Connect with us

জীবনধারা

ভালবাসার বার্ষিকীর দিনগুলি। মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন

Published

on

ভালবাসার বার্ষিকীর দিনগুলি

ভালবাসার বার্ষিকীর দিনগুলি। মুনীর আহমেদ সাহাবুদ্দিন

আজ ১৯ জুন আমাদের বিয়ের ২৬তম বার্ষিকী| ভালবাসার বার্ষিকীর দিনগুলি শরৎ, জ্যোৎস্নার মত আবর্তিতমান আর নদীর মত বহমান| আমার অখন্ড অবসর নেই ঠিকই, তবুও কোন কোন দিন সময়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে| তাই ভাবছি, সময়টাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে লিখি না কিছু আজ!

আমার স্ত্রী সম্পার সাথে আমার প্রথম কথা হয় ১৯৮৯ সালের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের কোনো এক সন্ধ্যাবেলা| টেলিফোনে। অনেক সাহস করে অচেনা কোনো মেয়ের সাথে আমার ওই প্রথম কথা| আইবিএ হোস্টেল থেকে মনিপুরিপাড়া মামার বাসায় গিয়ে টেলিফোন করি| শ্রাবণের অঝোর ধারার বর্ষাস্নাত একটি দিন।  আমার সাথে ছিল প্রিয় বন্ধু ও সহপাঠী মাহমুদ (মোস্তা গাউসুল হক)। হোস্টেলে ফেরার পথে আমার সাহসিকতার জন্য ও আমাকে আলাউদ্দিনের মিষ্টিমুখ করিয়েছিল।

আমি ছোটবেলা থেকে খুব আড়ষ্ট স্বভাবের (সোজা কথায় আনস্মার্ট)| অপরদিকে, অসম্ভব ডানপিটে, দুরন্ত, আর ইরিটেইটিং ছিলাম| ছোটবেলার ওই ‘আমাকে’ মনে হলে কষিয়ে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছে করে নিজেকে| আমার অনেক বন্ধু ছিল বটে তবে কতটুকু কাছে যেতে পেরেছি জানি না| আমার ফেসবুকে এরকম অনেক বন্ধু আছে যাদের সাথে ২৫-৩৫ বছরের ব্যবধানে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে পুনরায় যোগাযোগ হয়েছে। (করজোড়ে তোদের কাছে ক্ষমা চাই বন্ধুরা| আমার লিখা পড়ে বুঝে নিস তোদের অনেক ভালবাসি।)

প্রথম পরিচয়ের পর থেকে টেলিফোনে কথা হত সম্পার সাথে| ও থাকতো মিরপুরে। আইবিএ হোস্টেল থেকে বাঘমার্কা সিকি দিয়ে কয়েন বক্স থেকে কল করতাম।  ধৈর্যের পরীক্ষা তো ছিল| মিরপুর কোড ‘৩৮’ লাইন পেতে ‘জান’ বের হয়ে যেত।

এরপরে ওর সাথে প্রথম দেখা হয় ‘৮৯-এর অক্টোবরে| গাউছিয়াতে। ওই মাসে দুই বার এসেছিল ও। সাথে বডিগার্ডের মত ওর বাবাকে এনেছিল। আমি যেহেতু আগে থেকে জানতাম, তাই কিছুটা ইন্টারভিউর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ওর বাবা বেশ সুদর্শন। পরিপাটি পোশাকে সৌম্যদর্শন একজন মানুষ। বন্ধুসুলভ তাঁর আচরণ। আমাকে প্রতিবার এক ঘণ্টা করে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তাঁর মেয়েকে নিয়ে ঘোরার জন্য| মনে হয় আমি ইন্টারভিউতে পাশ করেছিলাম। তাই আমাকে উনি পরবর্তী সময় বাসায় যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন। এই মহতী মানুষটি ২০১০ সালে ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

আমাদের বিয়ে হয় ১৯৯২ সালে আজকের এই দিনে। মধ্যপ্রাচ্যে একটা চাকরি প্রাপ্তিতে আমার দুবাই প্রবাসী চাচা (মাহাতাবউদ্দিন আহমেদ) জরুরি ভিত্তিক দুবাই চলে আসতে বললেন| লোভনীয় চাকরি| সম্পার বাবাকে জানালাম একদিন। তিনি আমাকে উপদেশ দিলেন “বাবা, তোমার মাকে নিয়ে আস অথবা আমরা যাই| একটা কিছু পারিবারিকভাবে পাকা করে গেলে ভাল”।

বেশ কিছু কারণে আমার মা অনেক কষ্ট পেতে পারেন এই ভেবে আর সম্পার সাথে কথা বলে, আমরা নিজেরাই বিয়ে করবো বলে ঠিক করি। আমি পরে মাকে নিয়ে আমার পরিবারের সবাইকে জানাবো ভাবলাম। প্রথমে ৫ জুন আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হলো। পরে পিছিয়ে ১৯ তারিখ, শুক্রবার চূড়ান্ত করলাম।

কাজীর অফিসে আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছিল| পুর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন আমার আয়োজক বন্ধুরা: মিজানুর রহমান, আরিফ মেসবাহউদ্দিন ও তার স্ত্রী ইমা ভাবী, বাবু (আরিফের বন্ধু সুবাদে আমারও বন্ধু), মোসলেহউজ্জামান তুষার, নজির আজিজ চৌধুরী মিতুল, সম্পার বড় বোন সাহানা আপা আর ‘নববর-বধু’! তুষারের গাড়িতে ছিলো আমাদের ‘বরযাত্রা’, গন্তব্য কাজী অফিস। বাবু বাদে এরা সবাই আমার ফেসবুকে যুক্ত আছেন। সবাইকে আমাদের অনন্তর কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা।

স্বল্প অথিতিদের উপস্থিতিতে দুপুরে জমপেশ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিল আমার ব্যবসায়ী বন্ধু মিজানুর রহমান তার কচুক্ষেতের বাসায়|

পাসপোর্ট জটিলতার কারণে ওই যাত্রা আমার আর দুবাই যাওয়া হয়নি। কিছুটা কালক্রমে, ‘৯৪এর জুন মাসে, আমার দুবাই প্রবাসী চাচা মাহতাবউদ্দিন আহমেদ কাকামনি মাসরেক ব্যাংকে একটা ইন্টারভিউর ব্যবস্থা করেন। প্রার্থী ভালই ছিলাম, তাই পেয়ে গেলাম অফার  । ক্রেডিট অফিসার হিসেবে জুনের ১৩ তারিখ দুবাইতে ওই ব্যাংকে চাকরি দিয়ে আমার প্রবাস জীবন শুরু করি। ওটাই আমার ব্যাংকে প্রথম চাকরি| নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে, সম্পাকে সাত মাস পরে ‘৯৫-এর ফেব্রুয়ারিতে দুবাই নিয়ে আসি। মা’কে জানানো হয়নি তখনও। আমার ছোট বোন কেকা একদিন মাকে জানিয়েছিল। অকপটে মেনে নিয়েছিলেন তিনি| …মা আমার মা- ভালবাসি তোমাকে (Jahanara Afroz)|

১৯৯২ থেকে আজ অবধি আমাদের দুইজনের একান্ত এই দিনে শুধু ১৯৯৪-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী বাদে বাকি সবগুলোতে আমরা একসাথেই কাটিয়েছি। আমি সবার দোয়াপ্রার্থী।

কিছু উপলব্ধি, কিছু ঘটনা, কিছু স্মৃতি, আরও কত কিছু তো বলতে ইচ্ছে করে, সব বলা হয় না। আবেগী মন। পিছন ফিরে তাকাই| বহমান নদী স্রোত বুকে নিয়ে জানি ভালই থাকে| জীবনের সোনালী বেলাও এসে যায়। সাগরের পারে গিয়ে এখনো তার নাম লিখি। ছবি তুলে ওকে পাঠাই, সাথে এক টুকরো কবিতা “সাগরের পারে আর একবার গেলে চলো, বালিতে লিখা তোমার নাম আজও মুছেনি, সেখানে বাতাসে এখনো নোনা গন্ধ, নীল আকাশে আমার হাতছানি…।

নির্মল ভালবাসার এইসব স্মৃতি নিষ্কণ্টক, নিষ্কলঙ্ক| থাকবে আমৃত্যু অমলিন।

 

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook

(ভিডিও)
অন্যান্য4 days ago

আলোচনায় ‘রস’ (ভিডিও)

মাসুমা রহমান নাবিলা (Masuma Rahman Nabila)। ছবি : সংগৃহীত
ঘটনা রটনা4 months ago

‘আয়নাবাজি’র নায়িকা মাসুমা রহমান নাবিলার বিয়ে ২৬ এপ্রিল

‘মিথ্যে’-র একটি দৃশ্যে সৌমন বোস ও পায়েল দেব (Souman Bose and Payel Deb in Mithye)
অন্যান্য4 months ago

বৃষ্টির রাতে বয়ফ্রেন্ড মানেই রোম্যান্টিক?

Bonny Sengupta and Ritwika Sen (ঋত্বিকা ও বনি। ছবি: ইউটিউব থেকে)
টলিউড4 months ago

বনি-ঋত্বিকার নতুন ছবির গান একদিনেই দু’লক্ষ

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)
অন্যান্য4 months ago

লাভ গেম-এর পর ঝড় তুলেছে ডলির মাইন্ড গেম (ভিডিও)

ভিডিও5 months ago

সেলফির কুফল নিয়ে একটি দেখার মতো ভারতীয় শর্টফিল্ম (ভিডিও)

ঘটনা রটনা6 months ago

ইউটিউবে ঝড় তুলেছে যে ডেন্স (ভিডিও)

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌'কথার কথা' (প্রমো)
সঙ্গীত7 months ago

ওমর সানি এবং তিথির কণ্ঠে মাহফুজ ইমরানের ‌’কথার কথা’ (প্রমো)

সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া
সঙ্গীত7 months ago

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান গাইলেন সালমা কিবরিয়া ও শাদমান কিবরিয়া

মাহিমা চৌধুরী (Mahima Chaudhry)। ছবি : ইন্টারনেট
ফিচার8 months ago

এই বলিউড নায়িকা কেন হারিয়ে গেলেন?

সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : তাহমিনা সানি
প্রকাশক : রামশংকর দেবনাথ
বিভাস প্রকাশনা কর্তৃক ৬৮-৬৯ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ থেকে প্রকাশিত।
ফোন : +88 01687 064507
ই-মেইল : rupalialo24x7@gmail.com
© ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | রূপালীআলো.কম