Connect with us

রূপালী আলো

`আমি মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পচর্চা করি’ । গিরীশ গৈরিক

Published

on

(গিরীশ গৈরিক

`আমি মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পচর্চা করি’ । গিরীশ গৈরিক

(গিরীশ গৈরিক মূলত কবি, তাছাড়া তিনি কবিতার পাশাপাশি অনুবাদ ও প্রবন্ধ লিখে থাকেন। তিনি ১৫ আগস্ট, ১৯৮৭ সালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর করেছেন। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতা। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা ২০১৬’ ও ‘মা : আদিপর্ব ২০১৭’ ও ‘ডোম ২০১৮’। সম্পাদনা করেছেন : ‘দ্বিতীয় দশকের শ্রেষ্ঠ কবিতা-২০১৮’। এছাড়া তিনি ‘গীতাঞ্জলি সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি’। তার জীবন ও কবিতাবোধ নিয়ে কথা বলেছেন : কবি রাসেল রায়হান)

 

প্রশ্ন : ‘ক্ষুধার্ত ধানের নামতা’, ‘মা সিরিজ’… তারপর?

গিরীশ গৈরিক : আমার আশা ছিলো ২০১৮ সালে আমার ‘মা : ধ্যানপর্ব’ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হবে। সেই মর্মে প্রকাশনীও ঠিক ছিলো, কিন্তু ‘ডোম সিরিজ’ লেখার পর আমার মত পরিবর্তন করে ‘ডোম সিরিজ’ প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেই। আপনি তো জানেন ইতোমধ্যে ‘ডোম’ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাথে জেমস জয়েসের কবিতাসমগ্র অনুবাদ করছি। আমি কবিতার মানুষ, যতোদিন বেঁচে থাকবো- কবিতাই লিখবো।

 

প্রশ্ন : অনুবাদ নিয়ে বলি, যেহেতু আপনি অনুবাদ করছেন। অনুবাদে কবিতা থেকে অনেক কিছু হারিয়ে যায় না? শেষ পর্যন্ত থাকে কী?

গিরীশ গৈরিক : আসলে আমি অনুবাদ করছি সেটা বলা যাবে না, আমি করছি কবিতার অনুসৃজন। একটি কবিতা পাঠ করে, অনুধাবন করে- আমার যা মনে হয়েছে সেটা আমার মতো করে লেখা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো অনুবাদ সম্পর্কে বলেছেন : ‘একটি হাতি অনুবাদ করলে- হয় সেটা গরু হবে, না হয় ঘোড়া হবে- হাতি আর কখনো হবে না।’ তাই আমি আমার মতো কাজ করছি।

 

প্রশ্ন : আপনার মনে হয় না যে সিরিজ কবিতায় অনেক রিপিটেশন থাকে?

এটা কবিতার একটা ফাঁক না?

গিরীশ গৈরিক : কারো কারো সিরিজ কবিতায় এই রিপিটেশন আমি দেখেছি। তাই আমি যখন সিরিজ কবিতা লেখা শুরু করি তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম- কোনো প্রকার রিপিটেশন করবো না। তাই আমার ‘মা সিরিজ’ কবিতা পাঠ করলে দেখবেন কোনো প্রকার রিপিটেশন নেই। সিরিজ কবিতা লেখা খুবই কঠিন, যদি সেই কবিতার বোধ ও বিষয় একটি থেকে আরেটিকে স্বতন্ত্র করা হয়। আমি তাই করেছি। সিরিজ কবিতা লেখা হলো- একটি বিষয়ের প্রতি গভীর সাধনা, গভীর নিমগ্নতা। এখন আমি ‘ডোম সিরিজ’ নিয়ে কাজ করতে করতে নিমগ্নতার বিষয়টি আরো গভীরভাবে টের পাচ্ছি।

 

প্রশ্ন : কিন্তু আপনার এই নিমগ্নতা অন্যের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে না?

গিরীশ গৈরিক : একজন পাঠক তখনই বিরক্তিকর হবেন যখন সে আর কোনো প্রকার মনযোগ ধরে রাখতে পারবেন না। আমার মনে হয়, আমার কবিতা মনযোগহীন নয়। কারণ আমি সিরিজ কবিতায় বারবার চেষ্টা করি একটি কবিতা থেকে আরেকটি কবিতার অনুবিষয় ও বোধের স্বাতন্ত্র ধরে রাখতে। আমি মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পচর্চা করি, সেখানে বিরক্তির প্রসঙ্গ আসবে বলে মনে করি না।

 

 

বইয়ের প্রচ্ছদ

বইয়ের প্রচ্ছদ

 

প্রশ্ন : কবিতা লেখার ক্ষেত্রে কতটা নিজের জগত নির্মাণ জরুরি? জরুরি হলে আপনার ক্ষেত্রে সেই পদ্ধতিটা ঠিক কেমন?

গিরীশ গৈরিক : প্রশ্নটি সহজ- উত্তরটি আমার কাছে খুবই কঠিন, কারণ হাজার বছরের বাংলা কবিতায় আজ অবধি হাতেগোনা তিন-চার জন কবি ছাড়া আর কোনো কবি তাদের কবিতায় নিজের জগত নির্মাণ করতে সেই অর্থে সক্ষম হয়নি। আমার মতে বাংলা কবিতায় নিজের জগত নির্মাণ করতে পেরেছেন মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ও বিনয়। এর বাহিরে যাঁরা নিজের জগত নির্মাণ করেছেন, সেই সকল কবি শিল্পের বৃহৎ পরিসরে পারেনি। এখন ভেবে দেখেন আমার মতো ক্ষুদ্র কবিতাকর্মীর নিজের জগত বলতে কি-বা থাকতে পারে। এত বছর কবিতাচর্চা করে আমার কাছে এখন মনে হয়, আমি শুধু কবিতার নামে আমার অনুভূতিমালা লিখি। কবিতা লেখা পৃথিবীর কঠিন কাজের একটি। তবে হ্যাঁ, প্রত্যেক কবির তার নিজের কাব্যজগত থাকা জরুরী।

কবিতা লেখার কোনো পদ্ধতি নেই, থাকতেও নেই। কেননা কবিতা হয়ে ওঠে। কবিতা কীভাবে হয় তা কবি নিজেও বলতে পারে না। তাই নিজের কবিতা সম্পর্কে কোনো কবিকে বলতে বলা হলে- সে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইনিবিনেয় বলে বটে, কিন্তু আসল বিষয়টি বলতে পারে না। কারণ কবিতার নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি নেই। কবিতা অনুভবের ব্যাপার। কে কীভাবে অনুভব করবে তার নিজের ব্যাপার। কবিতার ভেতরে থাকতে হয় নিজেস্ব ভাষা- যেমন জীবনানন্দের যে কোনো কবিতা পাঠ করলে বলা যায় এটা জীবনানন্দের কবিতা। এমনি করে নিজেস্ব ভাষা নির্মাণ করা কতটা কঠিন তা ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে। আমার কবিতার নিজেস্ব ভাষা বলতে যা বোঝায় তা অতিক্ষুদ্র। এমন ক্ষুদ্র নিজেস্ব ভাষা নিয়ে নিজের কবিতার জগত বলে আলাদা কিছু দাবী করার ক্ষমতা আমার নেই।

 

প্রশ্ন : আরেকটা বিষয়? কবিতার পাঠক কমের একটা অভিযোগ পাওয়া যায়? এই অভিযোগের ভিত্তি কী? উত্তরণ সম্ভব কি না? কীভাবে?

গিরীশ গৈরিক : কবিতার পাঠক কোনোকালে বেশি ছিলো না। রবীন্দ্রনাথের কবিতার পাঠক কেমন ছিলো তার একটি বিবরণ পাই আমরা তার একটি চিঠিতে, যে চিঠিতে তিনি সিগনেট প্রেসের মালিককে লিখে জানিয়ে ছিলেন : ‘তার বলাকা কাব্যখানি যেন ৩০০ কপি ছাপা হয়’। আমার জানা মতে পৃথিবীর কোনো ভাষার কবিতার পাঠক তুলনামূলক বেশি নেই অন্যকোনো সাহিত্যের শাখা থেকে। ধরেন ব্যোঁলেয়ারের ‘লা ফুলর দ্য মল’ যে বছর প্রকাশিত হয় সেই বছরে বিক্রি হয়েছিল ১২৫০ কপিরও কম। অথচ ওই বছরে অনেক উপন্যাস মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল। কবিতার পাঠক আগেও যেমন ছিল এখনো তেমন আছে। কবিতাগ্রন্থ ক্রয়-বিক্রয় দিয়ে কবিতার পাঠক নির্ণয় করা কঠিন হবে। কেননা এখনকার পাঠকেরা কবিতা বিভিন্ন মাধ্য দিয়ে পাঠ করার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন আমি ইউটিউবে দেখেছি অসংখ্য কবিতা আবৃত্তির ভিউয়ার ১০লক্ষের বেশি। তবে আমরা বর্তমানে যে ধরণের কবিতা লিখি এই ধরণের কবিতা যত বেশি লেখা হবে তত বেশি পাঠক কমে যাবে। কারণ আমাদের কবিতা জীবনমুখি নয়। পৃথিবীর সকল মহৎ শিল্পের ভাষা সহজ কিন্তু তার জীবনবোধ অনেক গভীরের। তাই আমাদের উচিত সহজ করে কবিতা লেখা কিন্তু তার জীবনবোধ থাকতে হবে অনেক গভীরের।

 

প্রশ্ন : অভিযোগ শোনা যায়, ‘লাইনে আসার জন্য’ জুনিয়র কবিরা সিনিয়র কবিদের পেছনে ঘোরে, সম্পাদকের পেছনে ঘোরে। এই অভিযোগ কতটা সত্যি? সত্যি হলে, এই প্রক্রিয়ায় কতটা জাতে ওঠা যায়?

গিরীশ গৈরিক : যদি কেউ কবি হয় তবে সে কখনো কারও পেছনে ঘোরার কথা নয়। আরেকটি কথা কবিদের মাঝে কখনো জুনিয়র সিনিয়র হয় না, কবি তো কবি। এমনকি বয়স বিচারেও কবি কখনো জুনিয়র সিনিয়র হয় না। ধরেন র্যাঁ বো মাত্র ২২ বছর পর্যন্ত কবিতা লিখেছিলেন কিংবা বাংলা কবিতায় সুকান্ত, আবুল হাসান তো আজীবন জুনিয়র কবি হিসেবে পরিগণিত হবেন। লাইনে আসার জন্য অকবিরাই বেশি বয়সের কবি ও সাহিত্য সম্পাদকের পেছনে ঘোরেন। বর্তমানের ফেসবুক জগতে এসে তো সকলেই আলাদা আলাদা মিডিয়া হয়ে ওঠেছেন, সেখানে সাহিত্য সম্পাদকের পেছনে ঘোরার কোনো যুক্তিগত বিষয় আছে বলে আমি মনে করি না। তাছাড়া কারো পেছেনে ঘোরাঘুরি করে কখনো কবি হওয়া যায় না, কবি হওয়ার প্রথম ও শেষ শর্ত হলো ভালো কবিতা লেখা, এর কোনো বিকল্প নেই।

 

 

প্রশ্ন : অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সাথে কবিতার পার্থক্যটা কোথায়?

গিরীশ গৈরিক : জর্জ বার্নাড’শ বলেছিলেন : ‘যদি তোমার মনের কথা প্রকাশ করতে চাও তবে তোমার মাতৃভাষায় কথা বলো, যদি তুমি তা না পার তবে শিল্পচর্চা কর, যদি তুমি তাও না পার তবে তোমাকে কবিতাচর্চা করতে হব’। এই একটি বাক্যের মাধ্যমেই জর্জ বার্নাড’শ বুঝিয়ে দিলেন অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের সাথে কবিতার পার্থক্যটা কোথায় । শিল্পের খুব নিবিড়তম বিষয় হলো কবিতা, তাই তার পাঠকও তুলনামূলক কম। শিল্পমাধ্যমের সাথে কবিতার পার্থক্যের চেয়ে আরো বেশি ভাল হয় যদি প্রত্যেক শিল্পমাধম্যের পাঠককে আলাদা করা হয়, তাহলে দেখবেন কবিতার পাঠক অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের চেয়ে অনেক আলাদা। কবিতা শিল্পের অন্যান্য শাখা থেকে শুধু আকারগত পার্থক্যই নয়, মূল পার্থক্য হলো বোধের জায়গায়। কবিতার একটি চরণ দিয়ে যতকিছু অনুভব করা যায় তা সম্পূর্ণ একটি গল্পে বা উপন্যাসে নাও হতে পারে।

 

 

প্রশ্ন : বিভিন্ন দৈনিকে, অনলাইন নিউজপেপারগুলোতেও সাহিত্য বিভাগ থাকে। এই বিভাগটি সাহিত্যের কতটুকু উপকার করছে?

গিরীশ গৈরিক :   পৃথিবীর অধিকাংশ দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়াতে সাহিত্যের কোনো সংযুক্ত বিভাগ নেই। তবে কোনো কোনো মিডিয়া আলাদা করে সাহিত্যের ম্যাগাজিন বের করে থাকে। বাংলাভাষার বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাহিত্য বিভাগ সাহিত্যের বড় বেশি উপকার করে বলে মনে হয় না। কখনো কখনো ক্ষতিও করে থাকে। কারণ এখানে ধামাধরা সাহিত্যিকদের পদচারণা বেশি থাকে। তবে বয়সে নবীন ও প্রবীন সাহিত্যেকদের পরিচয় ঘটিয়ে থাকে আমাদের মিডিয়গিুলি। শেষে বিচারে গ্রন্থই সবকিছু। অনলাই সাহিত্য প্রচরণার পর থেকে আমাদের দৈনিক সাহিত্যের গুরুত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। সাহিত্যের জন্য কোনো মিডিয়া যদি নির্মহভাবে কাজ করে থাকে তবে তা হবে সাহিত্যের সত্যিকারের উপকার, কিন্তু তা আমরা আর পরলাম কোথায়।

 

প্রশ্ন : একসময় ছোটকাগজের খুব বড় একটা ভূমিকা ছিল। বড় মানে বিশাল! বর্তমানেও বেশ কিছু ছোট কাগজ বের হচ্ছে। কী ভূমিকা রাখছে তারা?

গিরীশ গৈরিক : ছোটকাগজই আন্দলোনের ভূমিকা এখনো পশ্চিমবাংলায় আছে, তবে বাংলাদেশে অনেকাংশে কমে গিয়েছে। ছোটকাগজ যে কাজটি করতে পারে বড়কাগজ সেই কাজটি করতে পারে না। বড়কাগজের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতা থেকে ছোটকাগজ মুক্ত, তাই তারা অনেক বড়-বড় কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের ছোটকাগজের মূল সমস্যা হলো অনিয়মিত প্রকাশ ও দুই-একটি সংখ্যা প্রকাশ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া। একমাত্র কবি ওবায়েদ আকাশ সম্পাদিত ‘শালুক’ বাদে আর সকল ছোকাগজই গুণগতমানে তুলনামূলক ছোট এবং আশার বাণী হলো কবি মিন্টু হক সম্পাদিত ‘কাশবন’ ছোটকাগজটি আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে। আরো অনেক ছোটকাগজ আছে তারাও ভালো করার চেষ্টা করছে। ছোটকাগজই সাহিত্যের মূলধারা বাঁচিয়ে রাখে। বর্তমানে ছোটকাগজের বদলে অনলাইন ভিত্তিক ওয়েবজিন হচ্ছে, আমার মনে হয় ফেসবুক ও ওয়েবজিনগুলো ছোটকাগজের জায়গাটা অনেকাংশে পূরণ করছে।

 

প্রশ্ন : লিটল ম্যাগের ম্রিয়মাণতা আর দৈনিকগুলোর উত্থান, এই দুইয়ের সুবাদে সাহিত্য একটি করপোরেট শ্রেণির কাছে বাঁধা পড়ছে কি না?

গিরীশ গৈরিক : ভালো প্রশ্ন। ছোটকাগজের ম্রিয়মাণতা যে দৈনিকগুলোর সাহিত্যপাতার উত্থান ঘটিয়েছে তা নয়। দৈনিকের সাহিত্যপাতার উত্থান তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে তৈরি করছে। ব্যবসা হচ্ছে বিধায় করছে, আবার যখন ব্যবসা হবে না তখন তারা বন্ধ করে দিবে। সাহিত্য নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে আমার মনে হয় না। মাথাব্যথা থাকলে তারা সাহিত্যের মান বজায় রেখে সাহিত্যপাতা তৈরি করতো, লেখক সম্মানি ঠিক মতো দিত। করপোরেটদের প্রধান কাজই ব্যবসা, এই ব্যবসা করতে যে সাহিত্য করা উচিত কিংবা যে সকল কবি ও লেখক তাদের হয়ে কাজ করে দিবে, তাদের নিয়ে সাহিত্য তারা করছে। এতে করে সাহিত্যের ক্ষতি হচ্ছে।

 

প্রশ্ন : দুই বাংলার কবিতা নিয়ে বলেন? দুই বাংলার কবিতায় মিল কী? পার্থক্য কী?

গিরীশ গৈরিক : বাংলা কখনো দুই হয়না। ভাষা একটাই। যেমন আমি নিজেকে বাংলাদেশর কবি মনে করি না, আসলে আমি বাংলাভাষার কবি। দুই বাংলা বলতে আপনি আমাকে যেটা বুঝাচ্ছেন আসলে সেটা কিন্তু দুটি আলাদা আলাদা দেশ। দুই দেশের এক ভাষার সাহিত্য। পশ্চিমবঙ্গের কবিতা ও বাংলাদেশের কবিতা একটু আলাদা হবে তার মেজর কারণ হলো তার স্বতন্ত্র ভূখণ্ড ও ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক অবস্থান। এইসব অবস্থানের দিকগুলো বাদ দিয়ে বলা যায় ৯০দশকের পর থেকে বাংলাদেশের কবিতাচর্চা পশ্চিমবঙ্গের কবিতা থেকে আরো বেশি বেগবান হয়েছ। বাংলাদেশে যারা কবিতাচর্চা করেন তাদের অধিকাংশই জীবনের একটি পর্যায়ে নেতিয়ে পরেন, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের যারা কবিতাচর্চা করেন তারা কিন্তু জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যথাযথ কবিতাচর্চা করেন।

 

প্রশ্ন : কবিতায় আপনি কিসের দিকে বেশি জোর দেন? নির্মাণে, না বোধে?

গিরীশ গৈরিক : শুধু নির্মাণ কবিতা নয় আবার শুধু বোধও কবিতা নয়। নির্মাণ ও বোধের সমন্বয়ে ভালো কবিতার জন্ম হয়। একটু খুলে বলি : ধরেন কোনো এক ব্যক্তি গভীরের চিন্তা করতে পারেন কিন্তু কবিতায় কীভাবে চিন্তা বা বোধ নির্মাণ করতে হয় তা তিনি জানেন না, অর্থাৎ বোধের কাব্যিকরূপ দিতে পারেন না। আবার কোনো ব্যক্তি ভালো কাব্যিকরূপ নির্মাণ করতে পারেন কিন্তু জীবনের গভীর বোধের সন্ধান জানেন না, তহলে তিনি ভালো কবিতা লিখতে পারবেন না। আমি আমার কবিতায় বোধ ও নির্মাণে দিক নিয়েই শুধু ভাবি না, তার সাথে কবিতাটি জীবনমুখি হলো কি-না, ভাষাটা আমার নিজেস্ব হলো কি-না, সর্বোপরি শিল্প হলো কি-না এসব দিকগুলোও ভেবে থাকি। কিন্তু কতটা পারি তা জানি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, মাটির অনেক গভীরের জল যেমন সুপেয় বা পান যোগ্য; তেম্নি জীবনের অনেক গভীরতম বোধ হলো কবিতা, তবে তার একটি কাব্যিকরূপ থাকতে হবে।

 

প্রশ্ন : কবিতার আন্তর্জাতিকতা বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

গিরীশ গৈরিক : কবিতার প্রধান বিষয় হলো, কবি যে ভাষায় কবিতা লিখবেন সে ভাষার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য কেন্দ্রিক হবে। তারপরের বিষয় হলো আন্তর্জাতিকার প্রসঙ্গ। যে কোনো ভালো কবিতাই আন্তর্জাতিক কবিতা, কারণ প্রত্যেক মানুষের মৌলিক বিষয়গুলো এক ও অভিন্ন। ইংরেজি ভাষা হলো আধিপত্যের ভাষা। সেই ভাষায় যে যাকিছু লিখে না কেন, তা হয়ে যায় আন্তর্জাতিক, এটা তো ঠিক হলো না। যেমন আমাদের বাংলা সাহিত্যের মানিক, তারাশঙ্কর ও বিভূতির কথাসাহিত্য ভালো অনুবাদ হলো তারাও নবেল পুরস্কার পেতে পারতো। তবে জতীয় পর্যায়ের বিষয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় এক নয়। কারণ আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে আধিপত্যের ব্যাপার থাকে। যেমন ‘নো দাই সেল্ফ’ আমরা আমদানি করেছি, কিন্তু আমাদের ঋগবেদে তারও তিন হাজার বছর আগে বলা হয়েছে ‘আত্মানাং বৃদ্ধি’ অর্থাৎ নিজেকে জানো।

 

প্রশ্ন : একজন কবির নিজের মাটির কথা বলা কতটা বাধ্যতামূলক? কবিতা কখন নিজের সীমারেখা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক হয়ে ওঠে?

গিরীশ গৈরিক : একজন কবির নিজের মাটির কথা বলা কতটা নয়, সবটাই বলা বাধ্যতামূলক। যেমন ধরেন ফরাসি কবিতা তারা তাদের মাটির কথা বলে বৈশ্বিক। তবে সেই কবিতাগুলি প্রকৃত প্রস্তাবে কবিতা হয়ে উঠতে হবে। কবিতা বৈশ্বিক হয়ে ওঠার পেছনে শুধু ভালো কবিতাই যথেষ্ট নয়, তার সাথে সেই ভাষার মানুষকে রাজনৈতিকভাবেও এগিয়ে আসতে হবে এবং তার সারকারি সহযোগীতাও দরকার। শেষ কথা হলো- ভালো অনুবাদ হওয়া প্রয়োজন। যেমন ধরেন- পেইন্টিং কোনো ভাষায় অনুবাদ করতে হয় না বিদায় আমাদের এসএম সুলতান বৈশ্বিক, কিন্তু পেইন্টিং যদি অনুবাদ করতে হতো তাহলে আমার মনে হয় সুলতান বৈশিক হতে পারতেন না।

 

প্রশ্ন : বাংলা কবিতা কতটা ক্ল্যাসিক হয়ে উঠতে পারছে?

গিরীশ গৈরিক : ক্ল্যাসিক সাহিত্য বলতে আমরা কী বুঝি, সেটা আগে বুঝা জরুরি। ক্ল্যাসিক সাহিত্যের সাথে শত শত বছর জড়িত। অর্থাৎ কোনো সাহিত্য যদি শত বছর পার করে- আরো দীর্ঘবছর টিকে যায়, তবে তা ক্ল্যাসিক হয়ে যায়। সে হিসেবে আমাদের ক্লাসিক সাহিত্য খুবই কম। তবে এটা বলা যায় বাংলা সাহিত্যের যেকোনো শাখা থেকে বাংলা কবিতা অনেক ক্ল্যাসিক। আপনি যদি বিশ্বকবিতার সাথে বাংলা কবিতা রেখে পাঠ করেন তাহলেও বুঝবেন, বাংলা কবিতা কতোটা রিচ।

 

প্রশ্ন : আপনি নিজের কবিতার ক্ষেত্রে ক্ল্যাসিক বিষয়টিকে কীভাবে আনতে চান?

গিরীশ গৈরিক : সমকালে বসে ভাবিতব্যকালের চিন্তা করে সাহিত্যে ক্ল্যাসিকতা নির্ণয় করা খুবই কঠিন। মানুষের চিন্তার কিছু বিষয় আছে যা মানব সভ্যতা যতোদিন টিকে থাকবে ততোদিন এই চিন্তাগুলো থাকবে। যেমন : মা তার সন্তানকে স্তনপান করাবে। এই বিষয়গুলো সাহিত্যরূপ দেয়া খুবই কঠিন। আমি আমার ভাবনাগুচ্ছ লিখি, তা ক্ল্যাসিক হলো কি-না কিংবা ভালো কবিতা হলো কি-না সে বিষয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার একটাই চিন্তা, ভালো কাজ করা।

 

প্রশ্ন : আপনার বইগুলো কতটা ব্যক্তি আপনাকে রিপ্রেজেন্ট করছে?

গিরীশ গৈরিক : একজন কবি বা লেখক সারা জীবনভর লিখে তার নামটাই শুধু বড়ো করেন, তার ব্যক্তিত্বকে বড়ো করেন। লেখার সাথে ব্যক্তিত্বের গভীর মিল আছে। আমার প্রকাশিত বইগুলো আমাকে প্রেজেন্ট করেছে কিন্তু আমার ব্যক্তিত্ব আমার বইকে বেশি একটা প্রেজেন্ট করেছে কি-না সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। তবে ভালো লেখার সাথে ভালো ব্যক্তিত্ব থাকলে তার সাহিত্য সমৃদ্ধি আরো বাড়বে।

 

প্রশ্ন : বাংলা কবিতায় নানা বৈশিষ্ট্য-বৈচিত্র্য আছে। এর মধ্যে আপনার কবিতা কী স্বাতন্ত্র্য নিয়ে এসেছে। ঠিক কিসের তাগিদে লিখছেন?

গিরীশ গৈরিক : আমি কবিতার সহজ ভাষা ও গভীর বোধের বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কারণ আমি জানি পৃথিবীর সকল মহান শিল্পিই- সহজ সরল কিন্তু তার চিন্তা বা বোধ খুব গভীর। যেমন ধরেন সাগর। চাইলে যে কেউ সাঁতার কাঁটেত পারে, ডুব দিতে পারে। কিন্তু তার গভীরতা ব্যাপক। যার যতোটুক ক্ষমতা, যার যতোটুকু নিঃশ্বাস- সে ততোটুকু জলের গভীরে যেতে পারবে। শিল্পও তাই। আমার কিছু বলার আছে, আমার কিছু ব্যথা আছে, আমার কিছু কথা আছে- যে কথা সরাসরি বলা যায় না কিন্তু শিল্পে বলা যায়। তাই আমি শিল্পচর্চা করি। তাছাড়া আমি যেকোনো কাজ করি না কেন? আমি সেই কাজে দ্রুত ক্লান্ত বোধ করি, কিন্তু শিল্পচর্চা করলে খুব সহজে ক্লান্ত বোধ করি না। আমার কবিতার স্বতন্ত্রের ব্যপারে আমার আর কি বলার আছে- আমি জানি না।

 

প্রশ্ন : কবিতায় শ্লীলতা-অশ্লীলতার একটা তর্ক শোনা যায় মাঝে মাঝে। এই শ্লীলতা-অশ্লীলতার সীমা ঠিক কতটুকু? কতটা শ্লীলতা অতিক্রম করে গেলে সেটাকে অশ্লীল বলা যেতে পারে? আদৌ বলা যেতে পারে কি না?

গিরীশ গৈরিক : যদি কোনো শিল্প, শিল্প হয়ে ওঠে- তবে তা যতোই নগ্ন কিংবা কুরুচিপূর্ণ (কারো কারো ক্ষেত্রে) হোক না কেন; সেসব শিল্প অশ্লীল নয়। সেইসব শিল্পই অশ্লীল যার ভেতরে কোনো শিল্পবোধ নেই। শুধু যৌনশব্দ ব্যবহার করলে অশ্লীল হয় না, মূলত কবি বা লেখক কি বলতে চেয়েছেন- সেটাই বিবেচ্য বিষয়। যেমন ধরেন : ‘আমি বাঁশির যোনিতে সুর হয়ে ঢুকে যাব’। এখানে তো যোনি শব্দটি অশ্লীল নয়।

 

প্রশ্ন : বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নবীন কবিদের প্রবীণরা তাদের সাপোর্ট করেন না। সত্যিকারের কবিরা সেই সাপোর্টটা চায়ও না হয়তো একসময়। কিন্তু প্রবীণদের অসহযোগিতার কারণটা ঠিক কী? সিংহাসন হারানোর ভয়?

গিরীশ গৈরিক : প্রথমেই বলি শিল্পে কোনো প্রকার নবীন-প্রবীন নেই। গোপন অঙ্গে যৌনঘাস জন্ম নিলে যেমন সকলেই পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ঠিক শিল্পেও তাই। কোনো শিল্পী যদি আরেক শিল্পীকে বয়সের তারতম্যের কারণে তার সৃষ্টিকে সার্পোট না করে তবে দোষ তো যিনি করেন তার। এতে শিল্পের কিছু যায় আসে না। বরং যে অস্বীকার করে সেই একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর শিল্পের সিংহাসন হলো শিল্পকর্ম। নবীন-প্রবীন প্রসঙ্গে আপনারা আমাকে বলেন তো : র‌্যাঁবো বা সুকান্ত নবীন না প্রবীন।

 

প্রশ্ন : বর্তমান কবিদের ভিতরে এক ধরনের ছন্দবিমুখতা লক্ষ করা যাচ্ছে? বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?

গিরীশ গৈরিক : দারুণ প্রশ্ন। ছন্দবিমুখতার আগে আমাদের বুঝে নেওয়া দরকার কবিতায় ছন্দ কেন প্রয়োজন? ছন্দ কবিতার ধ্বনিকে সুরালো করে অর্থাৎ কবিতাটি গীতল হয়। যাতে করে কবিতা পাঠ করতে কোনো পাঠক বাঁধাপ্রাপ্ত না হয়। তবে কোনো কবি যদি ছন্দে না লিখে তার কবিতার ধ্বনিকে সুরালো বা পাঠের জন্য স্মুথ করতে পারে, তাহলে কবিতা হবে না কেন? আসলে ছন্দ কবিতার অনেকগুলো বৈশিষ্ট্যের একটি মাত্র। তা না হলে ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত অনেক বড় কবি হতো।

আবার একই সঙ্গে ছন্দ কবিতাকে নির্দিষ্টতায় আবদ্ধ করে। এই আবদ্ধ হলো- ছন্দের মাত্রা। মাত্রা কি? মাত্রা হলো- যার দ্বারা কোনো কিছু নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা যায়। এখানেই প্রশ্ন- কবিতা যদি মক্তচর্চা হয় তবে কেন ছন্দের মাত্রা দ্বারা আবদ্ধ হবে। এই সমস্যা থেকেই মুক্তকছন্দের আবিষ্কার হলো, অর্থাৎ মাত্রাহীন ছন্দ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি- কোনো কবির কবিতায় মাত্রাহীন ছন্দের স্পন্দন নিয়ে বোধের বিষয়টি ঠিক থাকলেই ভালো কবিতা হবে।

 

প্রশ্ন : কবিতার সঙ্গে জীবনাচরণ, রাজনীতির দ্বন্দ্ব আছে কি না?

গিরীশ গৈরিক : দ্বন্দ্ব থেকেই কবিতার জন্ম। কবিতার দ্বন্দ্ব শুধু জীবনাচরণ বা রাজনীতির সাথে নয়, কবিতার সাথে দ্বন্দ্ব তাবৎ পৃথিবীর সকল অপকর্মের সাথে।

 

প্রশ্ন : কবিতার ক্ষেত্রে প্রায়ই অভিযোগ করা হয়, অনেকে গ্রুপিং করে কবি হিসেবে টিকে আছে। এটা কি আসলে সম্ভব? সম্ভব হলে স্রেফ গ্রুপিং করে টিকে আছে, এমন দুয়েকজনের উদাহরণ দিতে পারবেন?

গিরীশ গৈরিক : গ্রুপিং করে টিকে থাকা আর বই না পড়ে হুজুরের কাছ থেকে কলমে ফুঁ দিয়ে পরীক্ষা দেয়া আমার কাছে একই বিষয় মনে হয়। দূর্বল কবিতা লিখে গ্রুপিং করে টিকে আছে এমন ইতিহাস পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। গ্রুপিং করা গ্রুপবাজদের আত্মতুষ্টি ছাড়া জীবনে আর কিছু মেলে না। সময়ের ব্যবধানে গ্রুপ যখন ভেঙে যায় তখন তারা নিজেরা নিজেরা গালাগালি করে।

 

প্রশ্ন : সমাজে এমন একটা ধারণা চালু আছে যে কবিকে হতে হবে মহামানব ধরনের? এই ধারণা ভিত্তি কী? আপনি কি একমত?

গিরীশ গৈরিক : কবি কেন সমাজে একা মহামানব হতে যাবে? তাহলে তো মহামানব হতে হয় সকল শ্রেণির সকল পেশার মানুষকে। কবিতা জীবনের একটি ক্ষুদ্রতম কাজ। এটাকে এত বৃহৎ করে দেখার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে জীবন যতো সুন্দর কবিতা ততো সুন্দর নয়।

 

প্রশ্ন : গ্রুপিংয়ের সাথে আমরা আসলে আড্ডাকে গুলিয়ে ফেলছি কি না। হয়তো কতক মানুষ স্রেফ শেয়ারিং, ভালোলাগা—এসবকে প্রাধান্য দিয়ে আড্ডায় বসে। সেটাকেও অনেকসময় আমরা গ্রুপিং নাম দিয়ে দিই।

গিরীশ গৈরিক : ভালো কথা বলেছেন। আমাদের দেশে যেমন একজন মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হলে অনেকে মনে করে অনেক কিছু হয়ে গেছে। সাহিত্যে গ্রুপিং বিষয়টা এমন নয়, সাহিত্যে গ্রুপিং হলো : কোনো বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে কতিপয় কবি বা লেখক সেই বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত কার। যেমন হাংড়ি গ্রুপ। এটা কিন্তু পজেটিভ। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে গ্রুপিং করে শুধু নোংরামি করা হয়েছে। অবু হাসান শাহরিয়ার ও সাজ্জাদ শরীফ গঙেরা গ্রুপিং করে আমাদের অনেক ক্ষতি করেছ।

 

প্রশ্ন : আপনি তো সরাসরি নাম ধরে অভিযোগ করলেন। ক্ষতির বিষয়টি একটু খুলে বলবেন কী?

গিরীশ গৈরিক : বিষয়টি অভিযোগ নয়, অনুযোগ। আমি যে দু’জনের নাম বলেছি তারা কিন্তু অনেক বড়ো মাপের সাংবাদিক এবং আমাদের সাহিত্যের অগ্রজ। তারা যখন বিভিন্ন পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন তখন তারা ওই পত্রিকাকে ঘিরে একপ্রকার সাহিত্য বলয় সৃষ্টি করেছিলেন। সেটাছিল বাহুশক্তির আস্ফলন, সাহিত্যের নয়। তারা নিজেদের মতো করে সাহিত্যকে ব্যবহার করতেন এবং গোষ্ঠিবদ্ধ চর্চা করে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করতেন। সাহিত্যে যখন ব্যক্তিগত চর্চা হয় তখন সাহিত্য অনেক দূরে চলে যায়।

 

 

প্রশ্ন : কবিতায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ কোনটিকে মনে হয়? ভাষা, ফর্ম, নাকি বোধ? নাকি অন্য কিছু?

গিরীশ গৈরিক : আমার কাছে বোধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভালো বোধ হলেই তো ভালো কবিতা লেখা যায় না তার জন্য জানতে হয় : ভাষার কাব্যিক ফর্ম, নন্দনতত্ব ও কাব্য সাধনার উপায়। নিরলসভাবে কাব্য সাধনা করলে একে একে সকল বিষয় কবির কাছে ধরা দেয়।

 

প্রশ্ন : ইদানিং পুরস্কারের কথা শোনা যায়ই প্রায়ই। পুরস্কারের প্রভাব আসলে কতটা?

গিরীশ গৈরিক : তার আগে একটি কথা বলি : পৃথিবীতে এযাবৎ যে কয়জন গুরুত্বপূর্ণ লেখক ধরা হয় তাদের অধিকাংশই নবেল পুরস্কার পাননি। পুরস্কারের একটি সামাজিক ও তাৎক্ষণিক প্রভাব আছে কিন্তু চিরন্তন কোনো প্রভাব নেই বলে আমি মনে করি। এখন তো শোনা যায় কেউ পুরস্কার পায় না, নেয়। তবে ভালো লেখাকে পুরস্কৃত করলে- তার প্রভাব অনেক বেরে যায়।

Advertisement বিনোদনসহ যেকোনো বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও- rupalialo24x7@gmail.com
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অ্যাডমিরাল রিয়ার অ্যাডমিরাল মুশাররফ হুসাইন খান
অন্যান্য2 days ago

নৌবাহিনীর স্থপতি রিয়ার অ্যাডমিরাল মুশাররফ হুসাইন খান আর নেই

‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী পরিচিতি ও ব্যবস্থাপনা কৌশল’
সাহিত্য4 days ago

‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী পরিচিতি ও ব্যবস্থাপনা কৌশল’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মেলারটেক স্বপ্ন কারিগর পাঠাগার
রূপালী আলো6 days ago

মেলারটেক স্বপ্ন কারিগর পাঠাগার

প্রি-অর্ডারে ‌‘আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প’
গ্রন্থালোচনা6 days ago

প্রি-অর্ডারে ‌‘আউটসোর্সিং ও ভালবাসার গল্প’

জগলুল হায়দারের জন্মদিনে প্রিয় ৫০ ছড়ার পাঠ উন্মোচন
জন্মদিন1 week ago

জগলুল হায়দারের জন্মদিনে প্রিয় ৫০ ছড়ার পাঠ উন্মোচন

মাসুদ আখতার পলাশ
অন্যান্য1 week ago

গাইবান্ধা-২ আসনে এগিয়ে ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ

রায়হান আহমেদ
মতামত1 week ago

সভ্যতার যুগে শিশুশ্রম : কীর্তি আর স্বপ্ন | রায়হান আহমেদ

স্বরূপ মণ্ডল
কবিতা1 week ago

স্বরূপ মণ্ডল -এর গুচ্ছ কবিতা

রকমারি2 weeks ago

ইয়ং ইকোনমিস্টস ফোরাম(ইয়েফ)

গ্লিটজ3 weeks ago

অবশেষে ফারিয়া-সাজ্জাদের ফুটেজ উদ্ধার!

কাজী আসমা আজমেরী
ভ্রমণ4 weeks ago

বাংলাদেশি বিশ্ব পর্যটক কাজী আসমা এখন আজারবাইজানে

গ্লিটজ4 weeks ago

শাকিব খানের চোখের পাগল আমি : সাবর্ণী

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত ১০০ কবির কবিতা’
গ্রন্থালোচনা4 weeks ago

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত ১০০ কবির কবিতা’

পুত্র জয়ের সঙ্গে হাস্যজ্জ্বল অপু বিশ্বাস
ঢালিউড4 weeks ago

‘জায়গা তো খালিই ছিল, শাকিবকে নিয়ে আসলেও ভালো হত’

রূপালী আলো4 weeks ago

বাংলা গানে লিপ কিস ( দেখুন ভিডিও সহ)

সঙ্গীত4 weeks ago

প্রকাশিত হলো ‘আপন মানুষ ২’

রূপালী আলো4 weeks ago

সিজার নতুন মিউজিক ভিডিও – ফিরে এসো না

হিরো আলম
ঘটনা রটনা4 weeks ago

বলিউডের ছবিতে অভিনয়ের জন্য মুম্বাই যাচ্ছেন হিরো আলম

রূপালী আলো4 weeks ago

আকাশের নতুন মিউজিক ভিডিও – ফিরে এসো না (ভিডিও সহ )

মাসুদ আখতার পলাশ
অন্যান্য1 week ago

গাইবান্ধা-২ আসনে এগিয়ে ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
নির্বাহী সম্পাদক : এ বাকের
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম