fbpx
Connect with us

টলিউড

আমার সরু চেহারা, ছোট্ট পাকস্থলী। তাই যা পেয়েছি, যেটুকু পেয়েছি যথেষ্ট

Published

on

কাঞ্চন মল্লিক

হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘ধারাস্নান’এ চেনা ছকের বাইরে কাঞ্চন মল্লিক। অভিনয় থেকে ব্যক্তিগত জীবন, সব কিছুই উঠে এল ‘ওবেলা’র সঙ্গে আড্ডায়। রূপালী আলোর পাঠকদের জন্য তা হুবহু প্রকাশ করা হলো।

হরনাথ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘ধারাস্নান’এ চেনা ছকের বাইরে কাঞ্চন মল্লিক। অভিনয় থেকে ব্যক্তিগত জীবন, সব কিছুই উঠে এল ‘ওবেলা’র সঙ্গে আড্ডায়।

বিয়িং হিউম্যানের টি-শার্ট! এটা তো সলমন খানের ব্র্যান্ড। খুব পছন্দের বুঝি?

হিউম্যান আর বিয়িং হিউম্যান, দু’টো কথার মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। আমি ব্র্যান্ড পছন্দ করি না। এটা আমার স্ত্রীর পছন্দ। যে পছন্দে হ্যাঁ বলাটা টেকনিক্যালি, ইকোনমিক্যালি, পলিটিক্যালি জরুরি। সেটা না করলে ট্রাম্প, ওবামা, পুতিন সকলেরই অসুবিধা হবে। স্ত্রীর ফেভারিট অ্যাক্টর সলমন খান। আমার নয়। তাই আমাকে বিয়িং হিউম্যানের টি-শার্ট পরিয়ে যদি সলমন খানের ‘সাল’ বা ‘মান’ বজায় রাখতে চায়, আমার কিস্যু করার নেই। পরতেই হবে (জোরে হাসি)।

 ‘ধারাস্নান’এও এমন একটা চরিত্রে আপনি, যার কিছু বলার সাহসটাই নেই…।

চরিত্রটা এমন একটা লোকের, যার অস্তিত্বটাই কেউ স্বীকার করে না। রুগ্‌ণ, ডিপ্রেসড, যার কথার কোনও দাম নেই। যার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। মায়ের সামনে কথা বলতে পারে না, বউয়ের সামনে কথা বলতে পারে না, কোনও অন্যায়ের প্রতিবাদও করতে পারে না। কিন্তু একটা জায়গায় গিয়ে সেই লোকটাও প্রতিবাদ করে শিরদাঁড়া সোজা করে।

 এই ধরনের চরিত্র তো খুব একটা পাননি?

নাহ্। বেশ জটিল এবং কঠিন চরিত্র।

 অভিনেতা হয়েও কঠিন বলছেন?

(হাসি) নাহ্, এভাবে আমাকে কোনও চরিত্রে এতদিন সত্যিই কেউ দেখেনি। হরদা’র (হরনাথ চক্রবর্তী, পরিচালক) সঙ্গে এটা ১২ নম্বর ছবি। ওঁর ‘সাথী’ দিয়েই বাণিজ্যিক ছবিতে হাতেখড়ি। এতদিন এই চরিত্রটা হরদা দিলেন। এই চরিত্রটার জন্য চেষ্টা করেছি অনেক।

কী রকম?

যে সময় শ্যুটিং হচ্ছিল, তখন মেগা করতাম। সেই মেগাটাও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এই লোকটা কীভাবে হাঁটবে, কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে সেটা ভাবতাম অনবরত। এমনকী, ডাবিংটাও খালি পেটে করেছি। রাত্রিবেলা ডিনার করে, পরের দিন সকাল থেকে কিছু না খেয়ে ডাবিং করেছি। না খেয়ে যে একটা অদ্ভুত কণ্ঠস্বর বেরোয়, সেটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।

টেলিভিশন আর বড় পরদার স্পেসটা কীভাবে আলাদা করেন?

বহুদিন হয়ে গেল টেলিভিশনে অভিনয় করি না। অভিনেতা তো সে-ই হবে, যে টি-টোয়েন্টিও খেলতে পারবে। টেস্টও খেলতে পারবে। আবার ওয়ান ডে’ও খেলতে পারবে। আমি টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বাস করি। কাউকে ছোট করছি না। মেগা আমাদের জীবনধারন করায় হয়তো। মেগা আমাদের গ্রাসাচ্ছাদন করায় হয়তো। কিন্তু ওই একই ফরম্যাটে কাজ করতে করতে ক্রিয়েটিভলি আমরা কোথাও ভোঁতা হয়ে যাই। ফিল্মের হয়তো একটি চরিত্রে নির্দিষ্ট গণ্ডি রয়েছে। সেটা ভালই।

 কিন্তু ওই গণ্ডিবদ্ধ চরিত্র করতে করতে তো আপনি দর্শকের কাছে স্টিরিওটাইপ্‌ড হয়ে গিয়েছেন?

(থামিয়ে দিয়ে) এটা হল খ্যাতির বিড়ম্বনা। আমার রোগা চেহারাটা লোকের ভাল লেগে গিয়েছে। আমায় তো আর খালি গায়ে বা স্যান্ডো গেঞ্জি পরে যুদ্ধ করতে কেউ দেখবেন না। কমেডি করাটা অভিনয়ের সবচেয়ে কঠিন জায়গা। যিনি কমেডি করতে পারেন, তিনি সব ধরনের অভিনয়ই করতে পারেন। তবে একটু অন্য রকমের চরিত্র করার সাহস হয়তো ‘রাজকাহিনী’র সময় সৃজিত (মুখোপাধ্যায়) জুগিয়েছিল। হরদা’র যে ১১টা ছবিতে আমি কাজ করেছি, সেগুলো কিন্তু সবই টিপিক্যাল কমেডিয়ানের চরিত্রে। কিন্তু ১২ নম্বরে এসে কিন্তু হরদা’ও আমাকে এ রকম একটা চরিত্রে ভাবার সাহস পেয়েছেন।

কখনও মনে হয়নি, ‘কাঞ্চন মল্লিক মানেই দারুণ কমেডি’—খ্যাতির এই বিড়ম্বনা না হলেও চলত?

যখন থিয়েটার করতাম, তখন অন্যান্য অভিনেতাদের দেখতাম অটোগ্রাফ বিলোতে। মনে হতো, আমি কখন অটোগ্রাফ বিলোব। কিন্তু যখন অটোগ্রাফটা দেওয়ার সময় এল, দিতে দিতে মনে হল আমি কি শুধুই অফস্পিন করে যাব? ফিরকি দিতে পারব না? তখন ওই একটা ‘ধারাস্নান’ বা ‘রাজকাহিনী’র সুযোগ আসে, যেখানে ফ্লিপার মারা যায়, সেটার জন্যই বসে থাকি আরকী!

 নাটকটাও তো এখন চুটিয়ে করছেন।

তা করছি। ২৭ বছরের থিয়েটারের জীবনে এই প্রথম একটা নাটক পরিচালনা করলাম। ‘পাইকপাড়া ইন্দ্ররঙ্গ’এর ‘একদিন আলাদিন’। আমি তো জানি, সিনেমায় বা বিভিন্ন জায়গায় যে অভিনয় করছি, সেখানে কী কী রোল আমায় করতে হবে। এতদিন অক্সিজেনটা নিতাম থিয়েটার থেকে। এত বছর বাদে অন্য রকম একটু রোল পাচ্ছি।

আপনার ব্যক্তিগত সময় কাটে কীভাবে?

সেই স্পেসটাতে লোকেরা আমাকে যা দেখে, আমি তার ঠিক উল্টো। সেখানে একটা অদ্ভুত পরদা টানা আছে। চেহারাগত দিক থেকে একটা সুবিধাও আছে। আমাকে দেখে কেউ বিদ্বান-বুদ্ধিমান ভাবে না। তাই লোক দেখানোর দরকার নেই। পড়াশোনা করি। বইটই পড়ি। গান শুনি। সিনেমা দেখি। পুরনো গান একটু বেশি ভাল লাগে।

কখনও মনে হয়নি, ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করেনি? মনে হয়নি, আপনার মূল্যায়নই হয়নি?

আমার তো সরু চেহারা। ছোট্ট পাকস্থলী। তাই আমি যা পেয়েছি, যেটুকু পেয়েছি সেটা যথেষ্ট। তুলসী চক্রবর্তী অন্নাভাবে মারা গিয়েছেন। স্যার উপাধিও পাননি। বিদেশে হলে পেতেন। এটা আমার কথা নয়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ই বলেছেন। সেদিক দিয়ে দেখলে তো আমি ভাগ্যবান। অনেক ভাল আছি। একটা বড় গাড়িতে ঘুরি। যেদিন মনে করে ফেললাম, সব করে ফেলেছি, সেদিনই হরিধ্বনি দিয়ে কেওড়াতলা (হাসি)!

 বাণিজ্যিক ছবি আর অন্যধারার ছবির মধ্যে কি তফাত করেন?

একদমই করি না। অভিনয়টা অভিনয়ই। যখন হিরোদের পাশে হাফপ্যান্ট পরে দাঁড়াই, সেটা একশো শতাংশ বিশ্বাস করেই করি। প্যারালাল ছবি করার ক্ষেত্রেও তাই। যে চরিত্রটা করছি, তার প্রতি সৎ থাকছি কি না সেটা নিশ্চিত করে ফেলতে পারলে প্যারালাল-আনপ্যারালাল-কমার্শিয়াল সব সমান।

অনেকের সঙ্গেই কাজ করা হয়ে গেল। অনেক পরিচালকই কিন্তু বাকি। কারা পছন্দ আপনার?

আমার কৌশিকদা’র (গঙ্গোপাধ্যায়) কাজ খুব ভাল লাগে। ওঁর বিষয় নির্বাচনগুলো খুব ভাল লাগে। একটা ছবির সঙ্গে অন্য ছবির সাবজেক্টের কোনও মিল নেই। যেটা তপন সিংহের মধ্যে খুব দেখা যেত। বাড়াবাড়ি করছি কি না জানি না (হাসি)! শিবু তো আমার খুবই ভাল বন্ধু। প্রাথমিক জীবনের কিছু কাজ, বিশেষ করে ‘জনতা এক্সপ্রেস’ তো নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়া হতোই না। আর কমার্শিয়াল-নন কমার্শিয়াল বলে ভাগ করতে চাই না। তাই রাজীব (বিশ্বাস), রাজা চন্দের কাজ খুব ভাল লাগে। দেখুন, প্রত্যেক পরিচালকেরই তো নিজস্ব একটা চিন্তাধারা থাকে। এখন সবাই তো আর মেসি হবে না। তা বলে সুয়ারেজ খেলবে না? আগুয়েরো খেলবে না?

‘জনতা এক্সপ্রেস’এর মতো আরেকটা শো করতে ইচ্ছে করে না?

ও রকম একটা শো তো আর হল না। আমি এখন শারীরিকভাবে রাস্তাঘাটে অতটা লাফালাফি করতে পারব কি না জানি না। সেট’এ হলে এখনও পারব। অ্যাঙ্করিং আমাকে আলাদাভাবে কোথাও একটা চাগিয়ে তোলে।

 আপনি তো সেল্‌স’এর লোক?

এই অভিজ্ঞতাটা বিরাট কাজে লেগেছে আমার অভিনয়জীবনে। এখন বেশির ভাগ লোকজনই মোবাইল দেখে। কেউ আকাশ দেখে না। ছোটবেলায় একটা মেঘ দেখলে মনে মনে ঘুড়ি, প্রাসাদ কত কী বানিয়ে নিতাম। এখন পাশের লোকটাকে কেউ দেখে না। আগে কুঁদঘাট বিবাদী বাগ মিনিতে উঠতাম বা হেঁটে ফিরতাম। ডালহৌসি চত্বরে হাঁটতাম। ডোর টু ডোর সেল করেছি, শপ টু শপ সেল করেছি। এত লোক দেখেছি। এরাই তো আমায় চরিত্র দিয়েছে। আমি কালীঘাটের ছেলে। আড্ডা দিয়েছি প্রচুর। গালিও খেয়েছি। কিন্তু সেই আড্ডা দিতে গিয়েই তো হাজার হাজার চরিত্র দেখেছি। ম্যানারিজম দেখেছি। সেগুলোই আমার কাজে লাগে। আমি অভিনেতা হয়ে মানুষ দেখব না!

চলতি রসিকতা, এখন তো সবাই জন্মেই অভিনেতা…।

(থামিয়ে দিয়ে) আমি আসলে অভিনেতা হয়ে জন্মাইনি। আমার বাবা প্রোডিউসার নন, ডিরেক্টর নন। অভাব থেকেই একজন ভাল অভিনেতার জন্ম হয়। এখন যাঁরা অভিনয় করতে আসছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ভাবছেন ছোট মোবাইল কখন বড় হবে! আমরা এসেছি পেট চালানোর জন্য অভিনয় করতে। আসলে যতক্ষণ তোমার খিদে না পাবে, তুমি অনুভবই করতে পারবে না খাওয়াটা কী!

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গ্লিটজ2 weeks ago

সিনেমার প্রচারণায় ক্রিকেট ম্যাচ!

অপু বিশ্বাসের নাচের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)
ঢালিউড1 week ago

অপু বিশ্বাসের নাচের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

গ্লিটজ2 weeks ago

এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শাকিব খান-ডিএ তায়েব প্যানেল!

অন্যান্য2 weeks ago

সাংবাদিক নয়, ইউটিউবার ভেবে ক্ষিপ্ত হন শাকিব খান

টালিউডের বিচ্ছেদ হওয়া যত নায়িকারা! ৫ নম্বরটা জানলে অবাক হবেন!
ঘটনা রটনা2 weeks ago

টালিউডের বিচ্ছেদ হওয়া যত নায়িকারা! ৫ নম্বরটা জানলে অবাক হবেন!

ইয়োগা
স্বাস্থ্য2 weeks ago

ইয়োগা বিষয়ে যে ৮টি তথ্য কেউ দেবে না আপনাকে

সুস্থ থাকতে চাইলে তাড়াতাড়ি বিয়ে করুন
সম্পর্ক2 weeks ago

সুস্থ থাকতে চাইলে তাড়াতাড়ি বিয়ে করুন

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো
সম্পর্ক2 weeks ago

বিয়ের প্রথম রাতে নারী-পুরুষ উভয়েই মনে রাখবেন যে বিষয়গুলো

নিকুল কুমার মণ্ডল
গ্লিটজ1 week ago

তিন ছবি আমার জীবন বদলে দিয়েছে :নিকুল কুমার মণ্ডল

শাকিব খান
ঢালিউড2 weeks ago

গুঞ্জন নয়, এবার সত্যি নির্বাচন করছেন শাকিব খান

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম