আমার আফা’ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন রেবার মা। মা বললেন, ‘টিফিন ক্যারিয়ারটা কাল সকালে নিয়ে এসো।’
রাজনের মা তাঁর সন্তানদের বলতেন, ওরা যখন বড়ো হবে, সবাইকে তার দেওয়া নিয়ম পালন করে যেতে হবে। ‘হোসেনদার’ মতো রাজন মনে করত, ‘রেবার মা’ বুঝি ওনার নাম। তাকে ‘রেবার মা খালা’ বলত। ওর দেখাদেখি সুমি ও সাবিরও তাকে ওই একই নামে ডাকত। আজ সকালে ‘রেবার মা খালা’ রাজনকে ‘আপনি’ সম্বোধন করে কথা বলছিলেন। রাজন জানতে চাইল, ‘আপনি করে বলছেন কেন?’
‘ডাঙ্গর হইয়া গেছেন, কত পড়ালেহা করেন?’
‘খালা, আপনি ছোটোবেলা থেকে আমাকে তুমি করে বলতেন, এখনো তা-ই করবেন। “আপনি” করে বললে আমি কথা বলব না।’
‘আহা রে মা-মরা পোলাডা আমার!’ রেবার মা বললেন। যেতে যেতে স্বগতোক্তি করলেন, ‘এই বাড়ির হগলডি একই রহমের।’
সুমি পরে রাজনকে বলেছিল যে রেবার মা তার কাছে কেঁদে কেঁদে ওর মাকে স্মরণ করছিলেন। সুমিকেও তিনি আপনি করে বলছিলেন। সেও রাজনের মতো একই ভাষায় ‘আপনি’ বলতে নিষেধ করার পর রেবার মা বলেছিলেন, ‘হগল পোলাপাইন একই রহমের। এই রহম পোলাপানের মা-বাবাগো আল্লায় য্যানো হায়াত দিয়া পাডায়।’
রাজনের এসব কথা ভাবতে ভাবতে এশার আজান ভেসে এল।কখন যেন হালকা মেঘ জমে গিয়েছিল রাতের আকাশে। আবীর রং আর শ্রাবণের মেঘ কেটে আকাশ একটু একটু করে পরিষ্কার হলো। একটা একটা করে অসংখ্য মিটিমিটি তারা জ্বলে উঠল। পশ্চিম আকাশের সবচেয়ে জ্বলজ্বলে তারাটি দেখে মনে পড়ল, মা বলতেন, ওই তারাটার অনেক নাম- ‘সন্ধ্যাতারা, ধ্রুবতারা, স্বাতীতারা, শুকতারা।’ রিমঝিম বর্ষার আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ওই বিমুগ্ধ তারাটিকে খুব বেশি দেখা যায় না, আবার চলেও যায় না। ও শুধু মেঘের আড়ালে ঢাকা। রাজন ওর মায়ের কাছে জানতে ইচ্ছে করছে, ‘দুই মাসের বরষা মাঝে মাঝে এত দীর্ঘ হয় কেন? মা আমার শ্রাবণের আকাশ, বলো তোমার বুকে কোন তারাটি আমি?

রাজনের চোখ ভিজে উঠল। হাত দিয়ে মুছে নিল চোখের জল। ও জানে ছেলেদের কাঁদতে হয় একা একা।

দোতলার বারান্দায় উদাস বসে থাকতে থাকতে, এক সময় নিচতলা থেকে মিষ্টি একটা গানের সুর ভেসে এল ‘আকাশ খুলে বসে আছি’। সুমি গাইছে খালি গলায়।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও5 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম