Connect with us

রূপালী আলো

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-১১

Published

on

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-১১

কফিমেকার | অরুণ কুমার বিশ্বাস-এর ধারাবাহিক উপন্যাস | পর্ব-১১

অলোকেশের মনে হল, ফারহান আহমেদও একটু আলাদা যতœআত্তি চান। মানে কেউ যদি তার লাগেজগুলো অ্যারাইভাল লাউঞ্জ অব্দি এগিয়ে দেয়। অলোকেশ মনস্তাত্ত্বিক নন, তাও এটুকু বুঝতে বোধ হয় খুব বেশি মগজ ঢালতে হয় না।
অলোকেশ এখন আপদ বিদায় করতে চান। ভদ্রতারও একটা মাত্রা থাকে। বড়কুটুমের আঠায় টান ধরেছে। ¯্রফে আমলা দিয়ে মামলা ঠা-া হবে না। অলোকেশ কষা গলায় বললেন, ইউ নিড এনি হেল্প, মিস্টার ফারহান?

নো স্যার। আমি বলছিলাম কফির কথা। ইউ হ্যাভ গট অ্যা ভেরি গুড ব্লেন্ড। ভেরি ট্রু টেস্ট। কলাম্বিয়ান লাত্তে নিশ্চয়ই ?
নো, ইট্স জাস্ট মোক্কা! কোস্তা ব্রান্ড। এই মুহূর্তে ভদ্রতার মুখোশ এঁটে রাখা অলোকেশের জন্য অসম্ভব প্রায়। তাকে এবার সত্যি উঠতে হবে।
ফারহান হাসলেন। ও আই সি। ভাল। ভেরি গুড ইনডিড। আই হ্যাভ সাম ট্রু কলাম্বিয়ান ব্লেন্ড। মে আই অফার সাম …..?
ফারহান তার সাইডব্যাগখানা টেনে টেবিলের উপরে তুললেন। অলোকেশের অনুমতি বা অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই কফির কয়েকটা শ্যাচেল বা প্যাকেট বের করলেন।

আহা হা … এসব কী! নো নিড স্যার। আমি কোন কফি চাই না। শশব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ান অলোকেশ।
নিন স্যার। খেয়ে দেখুন! ভাল লাগবে। ঠিকঠাক রোস্টেড পড্স। খাঁটি কলাম্বিয়ান। স্বরে গর্ব ধরে রেখে ফারহান বললেন।
পড্স! বিন্স নয়! ভ্রু কোঁচকান জেসি অলোকেশ। তার কপালের ভাঁজে কৌটিল্যের ছোঁয়া। তবে তিনি তা মুখে প্রকাশ করলেন না।
ভদ্রলোকের এই অযাচিত চাপাচাপিতে কুণ্ঠিত অলোকেশের হঠাৎই একটা গল্প মনে পড়ে যায়। সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছেন- সেই ঝা-ুদার কথা। চুঙ্গিঘরে রসগোল্লা খেয়ে শুল্ক কর্মকর্তার পুরো আড়াই মিনিট বুঁদ হয়ে থাকার কথা ভেবে ফিক্ করে হেসে ফেললেন অলোকেশ। ব্যাটা তাকে রসলোভী ঝা-ুদা পেয়েছে নাকি! কায়দা করে বেশুমার কফির লোভ দেখায়!
মেঘ না চাইতে আইসক্রিমের মতো ডজনখানেক কফির প্যাকেট অলোকেশের টেবিলে রেখেই ঝট করে উঠে পড়লেন ফারহান আহমেদ। ভদ্রতার খাতিরে বা অন্যবিধ কারণে জয়েন্ট কমিশনার অফ কাস্টমস অলোকেশ রয়ও উঠে এলেন তার পিছুপিছু।
ভদ্রলোক দ্রুত ছুটছেন গ্রিনচ্যানেলের দিকে। যেন তার বেশ তাড়া। ছুটছেন অলোকেশও। অনেকটা চেজ করার মতো। ফারহানের ছোটার গতি বেশি। যেন গ্যালপিং। যাকে বলে ঘোড়ার গতি। ফলে পিছিয়ে পড়েন অলোকেশ।
ভাই একটু দাঁড়ান। আপনার কফির পাকেটগুলো নিয়ে যান। স্বরে বাড়তি তেজ মেখে নিয়ে অলোকেশ বললেন।
থামলেন ফরহাদ। মিষ্টি হেসে বললেন, কফি ফেরত নেব কেন! ওগুলো আপনার জন্য। ধরুন একজন সুলেখকের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
তাই বলে কফি ? না না, নিয়ে যান এসব। লোকাল ব্র্যান্ড আমার পছন্দ। অলোকেশ ফের বললেন।
সে কি স্যার! এত ভাল মাল আপনি সচরাচর পাবেন না। নাইসলি ইনসাইজড পড্স। খাঁটি জিনিস। রেখে দিন।
কী বলল লোকটা ? ইনসাইজ্ড পড্স! ইনসাইজ মানে তো আলতো করে চেঁছে নেয়া। এর সাথে কফির কী সম্পর্ক! বিড়বিড় করেন অলোকেশ। মুহূর্তে তার মগজে ঝড় উঠলো। সামথিং ইজ ভেরি রঙ! তেজি গলায় অলোকেশ বললেন, থামুন ভাইসাব। আমার কথা শুনুন।
কিন্তু শিকার ততক্ষণে প্রায় হাতছাড়া। অলোকেশের কথায় মোটেও পাত্তা না দিয়ে ছুটছেন ফারহান আহমেদ। একটু জোরেই ছুটছেন তিনি।
ততক্ষণে অলোকেশ যা বোঝার বুঝে নিয়েছেন। শিকার পালাচ্ছে দেখে বাধ্য হয়ে তিনি চেঁচালেন, সালাম, ডু ক্যাচ হিম। হি’জ অ্যা ক্রিমিনাল।
সালাম মুখিয়ে ছিল। শুরু থেকেই লোকটাকে তার সুবিধের মনে হয় নি। অলোকেশ বলামাত্র ক্যাঁক করে চেপে ধরলো সালাম। হার্ডকোর ক্রিমিনাল ধরার খবর শুনে মৌমাছির মতো মিডিয়াকর্মীরা জুটে গেল।
উন্নতমানের রেক্সিনে তৈরি ব্যাগের চেইন টানতেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়লো। ব্যাগের ভিতর রাখা কয়েকশ ফয়েল-পাউচ কেটে যা পাওয়া গেল, তা মোটেই কফি নয়, আফিম। আলাদা করে রাখা কয়েকটা পাউচে অবশ্য কফিই ছিল, অলোকেশকে বোকা বানাবার জন্য।
মালসমেত হাতেনাতে ধরা খেল কৌশলী ড্রাগমাফিয়া ফারহান আহমেদ। কিন্তু প্রশ্ন হল, অলোকেশ কেসটা টের পেলেন কি করে! দেখতেশুনতে রীতিমতো কেউকেটা ভদ্রলোক ফারহান, শিল্প-সাহিত্যে সমান পারঙ্গম, যে কিনা স্বেচ্ছায় ‘অলোকেশ রয়ৎ নামক বাঘের গুহায় গলা বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুতসই প্রশ্ন করেছ হে সালাম। তাহলে শোনো আমি বলছি- লোকটার চলনে শুরু থেকেই একরকম কেঁচোগামিতা ছিল। বেহুদা কেউ কারো পালে বাতাস ঢালবে না, এ তো জানা কথা। অথচ লোকটি কায়দা করে আমাকে প্রশংসার তেলে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সে জানতো, আমি লেখক। আর লেখকমাত্রই কমবেশি প্রশংসার কাঙাল। কিন্তু ও জানতো না, আমি শুধু লেখক নই, একজন পেশাদার শুল্কগোয়েন্দা। আমাকে দেশের কথা ভাবতে হয়! ওর বাটারিং (মানে তেলাতেলি) যখন মাত্রা ছাড়ালো, তখনই আমি সতর্ক হলুম। মানে ধরে নিলাম ফারহানের মনে কোন মতলব আছে।
বাহ্ বাহ্! খাসা বুদ্ধি স্যার। পাশ থেকে একজন বাহবা দিল। কে না জানে, অথর্ব বসের পায়ে তৈলমর্দ্দন মানেই ব্যক্তিত্বের পি-ি চটকে মুফতে কিছু পাবার হীন ইচ্ছে।

একটু থেমে অলোকেশ শুরু করলেন আবার- কফি আমি খাই, বেশ পছন্দও করি। আফিম খাই না, তবে বিলক্ষণ চিনি। ওতে এক রকম কষা-কটূ গন্ধ লেগে থাকে। সেটা আমার অচেনা নয়। ফারহানের গায়ে কিছু গন্ধ ছিল, অনেকটা আফিমটাইপ।
¯্রফে গন্ধ শুঁকে বলে দিলেন সে ড্রাগমাফিয়া ? জনতার যেন ঠিক বিশ^াস হয় না।
নট অ্যাট অল, মাই ফ্রেন্ডস। ও ধরাটা খেয়েছে ওর অতিচালাকির জন্য। ও যদি জোর করে আমাকে কফি খাওয়াতে না যেত, তাহলে হয়তো পালাতে পারতো। কারণ ফারহানের বিষয়ে আগাম কোন সোর্স-ইনফরমেশান ছিল না।
অতি চালাকিটা কী শুনি?
মিঠেল হাসলেন দুঁদে জয়েন্ট কমিশনার অলোকেশ রয়। বললেন, লোকটা দুটো ভুল করেছে। দুটো শব্দ (অপ)প্রয়োগ করেছে যাতে ক্রমশ আমি নিশ্চিত হয়েছি যে ওর ব্যাগে কফি নয়, আফিম আছে।
কী কী ? বুলেটের মতো প্রশ্নটা ছিটকে এলো অডিয়েন্সের দিক থেকে।
একবার বলেছে ওর কফিটা ভাল, কারণ ‘ঠিকঠাক রোস্টেড পড্স’ থেকে তৈরি। সন্দেহ হল আমার। পড্স মানে জানেন তো! জনতার চোখে চোখ রাখেন অলোকেশ। হুজুগে জনতা খুব বেশি গভীর জ্ঞানের ধার ধারে না। ন্যাচারালি জনতা নিরুত্তর। এরা লাফাতে জানে, নাচতে নয়।
অলোকেশ নিজেই বললেন, পড্স মানে বীজ-বল্কল, কিছু কিছু গাছ যেমন সূর্যমুখী বা পপিগাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফারহানের মুখে পড্স শুনে আমার মনে খটকা লাগলো। ওর গায়ের গন্ধের সাথে কিছু একটা মিল খুঁজে পেলুম। কফি না হয়ে পপিফুল হতে পারে যা থেকে তৈরি হয় আফিম। পড্স কথাটা সেখানেই যুতসই।

তাও সে হয়তো ফস্কে যেত। কারণ আমি তার তেলে তখন প্রায় হড়কাচ্ছিলাম। ও ব্যাটা তেলাতে জানে! শেষ ধরাটা খেল দ্বিতীয় শব্দটা বলে। সে বলল, এসব মাল সচরাচর পাবেন না স্যার। নাইসলি ‘ইনসাইজ্ড পড্স’।
ব্যস, ধরা খেয়ে গেল। বলতে নেই, আফিম বিষয়ে আমার কিছুটা পড়াশুনা ছিল। ‘ইনসাইজ’ মানে আলতো করে কেটে বা ছেঁটে নেয়া। যা কেবল পপিগাছ বা এই জাতীয় পড্স-এর ক্ষেত্রে যুতসই। ‘ইনসাইজ’ শব্দটি বলেই ব্যাটা ফারহান ‘সাইজ’ হয়ে গেল। আমার মনে যেটুকু সন্দেহ ছিল, তাও আর রইলো না। বুঝে গেলুম ওর ব্যাগভর্তি আফিমের পোঁটলা।
উপস্থিত সকলে অলোকেশের কথা শুনে হেসেকেশে একশা। এই না হলে কাস্টমস ইনটেলিজেন্স! হ্যাট্স অফ টু ইউ স্যার। আপনি ছাড়া আর কেউ এমন ঘুঘু-মাফিয়াকে আপসে ধরতে পারতো না। মাফিয়ারা এবার কাম-ধান্ধা ছেড়ে নির্ঘাত কাশি যাবে। যাবেই।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য1 week ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও6 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম